ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

যমজ ছেলেকে এসপি অফিসে ফেলে গেলেন মা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন না করায় আরাফ ও আয়ান নামে ১৬ মাসের দুই যমজ শিশুকে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের সামনে ফেলে গিয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী।

 বিকেলে শিশু দুটিকে রেখে চলে যান মা সুমাইয়া আক্তার।

পুলিশ ও শিশুদের মা কাছ থেকে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল। এখন তিনি এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে আছেন। ২০১৯ সালের মে মাসে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। চলতি বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠান ইমরান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক নারী তার দুই ছেলেকে নিয়ে এসপি অফিসের চেকপোস্টের সামনে আসেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সামনে ছেলে দুটিকে রেখে ওই নারী চলে যান।

সুমাইয়া আক্তার মোবাইল ফোনে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু আরাফ ও আয়ান ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসকরা শিশু দুটির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রায় ৬ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। বিষয়টি সুমাইয়া তার স্বামীকে জানালেও তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাই বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) ফাতিহা ইয়াসমিনের সঙ্গে দেখা করতে যাই। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মীরা আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি।

এ বিষয়ে সুমাইয়া আক্তারের স্বামী ইমরান মোবাইলে বলেন, প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার টাকা সুমাইয়াকে পাঠাই। কিন্তু মা হয়ে তিনি কিভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। শিশুদের মা না আসায় তাদের দাদিকে খবর দিয়ে রাতেই শিশু দুটিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

পর্যটন করপোরেশনে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি: আবেদনের শেষ ৪ ডিসেম্বর

যমজ ছেলেকে এসপি অফিসে ফেলে গেলেন মা!

আপডেট সময় ০৬:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন না করায় আরাফ ও আয়ান নামে ১৬ মাসের দুই যমজ শিশুকে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের সামনে ফেলে গিয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী।

 বিকেলে শিশু দুটিকে রেখে চলে যান মা সুমাইয়া আক্তার।

পুলিশ ও শিশুদের মা কাছ থেকে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল। এখন তিনি এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে আছেন। ২০১৯ সালের মে মাসে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। চলতি বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠান ইমরান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক নারী তার দুই ছেলেকে নিয়ে এসপি অফিসের চেকপোস্টের সামনে আসেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সামনে ছেলে দুটিকে রেখে ওই নারী চলে যান।

সুমাইয়া আক্তার মোবাইল ফোনে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু আরাফ ও আয়ান ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসকরা শিশু দুটির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রায় ৬ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। বিষয়টি সুমাইয়া তার স্বামীকে জানালেও তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাই বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) ফাতিহা ইয়াসমিনের সঙ্গে দেখা করতে যাই। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মীরা আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি।

এ বিষয়ে সুমাইয়া আক্তারের স্বামী ইমরান মোবাইলে বলেন, প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার টাকা সুমাইয়াকে পাঠাই। কিন্তু মা হয়ে তিনি কিভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। শিশুদের মা না আসায় তাদের দাদিকে খবর দিয়ে রাতেই শিশু দুটিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।