ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

৭০ বছর পর পৃথিবীর কাছে আসছে বৃহস্পতি গ্রহ

আকাশ আইসিটি ডেস্ক :

সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহরাজ বৃহস্পতি বা জুপিটার। সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পঞ্চম এবং আকার আয়তনের দিক দিয়ে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। বৃহস্পতির ব্যাস ১, ৪২, ৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ১, ৩০০ গুন বড়। এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে। বৃহস্পতি ব্যতীত সৌর জগতের বাকি সবগুলো গ্রহের ভরকে একত্র করলে বৃহস্পতির ভর তা থেকে আড়াই গুণ বেশি হবে। বৃহস্পতি গ্রহের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন এবং সামান্য পরিমাণ হিলিয়াম।

বৃহস্পতি গ্রহের আকারই সৌরজগতের বাকি গ্রহগুলো থেকে আলাদা করেছে। বৃহৎ আকারের জন্য মহাকাশবিজ্ঞানীদের কৌতূহলও কম সৃষ্টি হয়নি এই গ্রহকে নিয়ে। এর গতিপথ ,উপগ্রহ থেকে শুরু করে এর পৃষ্ঠতলে কি কি আছে ? কিভাবেই বা আছে এনিয়েও গবেষণা চলেছে বিস্তর। ‍পৃথিবী থেকে এবার বৃহস্পতি গ্রহকে খুবই কাছাকাছি দেখা যাবে।

৭০ বছর পর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসতে চলেছে বৃহস্পতি। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর (সোমবার) এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন বিশ্ববাসী। এই দিন আরও বেশি উজ্জ্বল ও দৈত্যাকার দেখাবে বৃহস্পতিকে। এদিন পৃথিবীর বিপরীত স্থানে অবস্থান করবেন বৃহস্পতি ও সূর্য। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন গত ৭০ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল।

পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব প্রায় ৫৯২.৬৯ মিলিয়ন কিলোমিটার। কিন্তু আগামী ২৬সে সেপ্টেম্বর পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব থাকবে সবচেয়ে কম, মাত্র ৩৬৫ মিলিয়ন কিলোমিটার । বৃহস্পতির এইরকম পৃথিবীর নিকটবর্তী হওয়ার ঘটনাটি মহাজাগতিক বলে জানিয়েছেন নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষণারত জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাডাম কোবেলস্কি। তিনি বলেছেন, “ভাল অর্থাৎ অত্যাধুনিক ব্যান্ডযুক্ত বাইনোকুলার ব্যবহার করলে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকেই সেদিন দেখতে পাওয়া যাবে গালিলিয়ান ৩-৪ টি উপগ্রহ। ” এছাড়াও ৪ ইঞ্চি বড়ো এবং সবুজ নীল ফিল্টারযুক্ত টেলিস্কোপ ব্যবহার করলেও বৃহস্পতির গ্রেট রেড স্পট এবং ব্যান্ডগুলিকে আরও বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে সেদিন।

প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও বৃহস্পতির এই উপগ্রহগুলিকে পরীক্ষা করার জন্য একসময় আলোকবিজ্ঞানের সাহায্য নিয়েছিল। কিন্তু কোবেলস্কির মতে আমরা যদি সেদিন বৃহস্পতির উপগ্রহগুলি দেখতে চাই তাহলে সুরক্ষিত মাউন্ট যুক্ত টেলিস্কোপই ব্যবহার করতে হবে।

বৃহস্পতির ৭৯ টি চাঁদ আবিষ্কার করা গিয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ টি নামকরণও করা হয়েছে। উক্ত চাঁদগুলির সবচেয়ে বড় যে চারটি চাঁদ রয়েছে – আইও, ইউরোপা, গ্যানিমিড এবং ক্যালিস্টো এগুলিকে গ্যালিলিয়ান উপগ্রহ বলা হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করার সেরা স্থান হল অন্ধকার এবং উঁচু শুষ্ক এলাকা। নাসার জুনো মহাকাশযান, যেটি ৬ বছর ধরে বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করছে সেটি এইসময় গ্রহের পৃষ্ঠ এবং চাঁদ অন্বেষণের জন্য নিবেদিত থাকবে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, বৃহস্পতি অধ্যয়ন সৌরজগতের গঠন সম্পর্কে যুগান্তকারী আবিষ্কারের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

