ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে: সাইফুল হক হুইলচেয়ারে বসে দীপু মনিকে দেখতে ট্রাইব্যুনালে এলেন স্বামী বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার মাদক সেবনের ছবি ভাইরাল এটা আমি-ডামির সরকার না, কাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে চান: সংসদে টুকু হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডে ‘অর্থহীন’ হয়ে পড়ছে যুদ্ধবিরতি, দাবি নেতানিয়াহুর শান্তি চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করুক তেহরান: ট্রাম্প আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়, সে কারণেই আমি আজ সংসদে ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন, সে আরাম এখন হচ্ছে না: বিরোধী দলকে প্রতিমন্ত্রী আইভীকে নতুন মামলায় গ্রেফতার-হয়রানি না করার নির্দেশ জামায়াতের এমপিকে মসজিদে হত্যাচেষ্টা, সংসদে চাইলেন নিরাপত্তা

থানায় ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে ৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পটুয়াখালীর বাউফলে লিটন হাওলাদার (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে থানায় ৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুট পায়ে লাথি, কিল-ঘুষি আর চড়-থাপ্পড়ের সঙ্গে লাঠি দিয়ে পেটানো হয় তাকে। এতটা সময় নির্যাতনের ফাঁকে ১ গ্লাস পানি পর্যন্তও খেতে দেয়া হয়নি লিটনকে।

লিটন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, আমি পৌরশহরের বাংলাবাজার এলাকায় ফার্মেসির ব্যবসা করি। ২০১৭ সালে বিভিন্ন সময় আমি নাজিরপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী খাদিজার কাছ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধার নেই। এখন পর্যন্ত সুদে আসলে আমি খাদিজাকে মোট ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করি।

এত টাকা পরিশোধের পরও খাদিজা আমার কাছে আসল ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি জমি বিক্রি করে ওই টাকা দেওয়ার কথা বলার পরও খাদিজা আমাকে পুলিশের ভয়ভীতি দেখায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাউফল থানার এসআই বাশার মুঠোফোনে আমাকে কল দিয়ে থানায় যেতে বলেন।

আমি যাওয়ার পর খাদিজাকে খবর দেন এসআই বাশার। পরে আমাকে থানায় বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আটকে দফায় দফায় লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। চড়-থাপ্পড় আর বুট পায়ে দিয়ে আমাকে লাথি মারা হয়। এতটা নির্যাতনের পরও দুপুরে আমাকে কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ১ গ্লাস পানিও না। বিকালে আমার স্ত্রীকে খবর দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিয়ে একটি সাদা কাগজে আমার সই রাখা হয়। এরপর কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি বলে আমার স্বীকারোক্তি ভিডিও রেকর্ড করে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ৮ ঘণ্টা আটকে রাখার সময় নির্যাতনের ফাঁকে আমাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়।

লিটন বলেন, এসআই বাশারকে এ সময় সহযোগিতা করেন আরেক পুলিশ সদস্য আবদুর রহমান। দুই পুলিশ মিলে আমাকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আটকে রেখে টর্চার করেছে। আমি এর বিচার চাই।

অবশ্য এরকম নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই বাশার বলেন, খাদিজা নামের এক নারী থানায় অভিযোগ করেছেন। এরপর লিটন নিজেই থানায় এসে নগদ ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরিশোধ করার মুচলেকা দিয়েছেন। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এভাবে আপনি বিচার করতে পারেন কিনা- এমন প্রশ্নে এসআই বাশার এড়িয়ে যান।

বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, খাদিজা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে লিটনকে খবর দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ায় লিটনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিএনপির আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে: সাইফুল হক

থানায় ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে ৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন

আপডেট সময় ১১:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পটুয়াখালীর বাউফলে লিটন হাওলাদার (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে থানায় ৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুট পায়ে লাথি, কিল-ঘুষি আর চড়-থাপ্পড়ের সঙ্গে লাঠি দিয়ে পেটানো হয় তাকে। এতটা সময় নির্যাতনের ফাঁকে ১ গ্লাস পানি পর্যন্তও খেতে দেয়া হয়নি লিটনকে।

লিটন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, আমি পৌরশহরের বাংলাবাজার এলাকায় ফার্মেসির ব্যবসা করি। ২০১৭ সালে বিভিন্ন সময় আমি নাজিরপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী খাদিজার কাছ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধার নেই। এখন পর্যন্ত সুদে আসলে আমি খাদিজাকে মোট ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করি।

এত টাকা পরিশোধের পরও খাদিজা আমার কাছে আসল ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি জমি বিক্রি করে ওই টাকা দেওয়ার কথা বলার পরও খাদিজা আমাকে পুলিশের ভয়ভীতি দেখায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাউফল থানার এসআই বাশার মুঠোফোনে আমাকে কল দিয়ে থানায় যেতে বলেন।

আমি যাওয়ার পর খাদিজাকে খবর দেন এসআই বাশার। পরে আমাকে থানায় বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আটকে দফায় দফায় লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। চড়-থাপ্পড় আর বুট পায়ে দিয়ে আমাকে লাথি মারা হয়। এতটা নির্যাতনের পরও দুপুরে আমাকে কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ১ গ্লাস পানিও না। বিকালে আমার স্ত্রীকে খবর দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিয়ে একটি সাদা কাগজে আমার সই রাখা হয়। এরপর কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি বলে আমার স্বীকারোক্তি ভিডিও রেকর্ড করে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ৮ ঘণ্টা আটকে রাখার সময় নির্যাতনের ফাঁকে আমাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়।

লিটন বলেন, এসআই বাশারকে এ সময় সহযোগিতা করেন আরেক পুলিশ সদস্য আবদুর রহমান। দুই পুলিশ মিলে আমাকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আটকে রেখে টর্চার করেছে। আমি এর বিচার চাই।

অবশ্য এরকম নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই বাশার বলেন, খাদিজা নামের এক নারী থানায় অভিযোগ করেছেন। এরপর লিটন নিজেই থানায় এসে নগদ ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরিশোধ করার মুচলেকা দিয়েছেন। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এভাবে আপনি বিচার করতে পারেন কিনা- এমন প্রশ্নে এসআই বাশার এড়িয়ে যান।

বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, খাদিজা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে লিটনকে খবর দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ায় লিটনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।