ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জি৭ সম্মেলনে লেবাননে যুদ্ধবিরতির আহ্বান নেতাদের শিল্পকলায় সার্কাস ও যাত্রাপালা কর্মশালার সমাপ্তি: সুস্থ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর ৩৬ পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীর বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার : মীর হেলাল চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি জুনের ১৬ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠালেন ১৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিচ্ছু ছিল বেসবল ব্যাটের মতো, নতুন গবেষণায় রহস্য উন্মোচন

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

পৃথিবীতে একসময় এমন এক বিশাল বিচ্ছু ছিল যার দৈর্ঘ্য প্রায় বেসবল ব্যাটের মতো অর্থাৎ এক মিটারেরও বেশি। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই প্রাচীন প্রাণীর সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, আজকের গ্রেট ব্রিটেন অঞ্চলে এই বিচ্ছুটি ঘুরে বেড়াত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রাণীটির নাম Praearcturus gigas (পি. গিগাস)। দীর্ঘদিন ধরে এর জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ভুলভাবে অন্য ধরনের প্রাণী বিশেষ করে লবস্টারের মতো ক্রাস্টেসিয়ান ভেবে এসেছিলেন। কিন্তু লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত জীবাশ্ম এবং নতুন কিছু নমুনা আবার পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা তাদের ধারণা বদলান।

গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রাণীটি আসলে এক ধরনের বিশালাকৃতির প্রাচীন বিচ্ছু। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১ মিটার বা ৩ ফুটেরও বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি এতটাই বড় ও শক্তিশালী ছিল যে সামনে পড়লে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক।
এই বিচ্ছুর শরীরে বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল যেমন—পেটের নিচের অংশে ত্রিভুজাকৃতির একটি গঠন (স্টার্নাম), যা আধুনিক বিচ্ছুর মতোই। একই ধরনের বৈশিষ্ট্য ২০১৫ সালে কানাডায় আবিষ্কৃত আরেকটি প্রাচীন বিচ্ছুতেও দেখা যায়। এ থেকেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই দুই প্রাণী ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিচ্ছুর বড় আকৃতির পাঞ্জা বা চেলা ছিল প্রায় ৬ ইঞ্চি (১৬ সেন্টিমিটার) লম্বা যা বর্তমানের বড় বিচ্ছুর তুলনায় প্রায় চার গুণ বড়।

এই প্রাণীটি ডেভোনিয়ান যুগের শুরুতে বাস করত—যে সময় পৃথিবীতে বেশিরভাগ প্রাণই পানিতে ছিল। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি পুরোপুরি স্থলজ ছিল না। বরং জল ও স্থল দুই জায়গাতেই চলাফেরা করত। এর শরীরের কিছু অংশ, যেমন পেটের পাশে থাকা ফ্ল্যাপের মতো গঠন, সম্ভবত পানিতে সাঁতার কাটতে সাহায্য করত।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এত বড় হওয়ার একটি কারণ ছিল শত্রুর হাত থেকে বাঁচা। তবে এটি কী খেত, তা নিয়ে কিছুটা রহস্য রয়ে গেছে। স্থলে ছোট প্রাণী খেয়ে এত বড় দেহ টিকিয়ে রাখা কঠিন ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এটি পানিতে থাকা প্রাচীন মাছ বা নরমদেহী প্রাণী শিকার করত।

তবে সব বিজ্ঞানী এখনো একমত নন। কেউ কেউ বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া জীবাশ্ম অসম্পূর্ণ—বিচ্ছুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন লেজের হুল বা পেকটিনস দেখা যায়নি। তবুও গবেষকরা মনে করেন, জীবাশ্ম অসম্পূর্ণ হলেও এটি বিচ্ছুই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এই গবেষণা প্রমাণ করেছে, পুরোনো জীবাশ্ম আবার নতুনভাবে বিশ্লেষণ করলে অনেক অজানা তথ্য জানা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বড় ও অজানা বিচ্ছুর প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

