ঢাকা ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

পাকিস্তানে চলতি বছর বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিশ্ব সাহায্যের আহ্বান

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

চলতি বছর জুলাই থেকে পাকিস্তানজুড়ে বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্ততপক্ষে ৮৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মঙ্গলবার দেশটির সরকার বন্যাকবলিত মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের জন্য তহবিল চেয়ে একটি আন্তর্জাতিক আবেদন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর ডনের।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ)- এর মাধ্যমে দেশটিতে বন্যা জরুরি অবস্থার ওপর ব্রিফিংয়ের সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ব্রিফিংটি মূলত বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পুনর্মূল্যায়ন করতে, উন্নয়ন অংশীদার এবং দাতাদের সংকটের মাত্রা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য তলব করা হয়েছিল।

অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ প্রশমিত করতে সাহায্যের জন্য বিশ্বের দিকে তাকানোর পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বন্যাকবলিত লোকদের সাহায্য করার জন্য জাতির কাছে আবেদন করেছিলেন। কারণ বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের শত শত কোটি টাকা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, বর্তমান ত্রাণ অভিযানের জন্য ৮০ বিলিয়ন রুপি এবং ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য শত শত কোটি টাকার প্রয়োজন।

সরকারের ঘোষিত ত্রাণ সম্পর্কে বিশদ ভাগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নগদ ত্রাণ হিসাবে ৩৭.২ বিলিয়ন রুপি বিতরণ করছে যেখানে উদ্ধার প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করার জন্য এনডিএমএ-তে ৫ বিলিয়ন রুপির তহবিল দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, বন্যার্তদের জন্য নগদ ২৫,০০০ রুপি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে সরকার নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেবে। পাশাপাশি আহতদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা এবং ঘরের ক্ষতিপূরণ দিবে।

দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালের সভাপতিত্বে এনডিএমএ বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়েছিল, বন্যায় এ পর্যন্ত ৮৩০ জন প্রাণ হারিয়েছে, কমপক্ষে ১ হাজার ৩৪৮ জন আহত হয়েছে এবং সারাদেশে হাজার হাজার লোক গৃহহীন হয়েছে।

বৈঠকের সময় পরিকল্পনামন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দুটি প্রদেশ বেলুচিস্তান এবং সিন্ধুর জন্য সরকারকে বিপর্যয়কর বন্যা মোকাবেলায় সাহায্যের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করতে বলেছিলেন।

সভায় বক্তৃতাকালে জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শেরি রেহমান বিধ্বংসী বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে অবিলম্বে মানবিক ও উদ্ধার প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কারণ তিনি স্বীকার করেছেন পাকিস্তান নিজে থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারছে না।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা প্রবল বর্ষার সপ্তম স্পেলে আছি যার ফলে হাজার হাজার গৃহহীন, ৮৩০ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৪৮ জন আহত হয়েছে। বেলুচিস্তান থেকে মৌসুমী প্রণালী সিন্ধুতে চলে গেছে যেখানে ৩০টি জেলা পানির নিচে রয়েছে। গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে সিন্ধুতে ৩৯৫ শতাংশ এবং বেলুচিস্তানে ৩৭৯ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এই পরিমাণ থেকে বন্যার তীব্রতার মাত্রা সম্পর্কে জানা যায়।

পাকিস্তানের সিনেটর বর্তমান বিপর্যয়কে ২০১০ সালের সুপার বন্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সে বন্যায় পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সিন্ধুর কমপক্ষে ৩০টি জেলা, প্রায় পুরো বেলুচিস্তান এবং দক্ষিণ পাঞ্জাব একটি অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। মানুষ চলে যাচ্ছে, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এটি অভূতপূর্ব বর্ষার অনুপাতের একটি মানবিক বিপর্যয়।

শেরি রেহমান যোগ করেছেন, প্রাদেশিক এবং ফেডারেল সরকারগুলি দুর্যোগের তীব্রতার কারণে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে অক্ষম ছিল। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তা জোগাড় করার আহ্বান জানিয়েছে। সিন্ধু উচ্চ বন্যার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে যেখানে ৬ লাখ কিউসেকের বেশি প্রবাহ গুড্ডু এবং তারপরে ২৩ ও ২৪ আগস্ট শুক্কুর ব্যারেজ অতিক্রম করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে সিন্ধু বরাবর সমস্ত কাচা এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে এবং হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হবে।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দেওয়ার সময় সিনেটর জানান, কমপক্ষে ২১৬ জন প্রাণ হারিয়েছে, আনুমানিক ১৫ লাখ মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সিন্ধুতে ১৯ লাখ ৮৯ হাজার ৮৬৮ একর জমিতে চাষ করা ফসল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

