ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফার ঠাঁই হয়নি রাজনৈতিক কারণে: সলিমুল্লাহ খান নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী: মামদানি বিএনপি ভোট মানলেও গণভোট মানে না: আখতার হোসেন সাঁথিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা জুলাইয়ের শক্তির অনৈক্য পরাজিতদের সুযোগ করে দিচ্ছে: মজিবুর রহমান মঞ্জু বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের বড় ধরনের চাহিদা তৈরি হচ্ছে: হুমায়ুন কবির জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন:শফিকুর রহমান ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়তে শহীদ জিয়ার দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা আজও গুরুত্বপূর্ণ : সড়ক প্রতিমন্ত্রী শিশু যৌন নিপীড়নের দায়ে যুক্তরাজ্যে ৩ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ব্যবসা-বাণিজ্যে এআই ও ব্লকচেইনের ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বারোপ

ভিডিও ছড়িয়ে নারীর কাছে টাকা নিতে গিয়ে ধরা

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ফেসবুকে পরিচয়ের পর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় মধ্যবয়সী এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে ইমরান সরকার নামে এক তরুণ। এরপর ওই নারীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। আরও টাকা দাবি করে না পেয়ে ওই নারীর খোলামেলা ভিডিও ছড়িয়ে দেয় ইউটিউবে।বুধবার রাতে বগুড়া জেলার সদর উপজেলার সবুজবাগ গ্রিনল্যান্ড হাউজিং সোসাইটি থেকে ইমরানকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ গ্রামে। বাবার নাম তাজউদ্দিন সরকার।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইলিয়াছ খান সমকালকে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে চান্দগাঁও থানায় হওয়া মামলায় ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে চট্টগ্রামের আদালতে পাঠানো হয়। ইমরান মেধাবী ছাত্র। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে। জেএসসি ও এসএসসিতেও জিপিএ ৫ পায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঘুগা আবদুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে ইমরান। বড়ভাই তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে এসে বেপজা পাবলিক স্কুল ও কলেজে ভর্তি করিয়ে দেয়। ২০১৬ সালে ইমরান সেখান থেকে এইচএসসি পাস করে। বেপজা কলেজে পড়াশোনার সময় সুদর্শন এক তরুণের ছবি ব্যবহার করে ‘শাহরিয়ার কাব্য’ নামে ফেসবুক আইডি খোলে সে। ওই আইডির মাধ্যমে চান্দগাঁও এলাকার এক মধ্যবয়সী নারীর সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ঘনিষ্ঠতা। আদান-প্রদান হয় দু’জনের খোলামেলা ছবি ও ভিডিও।

পুলিশ জানায়, চতুর ইমরান নিজের ছবির বদলে এক মডেলের ছবি পাঠাত ওই নারীর কাছে। পরিচয়ও দেয় ব্যবসায়ী হিসেবে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন ওই নারী। এতে এড়িয়ে যায় ইমরান। ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নামে ওই নারীর কাছ থেকে এক দফায় হাতিয়ে নেয় দুই লাখ টাকা। পরে আরেক দফায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রথম দফায় নেওয়া টাকায় বগুড়ার শাহসুন্দর কলেজের এক ছাত্রীকে বিয়ে করে ইমরান। বিষয়টি গোপন রাখে সে। গত জুন মাসে ওই নারীর কাছ থেকে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে ইমরান। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওই নারীর পাঠানো ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করে ম্যাসেঞ্জারে ওই নারীর কাছে লিংক পাঠায় ইমরান। তা দেখে গত ৩ জুলাই বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠায় ওই নারী।

পুলিশ আরও জানায়, এরপরও টাকার জন্য হুমকি-ধমকি দিতে থাকলে গত ৯ জুলাই চান্দগাঁও থানায় ওই নারী মামলা করে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এস এ পরিবহনে ইমরানের কাছে বগুড়ায় আরও ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা নিতে এলে তাকে অনুসরণ করে পুলিশ। পরদিন তাকে গ্রেফতার করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফার ঠাঁই হয়নি রাজনৈতিক কারণে: সলিমুল্লাহ খান

ভিডিও ছড়িয়ে নারীর কাছে টাকা নিতে গিয়ে ধরা

আপডেট সময় ০১:২৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ফেসবুকে পরিচয়ের পর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় মধ্যবয়সী এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে ইমরান সরকার নামে এক তরুণ। এরপর ওই নারীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। আরও টাকা দাবি করে না পেয়ে ওই নারীর খোলামেলা ভিডিও ছড়িয়ে দেয় ইউটিউবে।বুধবার রাতে বগুড়া জেলার সদর উপজেলার সবুজবাগ গ্রিনল্যান্ড হাউজিং সোসাইটি থেকে ইমরানকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ গ্রামে। বাবার নাম তাজউদ্দিন সরকার।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইলিয়াছ খান সমকালকে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে চান্দগাঁও থানায় হওয়া মামলায় ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে চট্টগ্রামের আদালতে পাঠানো হয়। ইমরান মেধাবী ছাত্র। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে। জেএসসি ও এসএসসিতেও জিপিএ ৫ পায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঘুগা আবদুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে ইমরান। বড়ভাই তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে এসে বেপজা পাবলিক স্কুল ও কলেজে ভর্তি করিয়ে দেয়। ২০১৬ সালে ইমরান সেখান থেকে এইচএসসি পাস করে। বেপজা কলেজে পড়াশোনার সময় সুদর্শন এক তরুণের ছবি ব্যবহার করে ‘শাহরিয়ার কাব্য’ নামে ফেসবুক আইডি খোলে সে। ওই আইডির মাধ্যমে চান্দগাঁও এলাকার এক মধ্যবয়সী নারীর সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ঘনিষ্ঠতা। আদান-প্রদান হয় দু’জনের খোলামেলা ছবি ও ভিডিও।

পুলিশ জানায়, চতুর ইমরান নিজের ছবির বদলে এক মডেলের ছবি পাঠাত ওই নারীর কাছে। পরিচয়ও দেয় ব্যবসায়ী হিসেবে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন ওই নারী। এতে এড়িয়ে যায় ইমরান। ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নামে ওই নারীর কাছ থেকে এক দফায় হাতিয়ে নেয় দুই লাখ টাকা। পরে আরেক দফায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রথম দফায় নেওয়া টাকায় বগুড়ার শাহসুন্দর কলেজের এক ছাত্রীকে বিয়ে করে ইমরান। বিষয়টি গোপন রাখে সে। গত জুন মাসে ওই নারীর কাছ থেকে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে ইমরান। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওই নারীর পাঠানো ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করে ম্যাসেঞ্জারে ওই নারীর কাছে লিংক পাঠায় ইমরান। তা দেখে গত ৩ জুলাই বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠায় ওই নারী।

পুলিশ আরও জানায়, এরপরও টাকার জন্য হুমকি-ধমকি দিতে থাকলে গত ৯ জুলাই চান্দগাঁও থানায় ওই নারী মামলা করে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এস এ পরিবহনে ইমরানের কাছে বগুড়ায় আরও ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা নিতে এলে তাকে অনুসরণ করে পুলিশ। পরদিন তাকে গ্রেফতার করা হয়।