ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার চলতি অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা, পণ্য বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও গবেষণায় সরকারের প্রাধান্য: মাহ্দী আমিন অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জুলাইয়ের ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২২৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার ১৬ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী পশ্চিম তীরে আরও ব্যাপক হামলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা : চিফ প্রসিকিউটর হরমুজে তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

সৌদিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সৌদি আরবে হারুন অর রশিদ (৪১) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মরে গেছেন না বেঁচে আছেন তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।

গত ১৯ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া তার মৃত্যু নিয়ে একেকরকম তথ্য পাওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা।

হারুন অর রশিদ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী ব্যাপারীর ছেলে। সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের আফকিক এলাকায় আল ইশা কোম্পানির বুলডোজারের চালক তিনি।

জীবিত বা মৃত যে অবস্থায়ই হোক হারুন অর রশিদের সন্ধান পেতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে পরিবার।

মঙ্গলবার সরেজমিন হারুন অর রশিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা কান্নাকাটি করছেন। এ সময় তার ছেলে পারভেজ ব্যাপারী জানান, তার বাবা দীর্ঘ ১৫ বছর সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের আফকিক এলাকায় চাকরি করছেন। সেখানে আল ইশা কোম্পানির বুলডোজারচালক তিনি।

তিনি জানান, গত ২৬ আগস্ট তার বাবার সহকর্মী ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আল আমিন মোবাইলে তাকে জানান, আগের দিন আফকিক এলাকায় বুলডোজার চালানোর সময় একটি বিস্ফোরণে তার বাবা দগ্ধ হয়েছেন। পরে একই কোম্পানিতে কর্মরত বড়াইগ্রামের মেরিগাছা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকও জানান তার বাবা মারা গেছেন এবং লাশ সেখানেই দাফন করা হয়েছে। তিনি ওয়ারিশ সনদ পাঠাতে বলেন। ওয়ারিশ সনদ পাঠানোর পর থেকেই তাকে মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছে না।

এরপর ওই কোম্পানির সুপারভাইজার ভারতীয় নাগরিক সৈয়দ সাব্বির হায়দার রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি লাশ মরচুয়ারিতে (শবঘর) সংরক্ষিত আছে। এখনো কবর দেওয়া হয়নি। সৌদিতে পরিচিত কেউ থাকলে তিনি গিয়ে লাশটি হারুন অর রশিদের কিনা শনাক্ত করতে পারেন।

হারুন অর রশিদের বড়ভাই আমিনুল ইসলাম ব্যাপারী জানান, সে আগুনে পুড়ে মরলে মোবাইলটাও তো পুড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার মোবাইলে কল দিলে কখনো ঢুকছে, কখনো বন্ধ পাচ্ছি। একবার কল রিসিভ হলেও ভাষাগত কারণে কী বলে কিছু বুঝতে পারছি না। প্রকৃতই সে মারা গেছে, না বেঁচে আছে, নাকি কেউ তাকে জিম্মি করে রেখেছে কিছুই বুঝতে পারছি না।

প্রবাসী হারুন অর রশিদের স্ত্রী পারভীন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার বাবার সন্ধান পেতে আবেদন করেছে। জীবিত বা মৃত যে অবস্থায় হোক আমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার আকুতি জানাই।

বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন বলেন, তার জীবিত থাকা না থাকা কোনোটাই নিশ্চিত হতে না পেরে স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। জীবিত বা মৃত যে অবস্থায় হোক তার সন্ধান পেলে স্বজনরা সান্ত্বনা পেতেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮

সৌদিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল

আপডেট সময় ১১:৫৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সৌদি আরবে হারুন অর রশিদ (৪১) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মরে গেছেন না বেঁচে আছেন তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।

গত ১৯ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া তার মৃত্যু নিয়ে একেকরকম তথ্য পাওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা।

হারুন অর রশিদ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী ব্যাপারীর ছেলে। সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের আফকিক এলাকায় আল ইশা কোম্পানির বুলডোজারের চালক তিনি।

জীবিত বা মৃত যে অবস্থায়ই হোক হারুন অর রশিদের সন্ধান পেতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে পরিবার।

মঙ্গলবার সরেজমিন হারুন অর রশিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা কান্নাকাটি করছেন। এ সময় তার ছেলে পারভেজ ব্যাপারী জানান, তার বাবা দীর্ঘ ১৫ বছর সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের আফকিক এলাকায় চাকরি করছেন। সেখানে আল ইশা কোম্পানির বুলডোজারচালক তিনি।

তিনি জানান, গত ২৬ আগস্ট তার বাবার সহকর্মী ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আল আমিন মোবাইলে তাকে জানান, আগের দিন আফকিক এলাকায় বুলডোজার চালানোর সময় একটি বিস্ফোরণে তার বাবা দগ্ধ হয়েছেন। পরে একই কোম্পানিতে কর্মরত বড়াইগ্রামের মেরিগাছা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকও জানান তার বাবা মারা গেছেন এবং লাশ সেখানেই দাফন করা হয়েছে। তিনি ওয়ারিশ সনদ পাঠাতে বলেন। ওয়ারিশ সনদ পাঠানোর পর থেকেই তাকে মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছে না।

এরপর ওই কোম্পানির সুপারভাইজার ভারতীয় নাগরিক সৈয়দ সাব্বির হায়দার রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি লাশ মরচুয়ারিতে (শবঘর) সংরক্ষিত আছে। এখনো কবর দেওয়া হয়নি। সৌদিতে পরিচিত কেউ থাকলে তিনি গিয়ে লাশটি হারুন অর রশিদের কিনা শনাক্ত করতে পারেন।

হারুন অর রশিদের বড়ভাই আমিনুল ইসলাম ব্যাপারী জানান, সে আগুনে পুড়ে মরলে মোবাইলটাও তো পুড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার মোবাইলে কল দিলে কখনো ঢুকছে, কখনো বন্ধ পাচ্ছি। একবার কল রিসিভ হলেও ভাষাগত কারণে কী বলে কিছু বুঝতে পারছি না। প্রকৃতই সে মারা গেছে, না বেঁচে আছে, নাকি কেউ তাকে জিম্মি করে রেখেছে কিছুই বুঝতে পারছি না।

প্রবাসী হারুন অর রশিদের স্ত্রী পারভীন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার বাবার সন্ধান পেতে আবেদন করেছে। জীবিত বা মৃত যে অবস্থায় হোক আমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার আকুতি জানাই।

বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন বলেন, তার জীবিত থাকা না থাকা কোনোটাই নিশ্চিত হতে না পেরে স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। জীবিত বা মৃত যে অবস্থায় হোক তার সন্ধান পেলে স্বজনরা সান্ত্বনা পেতেন।