অাকাশ বিনোদন ডেস্ক:
পদ্মশ্রী সম্মাননা পাওয়া বলিউডের চরিত্রাভিনেতা, পরিচালক, লেখক টম অল্টারের শেষ ইচ্ছা ছিল, তাঁর শেষকৃত্য হবে ওরলি শ্মশানে। গতকাল শনিবার তাঁর ইচ্ছা পূরণ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। গত শুক্রবার রাতে মুম্বাইয়ে নিজ বাসায় মারা যান তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭। তিনি স্কিন ক্যানসারে ভুগছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসের গোড়ার দিক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তিনি বাসায় ফিরে আসেন। টম অল্টারের মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমকে জানান তাঁর ব্যবস্থাপক ইসমাইল আনসারি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ক্যারল ইভানস অল্টার, ছেলে জেমি অল্টার আর মেয়ে আফসানকে রেখে গেছেন।
মার্কিন বংশোদ্ভূত মিশনারি মা-বাবার ছেলে টম অল্টারের জন্ম ভারতের মুসৌরিতে। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতার চাকরি নেন। কিন্তু রাজেশ খান্না-শর্মিলা ঠাকুরের ‘আরাধনা’ ছবি দেখে বদলে যায় তাঁর জীবন। অভিনয়ের নেশায় পেয়ে বসে তাঁকে। ভর্তি হন পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে। এখান থেকে স্বর্ণপদক পান। তাঁর প্রথম ছবি ‘চরস’। এরপর অভিনয় করেন সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’, শ্যাম বেনেগালের ‘জুনুন’, মনোজ কুমারের ‘ক্রান্তি’, রাজ কাপুরের ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’, রিচার্ড অ্যাটেনবরোর ‘গান্ধী’সহ ৬৪টি ছবিতে। সর্বশেষ অভিনয় করেছেন ‘রিস্তোঁ কা চক্রব্যূহ’ ছবিতে। অভিনয় করেছেন টিভি সিরিয়ালে।
টম অল্টার ছিলেন চরিত্রাভিনেতা। অভিনয় করেছেন বড়পর্দা, ছোটপর্দা আর মঞ্চে। ইংরেজি, হিন্দি ও উর্দু ভাষার ওপর দখল ছিল তাঁর। পর্দায় শ্বেতাঙ্গ চরিত্রে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। নাসিরউদ্দিন শাহ আর বেঞ্জামিন গিলানির সঙ্গে মোটলি প্রোডাকশন নামে নাটকের দল গড়েছিলেন টম অল্টার। আড়াই ঘণ্টার উর্দু নাটক ‘মৌলানা’তে তিনি একা অভিনয় করতেন। মঞ্চে ‘বাবর কে অওলাদ’, ‘লাল কিলা কে আখরি মুশায়েরা’, ‘গালিব কে খত’, ‘তিসবি শতাব্দী’ নাটকে টম অল্টারের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক। মঞ্চে মির্জা গালিবের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দারুণ প্রশংসিত হয়।
ক্রিকেট নিয়ে টম অল্টারের ছিল দারুণ আগ্রহ। ছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক। টেলিভিশনে শচীন টেন্ডুলকারের প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। তা মনে রেখেছেন শচীন নিজেও। টম অল্টারের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে সেই স্মৃতি টুইট করেছেন শচীন।
টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আল জাজিরা
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























