ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল রাশিয়ান নৌযান অতীতের ইতিহাস দিয়ে বর্তমান জামায়াতকে বিশ্লেষণ করবেন না: শাহজাহান চৌধুরী হরমুজ খুলে দেওয়ার দাবি কাতারের, ‘ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট’ নিয়ে সতর্কতা মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে নিজের অবদান বলতে গিয়ে অন্যের অবদানকে হাতুড়িপেটা করেছেন :শফিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করা অন্যায় : ফজলুর রহমান ভারতীয় ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুতই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের অনেকেই আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকে: সংসদে ফজলুর রহমান কোদাল দিয়ে কুপিয়েই দাদি-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা করে আকাশ থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

বাংলাদেশে নতুন আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়াল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর সেনাবাহিনী ও দোসরদের নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সর্বশেষ এই সংখ্যা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএমের নেতৃত্বাধীন ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা পাঁচ লাখ এক হাজার ৮০০ জন। তবে আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের চারটি উপজেলায় নিজেদের মতো আশ্রয় তৈরি করে টিকে আছে চার লাখ ৪৮ হাজার ১০০ রোহিঙ্গা।

অন্যদিকে শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় কর্মরত জাতিসংঘের মাঠকর্মীরা জানিয়েছেন, উপজেলাটিতে ১৮ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ আশ্রয় নেয়। স্থানীয় লোকজন প্রাথমিকভাবে রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। পরে সহায়তা শুরু করে বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা।

বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়, উখিয়া ও টেকনাফের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যা নিরসনে উখিয়ার বালুখালীতে ৬১৫ মিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বালুখালী, কুতুপালং ও উনচিপ্রাংয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৩৬৭টি শৌচাগার। আশ্রয় নেওয়া প্রতি রোহিঙ্গার জন্য সাড়ে সাত লিটার করে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কাছে খুব অল্প সহায়-সম্বল রয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ আসতে আর নিজেদের জন্য মাথা গোজার ঠাঁই বানাতেই তাদের সব অর্থ শেষ হয়েছে। বিভিন্ন দাতা সংস্থার ত্রাণ ও সাহায্যের ওপর বলতে গেলে বেঁচে আছে তারা।

রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য উখিয়াতে ২০০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ ছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হবে বলে সম্প্রতি সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মা-বাবাহারা শিশুদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ সরকার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল রাশিয়ান নৌযান

বাংলাদেশে নতুন আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়াল

আপডেট সময় ১২:৫১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর সেনাবাহিনী ও দোসরদের নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সর্বশেষ এই সংখ্যা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএমের নেতৃত্বাধীন ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা পাঁচ লাখ এক হাজার ৮০০ জন। তবে আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের চারটি উপজেলায় নিজেদের মতো আশ্রয় তৈরি করে টিকে আছে চার লাখ ৪৮ হাজার ১০০ রোহিঙ্গা।

অন্যদিকে শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় কর্মরত জাতিসংঘের মাঠকর্মীরা জানিয়েছেন, উপজেলাটিতে ১৮ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ আশ্রয় নেয়। স্থানীয় লোকজন প্রাথমিকভাবে রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। পরে সহায়তা শুরু করে বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা।

বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়, উখিয়া ও টেকনাফের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যা নিরসনে উখিয়ার বালুখালীতে ৬১৫ মিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বালুখালী, কুতুপালং ও উনচিপ্রাংয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৩৬৭টি শৌচাগার। আশ্রয় নেওয়া প্রতি রোহিঙ্গার জন্য সাড়ে সাত লিটার করে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কাছে খুব অল্প সহায়-সম্বল রয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ আসতে আর নিজেদের জন্য মাথা গোজার ঠাঁই বানাতেই তাদের সব অর্থ শেষ হয়েছে। বিভিন্ন দাতা সংস্থার ত্রাণ ও সাহায্যের ওপর বলতে গেলে বেঁচে আছে তারা।

রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য উখিয়াতে ২০০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ ছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হবে বলে সম্প্রতি সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মা-বাবাহারা শিশুদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ সরকার।