ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ‘ওবামা আমলের চেয়ে অনেক ভালো হবে’: ট্রাম্প মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হেফাজত আমিরের দোয়া নিলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অচিরেই সুখবর আসবে: প্রধানমন্ত্রী ‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ

নির্মূল হবে না করোনা, আসতেই থাকবে নতুন ভ্যারিয়ান্ট

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের একের পর এক নতুন ধরন বের হচ্ছে। দিনে দিনে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে করোনা। বর্তমানে সবচেয়ে ভয়ংকর ভ্যারিয়ান্ট ডেল্টা। তবে, এর চেয়েও ভয়ংকর ভ্যারিয়ান্ট আসতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাজ্য সরকারের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টারা। আর নতুন এই ধরনে আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি তিনজনে একজন মারা যেতে পারেন। নতুন ভ্যারিয়ান্টে মৃত্যুর হার হতে পারে মার্স ভাইরাসের মতো। সেই সঙ্গে তারা এও বলেছেন যে, করোনা পুরোপুরি নির্মূল হবে না। নতুন নতুন ভ্যারিয়ান্ট আসতে থাকবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ ফর ইমার্জেন্সিস (এসএজিই) কর্তৃক গত শুক্রবার একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এই লেখায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, নতুন ভ্যারিয়ান্ট ভ্যাকসিনকে এড়াতে সক্ষম। অর্থাৎ, টিকা নেয়া ব্যক্তিকেও ওই ভ্যারিয়ান্ট আক্রমণ করতে পারবে।

বিজ্ঞানীরা সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদী বিবর্তন সম্পর্কে গবেষণা করেছেন। গবেষণার পর তারা বলেছেন, এই ভাইরাস দূর করা ‘অসম্ভব’। আর করোনার এরকম নতুন নতুন ধরন আসতে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ধরন গঠিত হতে পারে দুইটি মারাত্মক ধরনের সমন্বয়ে। যেমন: বেটা ও আলফা বা ডেল্টা মিলে নতুন ধরন তৈরি করতে পারে।

এসএজিই সতর্ক করে দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ধরন আসার সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত।

এজন্য এসএজিই এর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত হবে বাইরের দেশগুলো থেকে নতুন নতুন ধরন যাতে দেশে না ঢুকতে পারে তা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া। অর্থাৎ, দুইটি ভ্যারিয়ান্ট যাতে একসাথে মিলে পুনর্গঠিত না হতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে পূর্ণ ডোজের ভ্যাকসিন নেয়া ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে তাকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না। এই নিয়ম চালু হবে ২ আগস্ট থেকে।

এসজিই এর বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা করতে যেখানে করোনার প্রকোপ বেশি সেখানে এবং যেখানে করোনায় আক্রান্ত হলেও মানুষ মারাত্মক অসুস্থ হচ্ছে না দুই জায়গার পরিস্থিতিই বিবেচনায় নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাজ্য সরকারকে বয়স্ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে দ্রুত টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন করতে বলেছে। মহামারি বিশেষজ্ঞ দীপ্তি গুরদাসানি বলেছেন, এসএজিই এর এই প্রকাশনা সকলের জন্য ‘কঠোর সতর্কবার্তা’।

টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘করোনা খুব শীঘ্রই দুর্বল হবে না। যারা বলে যে, করোনাকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের চলতে হবে, এটি মৌসুমি ভাইরাসের মতো হয়ে যাবে, ক্ষতি করতে না, তাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, দ্রুতই তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নির্মূল হবে না করোনা, আসতেই থাকবে নতুন ভ্যারিয়ান্ট

আপডেট সময় ১২:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অগাস্ট ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের একের পর এক নতুন ধরন বের হচ্ছে। দিনে দিনে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে করোনা। বর্তমানে সবচেয়ে ভয়ংকর ভ্যারিয়ান্ট ডেল্টা। তবে, এর চেয়েও ভয়ংকর ভ্যারিয়ান্ট আসতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাজ্য সরকারের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টারা। আর নতুন এই ধরনে আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি তিনজনে একজন মারা যেতে পারেন। নতুন ভ্যারিয়ান্টে মৃত্যুর হার হতে পারে মার্স ভাইরাসের মতো। সেই সঙ্গে তারা এও বলেছেন যে, করোনা পুরোপুরি নির্মূল হবে না। নতুন নতুন ভ্যারিয়ান্ট আসতে থাকবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ ফর ইমার্জেন্সিস (এসএজিই) কর্তৃক গত শুক্রবার একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এই লেখায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, নতুন ভ্যারিয়ান্ট ভ্যাকসিনকে এড়াতে সক্ষম। অর্থাৎ, টিকা নেয়া ব্যক্তিকেও ওই ভ্যারিয়ান্ট আক্রমণ করতে পারবে।

বিজ্ঞানীরা সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদী বিবর্তন সম্পর্কে গবেষণা করেছেন। গবেষণার পর তারা বলেছেন, এই ভাইরাস দূর করা ‘অসম্ভব’। আর করোনার এরকম নতুন নতুন ধরন আসতে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ধরন গঠিত হতে পারে দুইটি মারাত্মক ধরনের সমন্বয়ে। যেমন: বেটা ও আলফা বা ডেল্টা মিলে নতুন ধরন তৈরি করতে পারে।

এসএজিই সতর্ক করে দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ধরন আসার সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত।

এজন্য এসএজিই এর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত হবে বাইরের দেশগুলো থেকে নতুন নতুন ধরন যাতে দেশে না ঢুকতে পারে তা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া। অর্থাৎ, দুইটি ভ্যারিয়ান্ট যাতে একসাথে মিলে পুনর্গঠিত না হতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে পূর্ণ ডোজের ভ্যাকসিন নেয়া ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে তাকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না। এই নিয়ম চালু হবে ২ আগস্ট থেকে।

এসজিই এর বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা করতে যেখানে করোনার প্রকোপ বেশি সেখানে এবং যেখানে করোনায় আক্রান্ত হলেও মানুষ মারাত্মক অসুস্থ হচ্ছে না দুই জায়গার পরিস্থিতিই বিবেচনায় নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাজ্য সরকারকে বয়স্ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে দ্রুত টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন করতে বলেছে। মহামারি বিশেষজ্ঞ দীপ্তি গুরদাসানি বলেছেন, এসএজিই এর এই প্রকাশনা সকলের জন্য ‘কঠোর সতর্কবার্তা’।

টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘করোনা খুব শীঘ্রই দুর্বল হবে না। যারা বলে যে, করোনাকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের চলতে হবে, এটি মৌসুমি ভাইরাসের মতো হয়ে যাবে, ক্ষতি করতে না, তাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, দ্রুতই তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’