এই বিশাল বিচ্ছুর আবিষ্কার শুধু একটি অদ্ভুত প্রাণীর গল্প নয়—এটি পৃথিবীর প্রাচীন জীববৈচিত্র্য ও বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও গভীর করে তুলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জি৭ সম্মেলনে লেবাননে যুদ্ধবিরতির আহ্বান নেতাদের

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিচ্ছু ছিল বেসবল ব্যাটের মতো, নতুন গবেষণায় রহস্য উন্মোচন

আপডেট সময় ১০:২০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

পৃথিবীতে একসময় এমন এক বিশাল বিচ্ছু ছিল যার দৈর্ঘ্য প্রায় বেসবল ব্যাটের মতো অর্থাৎ এক মিটারেরও বেশি। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই প্রাচীন প্রাণীর সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, আজকের গ্রেট ব্রিটেন অঞ্চলে এই বিচ্ছুটি ঘুরে বেড়াত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রাণীটির নাম Praearcturus gigas (পি. গিগাস)। দীর্ঘদিন ধরে এর জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ভুলভাবে অন্য ধরনের প্রাণী বিশেষ করে লবস্টারের মতো ক্রাস্টেসিয়ান ভেবে এসেছিলেন। কিন্তু লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত জীবাশ্ম এবং নতুন কিছু নমুনা আবার পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা তাদের ধারণা বদলান।

গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রাণীটি আসলে এক ধরনের বিশালাকৃতির প্রাচীন বিচ্ছু। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১ মিটার বা ৩ ফুটেরও বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি এতটাই বড় ও শক্তিশালী ছিল যে সামনে পড়লে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক।
এই বিচ্ছুর শরীরে বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল যেমন—পেটের নিচের অংশে ত্রিভুজাকৃতির একটি গঠন (স্টার্নাম), যা আধুনিক বিচ্ছুর মতোই। একই ধরনের বৈশিষ্ট্য ২০১৫ সালে কানাডায় আবিষ্কৃত আরেকটি প্রাচীন বিচ্ছুতেও দেখা যায়। এ থেকেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই দুই প্রাণী ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিচ্ছুর বড় আকৃতির পাঞ্জা বা চেলা ছিল প্রায় ৬ ইঞ্চি (১৬ সেন্টিমিটার) লম্বা যা বর্তমানের বড় বিচ্ছুর তুলনায় প্রায় চার গুণ বড়।

এই প্রাণীটি ডেভোনিয়ান যুগের শুরুতে বাস করত—যে সময় পৃথিবীতে বেশিরভাগ প্রাণই পানিতে ছিল। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি পুরোপুরি স্থলজ ছিল না। বরং জল ও স্থল দুই জায়গাতেই চলাফেরা করত। এর শরীরের কিছু অংশ, যেমন পেটের পাশে থাকা ফ্ল্যাপের মতো গঠন, সম্ভবত পানিতে সাঁতার কাটতে সাহায্য করত।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এত বড় হওয়ার একটি কারণ ছিল শত্রুর হাত থেকে বাঁচা। তবে এটি কী খেত, তা নিয়ে কিছুটা রহস্য রয়ে গেছে। স্থলে ছোট প্রাণী খেয়ে এত বড় দেহ টিকিয়ে রাখা কঠিন ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এটি পানিতে থাকা প্রাচীন মাছ বা নরমদেহী প্রাণী শিকার করত।

তবে সব বিজ্ঞানী এখনো একমত নন। কেউ কেউ বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া জীবাশ্ম অসম্পূর্ণ—বিচ্ছুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন লেজের হুল বা পেকটিনস দেখা যায়নি। তবুও গবেষকরা মনে করেন, জীবাশ্ম অসম্পূর্ণ হলেও এটি বিচ্ছুই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এই গবেষণা প্রমাণ করেছে, পুরোনো জীবাশ্ম আবার নতুনভাবে বিশ্লেষণ করলে অনেক অজানা তথ্য জানা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বড় ও অজানা বিচ্ছুর প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

এই বিশাল বিচ্ছুর আবিষ্কার শুধু একটি অদ্ভুত প্রাণীর গল্প নয়—এটি পৃথিবীর প্রাচীন জীববৈচিত্র্য ও বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও গভীর করে তুলছে।