ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জুলাইয়ের শক্তির অনৈক্য পরাজিতদের সুযোগ করে দিচ্ছে: মজিবুর রহমান মঞ্জু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ী শক্তির মধ্যে অনৈক্য ও দ্বন্দ্ব পরাজিতদের পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সেন্ট্রাল ফর বেঙ্গল স্টাডিজ (সিবিএস)-এর উদ্যোগে ‘জুলাই উত্তর রাজনীতি: গতি ও গত্যন্তর’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জুলাই প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করারও আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, জুলাইকে মুছে ফেলার একটি সংস্কৃতি চলমান রয়েছে। বিশেষ করে কিছু সিনিয়র সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী নামধারী ব্যক্তি টকশো ও লেখালেখির মাধ্যমে জুলাইকে অস্বীকার করতে চান। তাদেরকে বিপরীত প্রশ্নে বিদ্ধ করতে হবে। এই ধরনের অস্বীকারের রাজনীতি নতুন বাংলাদেশে স্থায়ী হবে না, নতুনদের রাজনীতিই জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিটির প্রস্তাবনার সমালোচনা করে বলেন, এর মাধ্যমে মূলত ‘ডিনাই অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন’-এর উপায়ে আওয়ামী পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়ার কথা বলছেন, কিন্তু গণহত্যাকারী কোনো দলকে পুনর্বাসনের উদাহরণ নেই। হাসিনা ফিরে আসার সাহস পাবে না। কোনো ধরনের অভিবাদন তো দূরের কথা, তার নসিবে জানাজাও থাকবে না।

গবেষক ড. শিব্বির আহমদ ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক কাঠামো ভাঙার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ যে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডানির্ভর সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক স্বৈরাচারী কাঠামো দাঁড় করিয়েছিল, তা এখনও তাদের পুনর্বাসনের পক্ষে কাজ করছে। জার্মানিতে যেভাবে ‘ডি-নাজিফিকেশন’ করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও তেমনি ‘ডি-আওয়ামীফিকেশন’ করতে হবে। আগামীর নতুন রাজনীতি দীর্ঘায়িত করতে হলে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জুলাইয়ের শক্তিকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল স্পিরিটকে নানানভাবে হাইজ্যাক করা হয়েছে। জুলাইয়ে মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ আমরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছি। আমরা শুনছি হাসিনা নাকি দেশে ফিরে আসবে এবং অনেকে তাকে সংবর্ধনা জানানোর কথা চিন্তা করছেন। হাসিনা দেশে ফেরার সাহস পাবে না। আর যদি আসে, তবে হাজারো মানুষ হত্যার দায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হবে। ৫ মে শাপলা চত্বরের গণহত্যার দায়ে আমি নিজে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। নতুন বাংলাদেশ বিপ্লবের স্বপ্ন নিয়ে নতুনদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

ফরহাদ হোসাইনের পরিচালনায় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিবিএস-এর ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। আলোচনা সভাটি উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিবর্গের উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

জুলাইয়ের শক্তির অনৈক্য পরাজিতদের সুযোগ করে দিচ্ছে: মজিবুর রহমান মঞ্জু

আপডেট সময় ০৯:৪০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ী শক্তির মধ্যে অনৈক্য ও দ্বন্দ্ব পরাজিতদের পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সেন্ট্রাল ফর বেঙ্গল স্টাডিজ (সিবিএস)-এর উদ্যোগে ‘জুলাই উত্তর রাজনীতি: গতি ও গত্যন্তর’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জুলাই প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করারও আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, জুলাইকে মুছে ফেলার একটি সংস্কৃতি চলমান রয়েছে। বিশেষ করে কিছু সিনিয়র সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী নামধারী ব্যক্তি টকশো ও লেখালেখির মাধ্যমে জুলাইকে অস্বীকার করতে চান। তাদেরকে বিপরীত প্রশ্নে বিদ্ধ করতে হবে। এই ধরনের অস্বীকারের রাজনীতি নতুন বাংলাদেশে স্থায়ী হবে না, নতুনদের রাজনীতিই জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিটির প্রস্তাবনার সমালোচনা করে বলেন, এর মাধ্যমে মূলত ‘ডিনাই অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন’-এর উপায়ে আওয়ামী পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়ার কথা বলছেন, কিন্তু গণহত্যাকারী কোনো দলকে পুনর্বাসনের উদাহরণ নেই। হাসিনা ফিরে আসার সাহস পাবে না। কোনো ধরনের অভিবাদন তো দূরের কথা, তার নসিবে জানাজাও থাকবে না।

গবেষক ড. শিব্বির আহমদ ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক কাঠামো ভাঙার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ যে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডানির্ভর সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক স্বৈরাচারী কাঠামো দাঁড় করিয়েছিল, তা এখনও তাদের পুনর্বাসনের পক্ষে কাজ করছে। জার্মানিতে যেভাবে ‘ডি-নাজিফিকেশন’ করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও তেমনি ‘ডি-আওয়ামীফিকেশন’ করতে হবে। আগামীর নতুন রাজনীতি দীর্ঘায়িত করতে হলে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জুলাইয়ের শক্তিকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল স্পিরিটকে নানানভাবে হাইজ্যাক করা হয়েছে। জুলাইয়ে মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ আমরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছি। আমরা শুনছি হাসিনা নাকি দেশে ফিরে আসবে এবং অনেকে তাকে সংবর্ধনা জানানোর কথা চিন্তা করছেন। হাসিনা দেশে ফেরার সাহস পাবে না। আর যদি আসে, তবে হাজারো মানুষ হত্যার দায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হবে। ৫ মে শাপলা চত্বরের গণহত্যার দায়ে আমি নিজে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। নতুন বাংলাদেশ বিপ্লবের স্বপ্ন নিয়ে নতুনদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

ফরহাদ হোসাইনের পরিচালনায় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিবিএস-এর ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। আলোচনা সভাটি উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিবর্গের উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।