ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু, কোম্পানিকে জরিমানা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

একটি নির্মাণ কোম্পানিকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং এ কারণে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় মালয়েশিয়ার সেশন্স আদালত মঙ্গলবার ২৫ হাজার রিঙ্গিত জরিমানার রায় দিয়েছেন।

বিচারক নোরিনা জায়নাল আবিদিন এ রায় ঘোষণা করেন।

অভিযুক্ত কোম্পানি ডব্লিউসিটি বেরহাদের প্রতিনিধি ৬১ বছর বয়সি বেহ চাই মেং আদালতে দোষ স্বীকার করেন।

২০২৩ সালের ১০ আগস্ট বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরের দামানসারা সেন্টারে একটি নির্মাণ সাইটে কাজ করার সময় বাংলাদেশি শ্রমিক মো. আনিসুর রহমান এক দুর্ঘটনায় পতিত হন। নির্মাণ সাইটের ৫৮তম তলায় কাজ করার সময় তিনি একটি ২০০ সেমি x ৫০ সেমি আকারের ফাঁকা জায়গায় পা দেন, যা সঠিকভাবে ঢেকে রাখা হয়নি এবং সেখানে কোনো সুরক্ষা প্রতিবন্ধকও ছিল না। এতে তিনি নিচের ৫৭তম তলার কংক্রিটের বিমে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কুয়ালালামপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য আইন ১৯৯৪-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫০,০০০ রিঙ্গিত জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড, অথবা উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ডব্লিউসিটি বেরহাদ কোম্পানি ‘সেফটি অ্যান্ড হেলথ প্ল্যান গার্ডরেইল ও ব্যারিকেড’ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল, যা এ দুর্ঘটনার কারণ।

সরকারি প্রসিকিউটর নুর আসনিদা আবদুল রাজাক আদালতকে অনুরোধ করেন, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক যেন এটি ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করে।

তিনি বলেন, এই নির্মাণ সাইটে এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমি আদালতের কাছে আবেদন জানাই, যেন কর্মক্ষেত্রে আইন ও নিরাপত্তার প্রতি উদাসীনতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠানো হয়। এ ধরনের অবহেলার ফলে দ্বিতীয়বার একজনের প্রাণ হারানো হয়েছে।

কোম্পানির প্রতিনিধি বেহ চাই মেং আদালতে বলেন, তার কোম্পানি এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া কর্মীদের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এই রায় কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু, কোম্পানিকে জরিমানা

আপডেট সময় ১১:২৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

একটি নির্মাণ কোম্পানিকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং এ কারণে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় মালয়েশিয়ার সেশন্স আদালত মঙ্গলবার ২৫ হাজার রিঙ্গিত জরিমানার রায় দিয়েছেন।

বিচারক নোরিনা জায়নাল আবিদিন এ রায় ঘোষণা করেন।

অভিযুক্ত কোম্পানি ডব্লিউসিটি বেরহাদের প্রতিনিধি ৬১ বছর বয়সি বেহ চাই মেং আদালতে দোষ স্বীকার করেন।

২০২৩ সালের ১০ আগস্ট বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরের দামানসারা সেন্টারে একটি নির্মাণ সাইটে কাজ করার সময় বাংলাদেশি শ্রমিক মো. আনিসুর রহমান এক দুর্ঘটনায় পতিত হন। নির্মাণ সাইটের ৫৮তম তলায় কাজ করার সময় তিনি একটি ২০০ সেমি x ৫০ সেমি আকারের ফাঁকা জায়গায় পা দেন, যা সঠিকভাবে ঢেকে রাখা হয়নি এবং সেখানে কোনো সুরক্ষা প্রতিবন্ধকও ছিল না। এতে তিনি নিচের ৫৭তম তলার কংক্রিটের বিমে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কুয়ালালামপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য আইন ১৯৯৪-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫০,০০০ রিঙ্গিত জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড, অথবা উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ডব্লিউসিটি বেরহাদ কোম্পানি ‘সেফটি অ্যান্ড হেলথ প্ল্যান গার্ডরেইল ও ব্যারিকেড’ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল, যা এ দুর্ঘটনার কারণ।

সরকারি প্রসিকিউটর নুর আসনিদা আবদুল রাজাক আদালতকে অনুরোধ করেন, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক যেন এটি ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করে।

তিনি বলেন, এই নির্মাণ সাইটে এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমি আদালতের কাছে আবেদন জানাই, যেন কর্মক্ষেত্রে আইন ও নিরাপত্তার প্রতি উদাসীনতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠানো হয়। এ ধরনের অবহেলার ফলে দ্বিতীয়বার একজনের প্রাণ হারানো হয়েছে।

কোম্পানির প্রতিনিধি বেহ চাই মেং আদালতে বলেন, তার কোম্পানি এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া কর্মীদের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এই রায় কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেয়।