ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ সময়ের দাবি: গণপূর্ত মন্ত্রী ব্যক্তিগত আক্রমণ দেউলিয়া রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ: প্রিন্স নিজের মেয়েকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, গ্রাম্য সালিশে বাবাকে ৩৩ বেত্রাঘাত সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মামুনুল হকের ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী

৭০ বছর ধরে ফ্রি খাওয়াচ্ছে যে হোটেল!

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের আনাটুলিয়ান শহর। এখানে মাত্র ২৮ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু ২৮ হাজার মানুষের মধ্যে কাউকেই দারিদ্র্যের কারণে না খেয়ে থাকতে হয় না। আনাটুলিয়ান শহরে যদি কারও কাছে টাকা না থাকে তাহলে তাকে বিনামূল্যে খাবার দেয়া হয়। কেউ ইচ্ছা করলে প্রতিদিনই বিনামূল্যে সেই খাবার খেতে পারেন।

তবে ক্ষুধার্তদের এ সেবা সরকার বা কোনো দাতব্য সংস্থার পক্ষ থেকে নয়। শহরটিতে ‘মার্কেজ রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি হোটেল রয়েছে। যদি কারও কাছে অর্থ না থাকে তাহলে হোটেল মালিক তাকে বিনামূল্যে খাবার দেন।

হোটেলটির মালিকপক্ষ বংশ পরম্পরায় গরিবদের জন্য এ সুবিধা চালু রেখেছেন। এর বর্তমান মালিক মহেমেত ওজতুর্ক। ৫৫ বছর বয়সী ওজতুর্ক বর্তমানে হোটেলটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, আমার হোটেলে প্রচুর ভিড় থাকে। সে কারণে আমি তিনটি টেবিল রিজার্ভ করে রাখি। ওই তিনটি টেবিলে শুধুমাত্র গরিবদের ফ্রি খাবার দেয়া হয়। ওজতুর্ক বলেন, প্রতিদিন অন্তত ১৫ জনকে তিনি ফ্রি খাওয়ান। ২৮ হাজার বাসিন্দার এ শহরে প্রতিদিন অন্তত ১০০ মানুষ ফ্রি খায় বলে জানান স্থানীয়রা।

অর্থের অভাবে প্রায়ই বিনামূল্যে খেতে আসা এমন একজন গালিব। তিনি বলেন, বিনামূল্যে খেতে দেয় বলে সেটা পচা, নষ্ট বা নিম্নমানের খাবার না। আমি বিনামূল্যে কাবাব, মুরগির মাংস, স্যুপ, ভাত এবং সালাদ খাই।

ওজতুর্ক বলেন, আমাদের এই ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। আমি প্রায় ৭০ বছর আগের ঘটনা জানি। তখনও এভাবে খাবার দেয়া হতো। আমরা আমাদের বড়দের থেকে এটা শিখেছি।

১৯৪০ সালে রেস্টুরেন্টটি চালু হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এটি ছিল শহরের প্রথম হোটেল। হোটেলের তখনকার মালিক বিনামূল্যে খাবার খাওয়াতে শুরু করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত

৭০ বছর ধরে ফ্রি খাওয়াচ্ছে যে হোটেল!

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের আনাটুলিয়ান শহর। এখানে মাত্র ২৮ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু ২৮ হাজার মানুষের মধ্যে কাউকেই দারিদ্র্যের কারণে না খেয়ে থাকতে হয় না। আনাটুলিয়ান শহরে যদি কারও কাছে টাকা না থাকে তাহলে তাকে বিনামূল্যে খাবার দেয়া হয়। কেউ ইচ্ছা করলে প্রতিদিনই বিনামূল্যে সেই খাবার খেতে পারেন।

তবে ক্ষুধার্তদের এ সেবা সরকার বা কোনো দাতব্য সংস্থার পক্ষ থেকে নয়। শহরটিতে ‘মার্কেজ রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি হোটেল রয়েছে। যদি কারও কাছে অর্থ না থাকে তাহলে হোটেল মালিক তাকে বিনামূল্যে খাবার দেন।

হোটেলটির মালিকপক্ষ বংশ পরম্পরায় গরিবদের জন্য এ সুবিধা চালু রেখেছেন। এর বর্তমান মালিক মহেমেত ওজতুর্ক। ৫৫ বছর বয়সী ওজতুর্ক বর্তমানে হোটেলটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, আমার হোটেলে প্রচুর ভিড় থাকে। সে কারণে আমি তিনটি টেবিল রিজার্ভ করে রাখি। ওই তিনটি টেবিলে শুধুমাত্র গরিবদের ফ্রি খাবার দেয়া হয়। ওজতুর্ক বলেন, প্রতিদিন অন্তত ১৫ জনকে তিনি ফ্রি খাওয়ান। ২৮ হাজার বাসিন্দার এ শহরে প্রতিদিন অন্তত ১০০ মানুষ ফ্রি খায় বলে জানান স্থানীয়রা।

অর্থের অভাবে প্রায়ই বিনামূল্যে খেতে আসা এমন একজন গালিব। তিনি বলেন, বিনামূল্যে খেতে দেয় বলে সেটা পচা, নষ্ট বা নিম্নমানের খাবার না। আমি বিনামূল্যে কাবাব, মুরগির মাংস, স্যুপ, ভাত এবং সালাদ খাই।

ওজতুর্ক বলেন, আমাদের এই ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। আমি প্রায় ৭০ বছর আগের ঘটনা জানি। তখনও এভাবে খাবার দেয়া হতো। আমরা আমাদের বড়দের থেকে এটা শিখেছি।

১৯৪০ সালে রেস্টুরেন্টটি চালু হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এটি ছিল শহরের প্রথম হোটেল। হোটেলের তখনকার মালিক বিনামূল্যে খাবার খাওয়াতে শুরু করেন।