ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মেয়ে হওয়ার খুশিতে ৫০ হাজার টাকার ফুচকা খাওয়ালেন বাবা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পুঁথিগত বিদ্যা খুব বেশি নেই। কিন্তু নিজের উচ্চ চিন্তাধারা দিয়ে একজন উচ্চ শিক্ষিতকেও ছাপিয়ে যাওয়া যায়।

ভারতের ভোপালের এই ফুচকা বিক্রেতার কাণ্ড দেখে তাই বলা যায়। কন্যাশিশুর জন্ম দিলে যেখানে আজও অনেক পরিবারে নেতিবাচক কথা শুনতে হয় মাকে, অনেক ক্ষেত্রে স্বামীরাও নিজের কন্যাশিশুকে মেনে নিতে পারেন না, শিশুকন্যা হত্যাও যেখানে প্রায়ই ঘটে, সেই দেশে দাঁড়িয়েই নজির গড়ছেন এক ফুচকা বিক্রেতা।

নিজের কন্যাশিশুর জন্ম হওয়ার খুশিতে ভোপালবাসীকে বিনামূল্যে ফুচকা খাইয়েছেন তিনি। মেয়ে হওয়ার আনন্দে ৫০ হাজারেরও বেশি টাকা খরচ করে এ ফুচকা খাওয়ান তিনি। খবর আনন্দ বাজারের।

অঞ্চল গুপ্ত ভোপালের কোলার এলাকায় ফুচকা বিক্রি করেন। চলতি বছরের ১৭ আগস্ট তার কন্যাশিশুর জন্ম হয়। এটি তার দ্বিতীয় সন্তান। বছর দু’য়েক আগে তার স্ত্রী একটি ছেলে জন্ম দিয়েছিলেন। সে বারেও কন্যাশিশু চেয়েছিলেন অঞ্চল। দ্বিতীয় সন্তান কন্যা হওয়ায় যেন স্বপ্নপূরণ হলো তার।

বাঁধভাঙা খুশিতে প্রথম সন্তানের জন্মদিনের দিনই কন্যা সন্তানের জন্মের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। তার জন্য আগে থেকেই তার দোকানে আসা ক্রেতাদের বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ানোর দিনক্ষণ জানাতে শুরু করেছিলেন।

ওই বিশেষ দিন বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ানোর কথা ঘোষণা করে একটি বোর্ডও ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কথা মতো সম্প্রতি বিনামূল্যে ফুচকা খাইয়ে কন্যাশিশুর জন্ম উদযাপন করলেন।

বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ার খবর ঝড়ের গতিতে সারা ভোপালে ছড়িয়ে পড়ায় ওই দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার দোকানের সামনে রীতিমতো ফুচকাপ্রেমীর লাইন পড়ে গিয়েছিলো।

রাস্তার পাশে যেখানে ফুচকার ঠেলাগাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি, তার পাশেই বসে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন অঞ্চল।

কয়েকটি টেবিল পেতে দিয়েছিলেন। প্রতি টেবিলে এক ঝুড়ি করে ফুচকা এবং তেঁতুল জল ও অন্যান্য সামগ্রী রেখে দিয়েছিলেন। সবাইকে পরিবেশন করা তার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই যাতে প্রয়োজন মতো ফুচকা টেবিল থেকেই নিয়ে খেয়ে নিতে পারেন অতিথিরা, সেদিকে বিশেষ নজর ছিল তার।

অঞ্চলের দুই ভাই ইঞ্জিনিয়ার। স্ত্রীও স্নাতক। স্ত্রীকেও আত্মনির্ভর হতে শেখাচ্ছেন অঞ্চল। সেলাই মেশিন কিনে দিয়ে স্ত্রীকে স্বনির্ভর করতে তুলতে চান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মেয়ে হওয়ার খুশিতে ৫০ হাজার টাকার ফুচকা খাওয়ালেন বাবা

আপডেট সময় ০৭:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পুঁথিগত বিদ্যা খুব বেশি নেই। কিন্তু নিজের উচ্চ চিন্তাধারা দিয়ে একজন উচ্চ শিক্ষিতকেও ছাপিয়ে যাওয়া যায়।

ভারতের ভোপালের এই ফুচকা বিক্রেতার কাণ্ড দেখে তাই বলা যায়। কন্যাশিশুর জন্ম দিলে যেখানে আজও অনেক পরিবারে নেতিবাচক কথা শুনতে হয় মাকে, অনেক ক্ষেত্রে স্বামীরাও নিজের কন্যাশিশুকে মেনে নিতে পারেন না, শিশুকন্যা হত্যাও যেখানে প্রায়ই ঘটে, সেই দেশে দাঁড়িয়েই নজির গড়ছেন এক ফুচকা বিক্রেতা।

নিজের কন্যাশিশুর জন্ম হওয়ার খুশিতে ভোপালবাসীকে বিনামূল্যে ফুচকা খাইয়েছেন তিনি। মেয়ে হওয়ার আনন্দে ৫০ হাজারেরও বেশি টাকা খরচ করে এ ফুচকা খাওয়ান তিনি। খবর আনন্দ বাজারের।

অঞ্চল গুপ্ত ভোপালের কোলার এলাকায় ফুচকা বিক্রি করেন। চলতি বছরের ১৭ আগস্ট তার কন্যাশিশুর জন্ম হয়। এটি তার দ্বিতীয় সন্তান। বছর দু’য়েক আগে তার স্ত্রী একটি ছেলে জন্ম দিয়েছিলেন। সে বারেও কন্যাশিশু চেয়েছিলেন অঞ্চল। দ্বিতীয় সন্তান কন্যা হওয়ায় যেন স্বপ্নপূরণ হলো তার।

বাঁধভাঙা খুশিতে প্রথম সন্তানের জন্মদিনের দিনই কন্যা সন্তানের জন্মের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। তার জন্য আগে থেকেই তার দোকানে আসা ক্রেতাদের বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ানোর দিনক্ষণ জানাতে শুরু করেছিলেন।

ওই বিশেষ দিন বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ানোর কথা ঘোষণা করে একটি বোর্ডও ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কথা মতো সম্প্রতি বিনামূল্যে ফুচকা খাইয়ে কন্যাশিশুর জন্ম উদযাপন করলেন।

বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ার খবর ঝড়ের গতিতে সারা ভোপালে ছড়িয়ে পড়ায় ওই দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার দোকানের সামনে রীতিমতো ফুচকাপ্রেমীর লাইন পড়ে গিয়েছিলো।

রাস্তার পাশে যেখানে ফুচকার ঠেলাগাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি, তার পাশেই বসে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন অঞ্চল।

কয়েকটি টেবিল পেতে দিয়েছিলেন। প্রতি টেবিলে এক ঝুড়ি করে ফুচকা এবং তেঁতুল জল ও অন্যান্য সামগ্রী রেখে দিয়েছিলেন। সবাইকে পরিবেশন করা তার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই যাতে প্রয়োজন মতো ফুচকা টেবিল থেকেই নিয়ে খেয়ে নিতে পারেন অতিথিরা, সেদিকে বিশেষ নজর ছিল তার।

অঞ্চলের দুই ভাই ইঞ্জিনিয়ার। স্ত্রীও স্নাতক। স্ত্রীকেও আত্মনির্ভর হতে শেখাচ্ছেন অঞ্চল। সেলাই মেশিন কিনে দিয়ে স্ত্রীকে স্বনির্ভর করতে তুলতে চান তিনি।