ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিক পেটানো ৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত খাগড়াছড়িতে পৃথক গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের দুই সদস্য নিহত নিষিদ্ধ সংগঠনকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না, প্রতিহত করা হবে: নবীউল্লাহ নবী একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা, এমপিদের ভূমিকা গলাবাজি: জামায়াত এমপি ‘সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে’:স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের গুণী মানুষদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান মঈন খানের মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের জন্য ইসরাইল দায়ী: গালিবাফ চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারালেন আইনজীবী

নারীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগে পুলিশের ২ কর্মকর্তার নামে মামলা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লায় কুপ্রস্তাবের অভিযোগে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমির উদ্দিন (৫০) ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোশাররফ হোসেনের (৪০) নামে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

পরে আদালতের বিচারক মোয়াজ্জেম হোসেন সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলায় ভুক্তভোগী ওই নারী উল্লেখ করেছেন, মেঘনা থানার শিকিরগাও এক নারী (২৬) তাদের পারিবারিক ও আত্মীয়-স্বজনের জায়গা জমির বিরোধের বিষয়ে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কয়েকবার থানায় আসা-যাওয়া করেন। তাই ওসি ছমির ও এসআই মোশাররফ তাকে প্রায়ই ফোন করতেন। একপর্যায়ে ওসি ছমির তাকে মেঘনা রিসোর্টে সময় কাটাতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এসআই প্রায়ই ফোন করে তাকে অশোভন প্রস্তাব দিতেন। তারা ওই নারীর নম্বরে এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন দিতেন। তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় দুইজনেই ওই নারীর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

২৬ আগস্ট এক ঘটনাক্রমে ওই নারীর বোন জামাইকে গ্রেফতার করতে যায় ওসি ছমির ও এসআই মোশাররফ। সেদিন মামলার ওয়ারেন্ট চাওয়াতে এসআই মোশাররফ ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে আসেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসআই মোশাররফ পুলিশের সহায়তায় টেনেহিঁচড়ে ওই নারীকে ওসির রুমে নিয়ে যায়। এরপর রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় ওসি তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং চিৎকার করলে তাকে মেরে ফেলার ও ধর্ষণ করার হুমকি দেন। ২৭ আগস্ট ওসি ও এসআই তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে একটি মামলা দায়ের করে কোর্টে চালান করে দেয়। পরে আট দিন জেলে থাকার পর তিনি জামিনে এসে মামলার প্রস্তুতি নেন এবং মামলাটি দায়ের করেন।

এ বিষয়ে ওই নারী বলেন, আমার মানসম্মান সব শেষ করেছেন তারা। তারা ভেবেছিলেন আমি প্রবাসীর স্ত্রী, তাদের প্রস্তাবে রাজী হবো। কিন্ত হইনি। ওসি আমাকে রিসোর্টে যেতে বলেছিলেন। অথচ আমি সেদিনের আগে রিসোর্টই চিনতাম না। পরে আমি বললাম রেস্টুরেন্টে কেন যাব? আপনি যা বলার আমাকে থানাতেই বলেন। এতে তিনি বলেন রিসোর্টে আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা বলবেন। তিনি আমাকে রাতের বেলায় ফোন দিতেন। অন্য একটি মামলার কারণে আগে থেকে পরিচিত থাকায় তিনি আমার বাড়িতেও আসতে বলতেন। আমি কোনোদিন রাজী হইনি। আর এসআই মোশাররফ তো জোর করে আমার শরীরও ছুঁয়েছেন। আমি এসবের বিচার চাই। তারা ভেবেছেন আমি ভয়ে কথা বলবো না। কিন্তু আমি চাই আমার মতো যাতে কোনো নারী এমন নির্যাতনের শিকার না হন।

এ বিষয়ে ওসি ছমির উদ্দিন বলেন, এই মহিলা ভীষণ উগ্র। আমরা আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে তিনি ওয়ারেন্ট চান। ওয়ারেন্ট দেখালেও তিনি আমাদের আসামিকে আনতে দেননি। পরে আমরা তার নামে সরকারি কাজে বাধায় দেওয়ায় বাধ্য হয়ে মামলা দায়ের করি। এরপর তিনি জেল থেকে বের হয়ে এসব করছেন। মামলা করতেই পারেন। এটা বানোয়াট মামলা।

