ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে পড়া উল্কাপিণ্ডের বিজ্ঞানীরা পেলেন ভিনগ্রহের প্রাণের উপাদান

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে একটি বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে আছড়ে পড়েছিল একটি উল্কাপিণ্ড। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে আসা এই পাথরে ভিনগ্রহের প্রাণের সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। প্রায় ৩২ হাজার মাইল বেগে ছুটে আসা ২ পাউন্ড ওজনের উল্কাপিণ্ডটি নিউজার্সির হিলসবোরো এলাকার একটি বাড়ির ছাদ ফুটো করে ভেতরে পড়ে। পড়ার আগে নিউইয়র্ক শহরের আকাশে বিকট শব্দ শোনা যায়।

বাড়ির মালিক খালি হাতে এটি ধরেননি। তিনি গ্লাভস পরে পাথরগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে কাঁচের বয়ামে নিরাপদে রাখেন। ফলে পাথরটি মোটেও দূষিত হতে পারেনি। বাড়ির মালিক জানান, তিনি বিকট শব্দ শুনে শোবার ঘরে গিয়ে ছাদের ফুটো দেখেন। সেখানে সালফারের তীব্র গন্ধ ছিল। বিছানা ও কার্পেট কালো টুকরো এবং ধুলায় ভরে গিয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জেনেছেন, এটি মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝের গ্রহাণু বলয় থেকে এসেছে। এটি একটি অত্যন্ত বিরল ‘সিএম-টাইপ’ কার্বনেশাস কনড্রাইট উল্কাপিণ্ড। সৌরজগতের শুরুর দিকে, অর্থাৎ সাড়ে ৪০০ কোটি বছরেরও আগে এটি তৈরি হয়েছিল। এতে প্রচুর কার্বন ও খনিজ আছে।

প্রধান গবেষক পিটার জেনিসকেনস জানান, পাথরের টুকরোতে আদিম গ্রহাণুর পৃষ্ঠের নোনতা তরলের খোঁজ মিলেছে। বাড়ির মালিকের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই এটি এত ভালো অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই উল্কাপিণ্ডে শত শত অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া গেছে। অ্যামিনো অ্যাসিড মূলত প্রোটিন তৈরির মূল উপাদান। গবেষক ড. ড্যানি গ্লাভিন জানান, এখানকার বেশির ভাগ অ্যামিনো অ্যাসিড পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় না। অর্থাৎ, এগুলো পুরোপুরি পৃথিবীর বাইরের উপাদান।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই আবিষ্কার থেকে আদিম গ্রহাণু সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে। পৃথিবীতে প্রাণের উপাদানগুলো এসব গ্রহাণুর মাধ্যমেই এসেছিল কি না, তার উত্তরও হয়তো এখান থেকেই মিলবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে পড়া উল্কাপিণ্ডের বিজ্ঞানীরা পেলেন ভিনগ্রহের প্রাণের উপাদান

আপডেট সময় ০৯:২০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে একটি বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে আছড়ে পড়েছিল একটি উল্কাপিণ্ড। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে আসা এই পাথরে ভিনগ্রহের প্রাণের সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। প্রায় ৩২ হাজার মাইল বেগে ছুটে আসা ২ পাউন্ড ওজনের উল্কাপিণ্ডটি নিউজার্সির হিলসবোরো এলাকার একটি বাড়ির ছাদ ফুটো করে ভেতরে পড়ে। পড়ার আগে নিউইয়র্ক শহরের আকাশে বিকট শব্দ শোনা যায়।

বাড়ির মালিক খালি হাতে এটি ধরেননি। তিনি গ্লাভস পরে পাথরগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে কাঁচের বয়ামে নিরাপদে রাখেন। ফলে পাথরটি মোটেও দূষিত হতে পারেনি। বাড়ির মালিক জানান, তিনি বিকট শব্দ শুনে শোবার ঘরে গিয়ে ছাদের ফুটো দেখেন। সেখানে সালফারের তীব্র গন্ধ ছিল। বিছানা ও কার্পেট কালো টুকরো এবং ধুলায় ভরে গিয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জেনেছেন, এটি মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝের গ্রহাণু বলয় থেকে এসেছে। এটি একটি অত্যন্ত বিরল ‘সিএম-টাইপ’ কার্বনেশাস কনড্রাইট উল্কাপিণ্ড। সৌরজগতের শুরুর দিকে, অর্থাৎ সাড়ে ৪০০ কোটি বছরেরও আগে এটি তৈরি হয়েছিল। এতে প্রচুর কার্বন ও খনিজ আছে।

প্রধান গবেষক পিটার জেনিসকেনস জানান, পাথরের টুকরোতে আদিম গ্রহাণুর পৃষ্ঠের নোনতা তরলের খোঁজ মিলেছে। বাড়ির মালিকের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই এটি এত ভালো অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই উল্কাপিণ্ডে শত শত অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া গেছে। অ্যামিনো অ্যাসিড মূলত প্রোটিন তৈরির মূল উপাদান। গবেষক ড. ড্যানি গ্লাভিন জানান, এখানকার বেশির ভাগ অ্যামিনো অ্যাসিড পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় না। অর্থাৎ, এগুলো পুরোপুরি পৃথিবীর বাইরের উপাদান।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই আবিষ্কার থেকে আদিম গ্রহাণু সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে। পৃথিবীতে প্রাণের উপাদানগুলো এসব গ্রহাণুর মাধ্যমেই এসেছিল কি না, তার উত্তরও হয়তো এখান থেকেই মিলবে।