ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

১০১ কলস পানি দিয়ে গোসল করানো হলো যুবককে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

টাকা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথিত এক পীরের নির্দেশে মনিরুল ইসলাম নামে (২৫) এক এতিম যুবককে রুটির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ১০১ কলস পানি ঢেলে গোসল করানো হয়েছে।

ওই যুবককে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মনিরুল ইসলাম বাউফল পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত কবির হোসেনের ছেলে।

মনিরুলের স্ত্রী খালেদা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, সম্প্রতি একই এলাকার আমির হোসেন খানের বাসা থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুরি হয়। আমির হোসেন খান ফরিদপুরের এক কথিত পীরের কাছ থেকে রুটি পড়া এনে চোর সন্দেহে তার স্বামী মনিরুল ইসলামকে খাওয়ান। এর কিছু সময় পর তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে আমির হোসেন খান ওই কথিত পীরের মোবাইল নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান।

তখন ওই পীরের নিদের্শ অনুযায়ী তার স্বামীকে বুধবার সকালে পুকুর ঘাটে নিয়ে ১০১ কলস পানি ঢেলে গোসল করানো হয়। একপর্যায়ে মনিরুল অচেতন হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ডা. প্রশান্ত কুমার সাহাকে দেখানো হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, মনিরুল ইসলামকে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। ওই অবস্থায় তার শরীরে একাধিকবার পানি দেওয়ায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যান। তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার স্বজনদের পরামর্শ দেয়া হয়।

এদিকে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমির আলী খানের সঙ্গে জমি নিয়ে মনিরুল ইসলাম গংয়ের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে মনিরকে শায়েস্তা করতে টাকা চুরির নাটক সাজিয়ে খাবারের সঙ্গে পয়জন মিশিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্ট করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম। ভিকটিমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

১০১ কলস পানি দিয়ে গোসল করানো হলো যুবককে

আপডেট সময় ১১:২৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

টাকা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথিত এক পীরের নির্দেশে মনিরুল ইসলাম নামে (২৫) এক এতিম যুবককে রুটির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ১০১ কলস পানি ঢেলে গোসল করানো হয়েছে।

ওই যুবককে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মনিরুল ইসলাম বাউফল পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত কবির হোসেনের ছেলে।

মনিরুলের স্ত্রী খালেদা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, সম্প্রতি একই এলাকার আমির হোসেন খানের বাসা থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুরি হয়। আমির হোসেন খান ফরিদপুরের এক কথিত পীরের কাছ থেকে রুটি পড়া এনে চোর সন্দেহে তার স্বামী মনিরুল ইসলামকে খাওয়ান। এর কিছু সময় পর তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে আমির হোসেন খান ওই কথিত পীরের মোবাইল নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান।

তখন ওই পীরের নিদের্শ অনুযায়ী তার স্বামীকে বুধবার সকালে পুকুর ঘাটে নিয়ে ১০১ কলস পানি ঢেলে গোসল করানো হয়। একপর্যায়ে মনিরুল অচেতন হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ডা. প্রশান্ত কুমার সাহাকে দেখানো হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, মনিরুল ইসলামকে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। ওই অবস্থায় তার শরীরে একাধিকবার পানি দেওয়ায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যান। তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার স্বজনদের পরামর্শ দেয়া হয়।

এদিকে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমির আলী খানের সঙ্গে জমি নিয়ে মনিরুল ইসলাম গংয়ের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে মনিরকে শায়েস্তা করতে টাকা চুরির নাটক সাজিয়ে খাবারের সঙ্গে পয়জন মিশিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্ট করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম। ভিকটিমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।