এসআই মোশাররফ বলেন, আমাদের কাছে ভিডিও রেকর্ড আছে তিনি কী করেছেন। আমরা তাকে নারী কনস্টেবল দিয়ে ধরিয়ে এনেছি। আমরা তাকে কুপ্রস্তাব দেইনি। তিনি খুবই উগ্র মহিলা। এগুলা তার বানানো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী

নারীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগে পুলিশের ২ কর্মকর্তার নামে মামলা

আপডেট সময় ১১:০৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লায় কুপ্রস্তাবের অভিযোগে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমির উদ্দিন (৫০) ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোশাররফ হোসেনের (৪০) নামে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

পরে আদালতের বিচারক মোয়াজ্জেম হোসেন সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলায় ভুক্তভোগী ওই নারী উল্লেখ করেছেন, মেঘনা থানার শিকিরগাও এক নারী (২৬) তাদের পারিবারিক ও আত্মীয়-স্বজনের জায়গা জমির বিরোধের বিষয়ে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কয়েকবার থানায় আসা-যাওয়া করেন। তাই ওসি ছমির ও এসআই মোশাররফ তাকে প্রায়ই ফোন করতেন। একপর্যায়ে ওসি ছমির তাকে মেঘনা রিসোর্টে সময় কাটাতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এসআই প্রায়ই ফোন করে তাকে অশোভন প্রস্তাব দিতেন। তারা ওই নারীর নম্বরে এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন দিতেন। তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় দুইজনেই ওই নারীর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

২৬ আগস্ট এক ঘটনাক্রমে ওই নারীর বোন জামাইকে গ্রেফতার করতে যায় ওসি ছমির ও এসআই মোশাররফ। সেদিন মামলার ওয়ারেন্ট চাওয়াতে এসআই মোশাররফ ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে আসেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসআই মোশাররফ পুলিশের সহায়তায় টেনেহিঁচড়ে ওই নারীকে ওসির রুমে নিয়ে যায়। এরপর রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় ওসি তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং চিৎকার করলে তাকে মেরে ফেলার ও ধর্ষণ করার হুমকি দেন। ২৭ আগস্ট ওসি ও এসআই তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে একটি মামলা দায়ের করে কোর্টে চালান করে দেয়। পরে আট দিন জেলে থাকার পর তিনি জামিনে এসে মামলার প্রস্তুতি নেন এবং মামলাটি দায়ের করেন।

এ বিষয়ে ওই নারী বলেন, আমার মানসম্মান সব শেষ করেছেন তারা। তারা ভেবেছিলেন আমি প্রবাসীর স্ত্রী, তাদের প্রস্তাবে রাজী হবো। কিন্ত হইনি। ওসি আমাকে রিসোর্টে যেতে বলেছিলেন। অথচ আমি সেদিনের আগে রিসোর্টই চিনতাম না। পরে আমি বললাম রেস্টুরেন্টে কেন যাব? আপনি যা বলার আমাকে থানাতেই বলেন। এতে তিনি বলেন রিসোর্টে আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা বলবেন। তিনি আমাকে রাতের বেলায় ফোন দিতেন। অন্য একটি মামলার কারণে আগে থেকে পরিচিত থাকায় তিনি আমার বাড়িতেও আসতে বলতেন। আমি কোনোদিন রাজী হইনি। আর এসআই মোশাররফ তো জোর করে আমার শরীরও ছুঁয়েছেন। আমি এসবের বিচার চাই। তারা ভেবেছেন আমি ভয়ে কথা বলবো না। কিন্তু আমি চাই আমার মতো যাতে কোনো নারী এমন নির্যাতনের শিকার না হন।

এ বিষয়ে ওসি ছমির উদ্দিন বলেন, এই মহিলা ভীষণ উগ্র। আমরা আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে তিনি ওয়ারেন্ট চান। ওয়ারেন্ট দেখালেও তিনি আমাদের আসামিকে আনতে দেননি। পরে আমরা তার নামে সরকারি কাজে বাধায় দেওয়ায় বাধ্য হয়ে মামলা দায়ের করি। এরপর তিনি জেল থেকে বের হয়ে এসব করছেন। মামলা করতেই পারেন। এটা বানোয়াট মামলা।

এসআই মোশাররফ বলেন, আমাদের কাছে ভিডিও রেকর্ড আছে তিনি কী করেছেন। আমরা তাকে নারী কনস্টেবল দিয়ে ধরিয়ে এনেছি। আমরা তাকে কুপ্রস্তাব দেইনি। তিনি খুবই উগ্র মহিলা। এগুলা তার বানানো।