আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
নেপালের কাছে হারটা যে জাফর ইকবাল, রহমত মিয়াদের মনে ঝড় বইয়ে দিচ্ছে, সেটা বোঝা গেল আজ সকালে হোটেল রেস্তোরাঁর নাশতার টেবিলে। সবার মুখ বিষণ্ন। প্লেটে খাবার নিয়েও যেন তা মুখে তুলতে ঠিক উৎসাহ পাচ্ছে না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের সদস্যরা। ভারত আর মালদ্বীপের বিপক্ষে অনবদ্য পারফরম্যান্সের পর নেপালের কাছে হার! গতকাল থিম্পুর চাংলিমিথংয়ে দুর্ভাগ্যটাও এমন আষ্টেপৃষ্ঠে দলকে জড়িয়ে রেখেছিল! ওয়ান-টু-ওয়ান পরিস্থিতে বল বারে লাগল। নিয়তিতে হারটা যেন কালো অক্ষরে লেখাই ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ লাল কার্ড দেখলেন। ম্যাচের চিত্রটাই পাল্টে গেল পুরোপুরি। তারপরও তো বাংলাদেশ ভালোই খেলছিল। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট হলো—একটি নিজেদের ব্যর্থতায়, অন্যটি সাইডবারে লেগে। ৮০ মিনিটে মাঠের এমন একটা জায়গা থেকে ফ্রি কিকে গোল খেল বাংলাদেশ, যেখান থেকে শতকরা ৯৯ ভাগ সময়েই গোল হয় না। নিজেদের ভুল তো অবশ্যই ছিল। প্রাপ্ত গোলের সুযোগ নষ্ট করা। নেপালের নেতিবাচক কৌশলের সামনে মাথা ঠান্ডা রাখতে না পারা; দিনটাই বাংলাদেশের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছিল। ফ্রি কিকের সময় বাংলাদেশের গোলরক্ষক কেন এগিয়ে রইলেন, সেটিও অনেকে ভেবে পাচ্ছেন না। প্রথমার্ধে নষ্ট করা সুযোগগুলোর কথাও মাথায় রাখতে পারেন। মোটকথা, আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিদিনই সরলরেখার মতো হবে না, প্রস্তুত থাকতে হবে কঠিন পরিস্থিতির জন্য—এই বড় শিক্ষাটা কাল খুব করেই পেয়েছেন মাহবুব হোসেন রক্সির শিষ্যরা।
এই হারটা অনেক সমীকরণের সামনেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ যুব দলকে। সাফ-গৌরব গায়ে মাখার বিষয়টা নেপাল-ম্যাচের আগে যতটা সহজ মনে হচ্ছিল, এখন ততটাই কঠিন। বাংলাদেশের হারে এই মুহূর্তে পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের পয়েন্ট সমান—৬। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ভুটানকে হারালেই চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে ভারত-নেপাল ম্যাচের দিকেও। সে ম্যাচে অবশ্য বাংলাদেশের প্রত্যাশা থাকবে ভারতের জয়ই। ড্র হলেও চলবে। ভারত জিতলে মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ের কারণে সমীকরণ হেলে পড়বে বাংলাদেশের দিকেই।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