পাকিস্তানে চলতি বছর বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিশ্ব সাহায্যের আহ্বান

আপডেট সময় ০৬:০৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ অগাস্ট ২০২২

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

চলতি বছর জুলাই থেকে পাকিস্তানজুড়ে বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্ততপক্ষে ৮৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মঙ্গলবার দেশটির সরকার বন্যাকবলিত মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের জন্য তহবিল চেয়ে একটি আন্তর্জাতিক আবেদন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর ডনের।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ)- এর মাধ্যমে দেশটিতে বন্যা জরুরি অবস্থার ওপর ব্রিফিংয়ের সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ব্রিফিংটি মূলত বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পুনর্মূল্যায়ন করতে, উন্নয়ন অংশীদার এবং দাতাদের সংকটের মাত্রা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য তলব করা হয়েছিল।

অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ প্রশমিত করতে সাহায্যের জন্য বিশ্বের দিকে তাকানোর পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বন্যাকবলিত লোকদের সাহায্য করার জন্য জাতির কাছে আবেদন করেছিলেন। কারণ বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের শত শত কোটি টাকা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, বর্তমান ত্রাণ অভিযানের জন্য ৮০ বিলিয়ন রুপি এবং ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য শত শত কোটি টাকার প্রয়োজন।

সরকারের ঘোষিত ত্রাণ সম্পর্কে বিশদ ভাগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নগদ ত্রাণ হিসাবে ৩৭.২ বিলিয়ন রুপি বিতরণ করছে যেখানে উদ্ধার প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করার জন্য এনডিএমএ-তে ৫ বিলিয়ন রুপির তহবিল দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, বন্যার্তদের জন্য নগদ ২৫,০০০ রুপি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে সরকার নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেবে। পাশাপাশি আহতদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা এবং ঘরের ক্ষতিপূরণ দিবে।

দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালের সভাপতিত্বে এনডিএমএ বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়েছিল, বন্যায় এ পর্যন্ত ৮৩০ জন প্রাণ হারিয়েছে, কমপক্ষে ১ হাজার ৩৪৮ জন আহত হয়েছে এবং সারাদেশে হাজার হাজার লোক গৃহহীন হয়েছে।

বৈঠকের সময় পরিকল্পনামন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দুটি প্রদেশ বেলুচিস্তান এবং সিন্ধুর জন্য সরকারকে বিপর্যয়কর বন্যা মোকাবেলায় সাহায্যের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করতে বলেছিলেন।

সভায় বক্তৃতাকালে জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শেরি রেহমান বিধ্বংসী বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে অবিলম্বে মানবিক ও উদ্ধার প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কারণ তিনি স্বীকার করেছেন পাকিস্তান নিজে থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারছে না।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা প্রবল বর্ষার সপ্তম স্পেলে আছি যার ফলে হাজার হাজার গৃহহীন, ৮৩০ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৪৮ জন আহত হয়েছে। বেলুচিস্তান থেকে মৌসুমী প্রণালী সিন্ধুতে চলে গেছে যেখানে ৩০টি জেলা পানির নিচে রয়েছে। গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে সিন্ধুতে ৩৯৫ শতাংশ এবং বেলুচিস্তানে ৩৭৯ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এই পরিমাণ থেকে বন্যার তীব্রতার মাত্রা সম্পর্কে জানা যায়।

পাকিস্তানের সিনেটর বর্তমান বিপর্যয়কে ২০১০ সালের সুপার বন্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সে বন্যায় পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সিন্ধুর কমপক্ষে ৩০টি জেলা, প্রায় পুরো বেলুচিস্তান এবং দক্ষিণ পাঞ্জাব একটি অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। মানুষ চলে যাচ্ছে, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এটি অভূতপূর্ব বর্ষার অনুপাতের একটি মানবিক বিপর্যয়।

শেরি রেহমান যোগ করেছেন, প্রাদেশিক এবং ফেডারেল সরকারগুলি দুর্যোগের তীব্রতার কারণে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে অক্ষম ছিল। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তা জোগাড় করার আহ্বান জানিয়েছে। সিন্ধু উচ্চ বন্যার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে যেখানে ৬ লাখ কিউসেকের বেশি প্রবাহ গুড্ডু এবং তারপরে ২৩ ও ২৪ আগস্ট শুক্কুর ব্যারেজ অতিক্রম করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে সিন্ধু বরাবর সমস্ত কাচা এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে এবং হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হবে।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দেওয়ার সময় সিনেটর জানান, কমপক্ষে ২১৬ জন প্রাণ হারিয়েছে, আনুমানিক ১৫ লাখ মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সিন্ধুতে ১৯ লাখ ৮৯ হাজার ৮৬৮ একর জমিতে চাষ করা ফসল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে।