ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

৭০ বছর ধরে ফ্রি খাওয়াচ্ছে যে হোটেল!

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের আনাটুলিয়ান শহর। এখানে মাত্র ২৮ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু ২৮ হাজার মানুষের মধ্যে কাউকেই দারিদ্র্যের কারণে না খেয়ে থাকতে হয় না। আনাটুলিয়ান শহরে যদি কারও কাছে টাকা না থাকে তাহলে তাকে বিনামূল্যে খাবার দেয়া হয়। কেউ ইচ্ছা করলে প্রতিদিনই বিনামূল্যে সেই খাবার খেতে পারেন।

তবে ক্ষুধার্তদের এ সেবা সরকার বা কোনো দাতব্য সংস্থার পক্ষ থেকে নয়। শহরটিতে ‘মার্কেজ রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি হোটেল রয়েছে। যদি কারও কাছে অর্থ না থাকে তাহলে হোটেল মালিক তাকে বিনামূল্যে খাবার দেন।

হোটেলটির মালিকপক্ষ বংশ পরম্পরায় গরিবদের জন্য এ সুবিধা চালু রেখেছেন। এর বর্তমান মালিক মহেমেত ওজতুর্ক। ৫৫ বছর বয়সী ওজতুর্ক বর্তমানে হোটেলটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, আমার হোটেলে প্রচুর ভিড় থাকে। সে কারণে আমি তিনটি টেবিল রিজার্ভ করে রাখি। ওই তিনটি টেবিলে শুধুমাত্র গরিবদের ফ্রি খাবার দেয়া হয়। ওজতুর্ক বলেন, প্রতিদিন অন্তত ১৫ জনকে তিনি ফ্রি খাওয়ান। ২৮ হাজার বাসিন্দার এ শহরে প্রতিদিন অন্তত ১০০ মানুষ ফ্রি খায় বলে জানান স্থানীয়রা।

অর্থের অভাবে প্রায়ই বিনামূল্যে খেতে আসা এমন একজন গালিব। তিনি বলেন, বিনামূল্যে খেতে দেয় বলে সেটা পচা, নষ্ট বা নিম্নমানের খাবার না। আমি বিনামূল্যে কাবাব, মুরগির মাংস, স্যুপ, ভাত এবং সালাদ খাই।

ওজতুর্ক বলেন, আমাদের এই ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। আমি প্রায় ৭০ বছর আগের ঘটনা জানি। তখনও এভাবে খাবার দেয়া হতো। আমরা আমাদের বড়দের থেকে এটা শিখেছি।

১৯৪০ সালে রেস্টুরেন্টটি চালু হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এটি ছিল শহরের প্রথম হোটেল। হোটেলের তখনকার মালিক বিনামূল্যে খাবার খাওয়াতে শুরু করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৭০ বছর ধরে ফ্রি খাওয়াচ্ছে যে হোটেল!

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের আনাটুলিয়ান শহর। এখানে মাত্র ২৮ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু ২৮ হাজার মানুষের মধ্যে কাউকেই দারিদ্র্যের কারণে না খেয়ে থাকতে হয় না। আনাটুলিয়ান শহরে যদি কারও কাছে টাকা না থাকে তাহলে তাকে বিনামূল্যে খাবার দেয়া হয়। কেউ ইচ্ছা করলে প্রতিদিনই বিনামূল্যে সেই খাবার খেতে পারেন।

তবে ক্ষুধার্তদের এ সেবা সরকার বা কোনো দাতব্য সংস্থার পক্ষ থেকে নয়। শহরটিতে ‘মার্কেজ রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি হোটেল রয়েছে। যদি কারও কাছে অর্থ না থাকে তাহলে হোটেল মালিক তাকে বিনামূল্যে খাবার দেন।

হোটেলটির মালিকপক্ষ বংশ পরম্পরায় গরিবদের জন্য এ সুবিধা চালু রেখেছেন। এর বর্তমান মালিক মহেমেত ওজতুর্ক। ৫৫ বছর বয়সী ওজতুর্ক বর্তমানে হোটেলটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, আমার হোটেলে প্রচুর ভিড় থাকে। সে কারণে আমি তিনটি টেবিল রিজার্ভ করে রাখি। ওই তিনটি টেবিলে শুধুমাত্র গরিবদের ফ্রি খাবার দেয়া হয়। ওজতুর্ক বলেন, প্রতিদিন অন্তত ১৫ জনকে তিনি ফ্রি খাওয়ান। ২৮ হাজার বাসিন্দার এ শহরে প্রতিদিন অন্তত ১০০ মানুষ ফ্রি খায় বলে জানান স্থানীয়রা।

অর্থের অভাবে প্রায়ই বিনামূল্যে খেতে আসা এমন একজন গালিব। তিনি বলেন, বিনামূল্যে খেতে দেয় বলে সেটা পচা, নষ্ট বা নিম্নমানের খাবার না। আমি বিনামূল্যে কাবাব, মুরগির মাংস, স্যুপ, ভাত এবং সালাদ খাই।

ওজতুর্ক বলেন, আমাদের এই ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। আমি প্রায় ৭০ বছর আগের ঘটনা জানি। তখনও এভাবে খাবার দেয়া হতো। আমরা আমাদের বড়দের থেকে এটা শিখেছি।

১৯৪০ সালে রেস্টুরেন্টটি চালু হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এটি ছিল শহরের প্রথম হোটেল। হোটেলের তখনকার মালিক বিনামূল্যে খাবার খাওয়াতে শুরু করেন।