ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক

৭০ বছর ধরে ফ্রি খাওয়াচ্ছে যে হোটেল!

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের আনাটুলিয়ান শহর। এখানে মাত্র ২৮ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু ২৮ হাজার মানুষের মধ্যে কাউকেই দারিদ্র্যের কারণে না খেয়ে থাকতে হয় না। আনাটুলিয়ান শহরে যদি কারও কাছে টাকা না থাকে তাহলে তাকে বিনামূল্যে খাবার দেয়া হয়। কেউ ইচ্ছা করলে প্রতিদিনই বিনামূল্যে সেই খাবার খেতে পারেন।

তবে ক্ষুধার্তদের এ সেবা সরকার বা কোনো দাতব্য সংস্থার পক্ষ থেকে নয়। শহরটিতে ‘মার্কেজ রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি হোটেল রয়েছে। যদি কারও কাছে অর্থ না থাকে তাহলে হোটেল মালিক তাকে বিনামূল্যে খাবার দেন।

হোটেলটির মালিকপক্ষ বংশ পরম্পরায় গরিবদের জন্য এ সুবিধা চালু রেখেছেন। এর বর্তমান মালিক মহেমেত ওজতুর্ক। ৫৫ বছর বয়সী ওজতুর্ক বর্তমানে হোটেলটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, আমার হোটেলে প্রচুর ভিড় থাকে। সে কারণে আমি তিনটি টেবিল রিজার্ভ করে রাখি। ওই তিনটি টেবিলে শুধুমাত্র গরিবদের ফ্রি খাবার দেয়া হয়। ওজতুর্ক বলেন, প্রতিদিন অন্তত ১৫ জনকে তিনি ফ্রি খাওয়ান। ২৮ হাজার বাসিন্দার এ শহরে প্রতিদিন অন্তত ১০০ মানুষ ফ্রি খায় বলে জানান স্থানীয়রা।

অর্থের অভাবে প্রায়ই বিনামূল্যে খেতে আসা এমন একজন গালিব। তিনি বলেন, বিনামূল্যে খেতে দেয় বলে সেটা পচা, নষ্ট বা নিম্নমানের খাবার না। আমি বিনামূল্যে কাবাব, মুরগির মাংস, স্যুপ, ভাত এবং সালাদ খাই।

ওজতুর্ক বলেন, আমাদের এই ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। আমি প্রায় ৭০ বছর আগের ঘটনা জানি। তখনও এভাবে খাবার দেয়া হতো। আমরা আমাদের বড়দের থেকে এটা শিখেছি।

১৯৪০ সালে রেস্টুরেন্টটি চালু হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এটি ছিল শহরের প্রথম হোটেল। হোটেলের তখনকার মালিক বিনামূল্যে খাবার খাওয়াতে শুরু করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সৌদিতে ফ্লাইট বাতিলে আটকে পড়েছেন চার হাজার ভারতীয় ওমরাহ

৭০ বছর ধরে ফ্রি খাওয়াচ্ছে যে হোটেল!

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের আনাটুলিয়ান শহর। এখানে মাত্র ২৮ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু ২৮ হাজার মানুষের মধ্যে কাউকেই দারিদ্র্যের কারণে না খেয়ে থাকতে হয় না। আনাটুলিয়ান শহরে যদি কারও কাছে টাকা না থাকে তাহলে তাকে বিনামূল্যে খাবার দেয়া হয়। কেউ ইচ্ছা করলে প্রতিদিনই বিনামূল্যে সেই খাবার খেতে পারেন।

তবে ক্ষুধার্তদের এ সেবা সরকার বা কোনো দাতব্য সংস্থার পক্ষ থেকে নয়। শহরটিতে ‘মার্কেজ রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি হোটেল রয়েছে। যদি কারও কাছে অর্থ না থাকে তাহলে হোটেল মালিক তাকে বিনামূল্যে খাবার দেন।

হোটেলটির মালিকপক্ষ বংশ পরম্পরায় গরিবদের জন্য এ সুবিধা চালু রেখেছেন। এর বর্তমান মালিক মহেমেত ওজতুর্ক। ৫৫ বছর বয়সী ওজতুর্ক বর্তমানে হোটেলটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, আমার হোটেলে প্রচুর ভিড় থাকে। সে কারণে আমি তিনটি টেবিল রিজার্ভ করে রাখি। ওই তিনটি টেবিলে শুধুমাত্র গরিবদের ফ্রি খাবার দেয়া হয়। ওজতুর্ক বলেন, প্রতিদিন অন্তত ১৫ জনকে তিনি ফ্রি খাওয়ান। ২৮ হাজার বাসিন্দার এ শহরে প্রতিদিন অন্তত ১০০ মানুষ ফ্রি খায় বলে জানান স্থানীয়রা।

অর্থের অভাবে প্রায়ই বিনামূল্যে খেতে আসা এমন একজন গালিব। তিনি বলেন, বিনামূল্যে খেতে দেয় বলে সেটা পচা, নষ্ট বা নিম্নমানের খাবার না। আমি বিনামূল্যে কাবাব, মুরগির মাংস, স্যুপ, ভাত এবং সালাদ খাই।

ওজতুর্ক বলেন, আমাদের এই ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। আমি প্রায় ৭০ বছর আগের ঘটনা জানি। তখনও এভাবে খাবার দেয়া হতো। আমরা আমাদের বড়দের থেকে এটা শিখেছি।

১৯৪০ সালে রেস্টুরেন্টটি চালু হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এটি ছিল শহরের প্রথম হোটেল। হোটেলের তখনকার মালিক বিনামূল্যে খাবার খাওয়াতে শুরু করেন।