৭০ বছর পর পৃথিবীর কাছে আসছে বৃহস্পতি গ্রহ

আপডেট সময় ০১:০৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ আইসিটি ডেস্ক :

সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহরাজ বৃহস্পতি বা জুপিটার। সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পঞ্চম এবং আকার আয়তনের দিক দিয়ে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। বৃহস্পতির ব্যাস ১, ৪২, ৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ১, ৩০০ গুন বড়। এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে। বৃহস্পতি ব্যতীত সৌর জগতের বাকি সবগুলো গ্রহের ভরকে একত্র করলে বৃহস্পতির ভর তা থেকে আড়াই গুণ বেশি হবে। বৃহস্পতি গ্রহের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন এবং সামান্য পরিমাণ হিলিয়াম।

বৃহস্পতি গ্রহের আকারই সৌরজগতের বাকি গ্রহগুলো থেকে আলাদা করেছে। বৃহৎ আকারের জন্য মহাকাশবিজ্ঞানীদের কৌতূহলও কম সৃষ্টি হয়নি এই গ্রহকে নিয়ে। এর গতিপথ ,উপগ্রহ থেকে শুরু করে এর পৃষ্ঠতলে কি কি আছে ? কিভাবেই বা আছে এনিয়েও গবেষণা চলেছে বিস্তর। ‍পৃথিবী থেকে এবার বৃহস্পতি গ্রহকে খুবই কাছাকাছি দেখা যাবে।

৭০ বছর পর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসতে চলেছে বৃহস্পতি। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর (সোমবার) এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন বিশ্ববাসী। এই দিন আরও বেশি উজ্জ্বল ও দৈত্যাকার দেখাবে বৃহস্পতিকে। এদিন পৃথিবীর বিপরীত স্থানে অবস্থান করবেন বৃহস্পতি ও সূর্য। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন গত ৭০ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল।

পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব প্রায় ৫৯২.৬৯ মিলিয়ন কিলোমিটার। কিন্তু আগামী ২৬সে সেপ্টেম্বর পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব থাকবে সবচেয়ে কম, মাত্র ৩৬৫ মিলিয়ন কিলোমিটার । বৃহস্পতির এইরকম পৃথিবীর নিকটবর্তী হওয়ার ঘটনাটি মহাজাগতিক বলে জানিয়েছেন নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষণারত জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাডাম কোবেলস্কি। তিনি বলেছেন, “ভাল অর্থাৎ অত্যাধুনিক ব্যান্ডযুক্ত বাইনোকুলার ব্যবহার করলে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকেই সেদিন দেখতে পাওয়া যাবে গালিলিয়ান ৩-৪ টি উপগ্রহ। ” এছাড়াও ৪ ইঞ্চি বড়ো এবং সবুজ নীল ফিল্টারযুক্ত টেলিস্কোপ ব্যবহার করলেও বৃহস্পতির গ্রেট রেড স্পট এবং ব্যান্ডগুলিকে আরও বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে সেদিন।

প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও বৃহস্পতির এই উপগ্রহগুলিকে পরীক্ষা করার জন্য একসময় আলোকবিজ্ঞানের সাহায্য নিয়েছিল। কিন্তু কোবেলস্কির মতে আমরা যদি সেদিন বৃহস্পতির উপগ্রহগুলি দেখতে চাই তাহলে সুরক্ষিত মাউন্ট যুক্ত টেলিস্কোপই ব্যবহার করতে হবে।

বৃহস্পতির ৭৯ টি চাঁদ আবিষ্কার করা গিয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ টি নামকরণও করা হয়েছে। উক্ত চাঁদগুলির সবচেয়ে বড় যে চারটি চাঁদ রয়েছে – আইও, ইউরোপা, গ্যানিমিড এবং ক্যালিস্টো এগুলিকে গ্যালিলিয়ান উপগ্রহ বলা হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করার সেরা স্থান হল অন্ধকার এবং উঁচু শুষ্ক এলাকা। নাসার জুনো মহাকাশযান, যেটি ৬ বছর ধরে বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করছে সেটি এইসময় গ্রহের পৃষ্ঠ এবং চাঁদ অন্বেষণের জন্য নিবেদিত থাকবে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, বৃহস্পতি অধ্যয়ন সৌরজগতের গঠন সম্পর্কে যুগান্তকারী আবিষ্কারের দিকে নিয়ে যেতে পারে।