ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

‘পাওনা টাকার শোকে’ মৃত্যু, লাশ নিয়ে দেনাদারের বাড়িতে স্বজনরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাওনাদার সুনীল চন্দ্র দাসের (৪০) লাশ নিয়ে দেনাদারের ঘরের সামনে অবস্থান করেছেন স্বজনরা। শনিবার সকালে উপজেলার মহিপুর থানার মৎস্য বন্দর আলীপুরে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে পাওনা টাকার শোক সইতে না পেরে, শুক্রবার রাত ৯টায় নিজ বাড়িতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরে লাশ নিয়ে স্বজনরা দেনাদার ইউসুফ মুসুল্লির ঘরের সামনে অবস্থান করেন। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে আলীপুর বাজারের স্থানীয় ইউসুফ মুসুল্লি নামের একজনের কাছ থেকে আট লাখ টাকায় তিন শতক জমি কেনেন সুনীল চন্দ্র দাস। তিনি পেশায় একজন লন্ড্রি ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু তাকে জমি বুঝিয়ে দেননি ইউসুফ মুসুল্লি। এরপর থেকে টাকা ফেরত চেয়ে আসছিলেন সুনীল। একপর্যায় সুনীল দাস অসুস্থ হয়ে পড়লে টাকার অভাবে স্বজনরা চিকিৎসা করতে পারছিলেন না। শুক্রবার রাতে নিজের বসতঘরে তার মৃত্যু হয়। এরপর শনিবার সকাল ৯টা থেকে পাওনাদার সুনীল চন্দ্র দাসের লাশ নিয়ে স্বজনরা দেনাদার ইউসুফ মুসুল্লির ঘরের সামনে অবস্থান করেন।

মৃত সুনীল দাসের স্ত্রী মাদুরী দাসের দাবি, তার স্বামী স্থানীয় ইউসুফ মুসুল্লির কাছ থেকে আট লাখ টাকায় তিন শতক জমি কেনেন। কিন্তু জমি বুঝিয়ে দেননি। এরপর থেকে টাকা ফেরত চেয়ে আসছেন তার স্বামী। টাকার শোক সইতে না পেরেই মৃত্যু হয় তার।

লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, মৃত সুনীল জমি কেনার জন্য ইউসুফ মুসুল্লিকে টাকা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে সালিশ বৈঠক বসলেও টাকা কিংবা জমি ফেরত দেননি। আমার জানামতে, সুনীল অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।

এ বিষয়ে ইউসুফ মুসুল্লির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশি সহায়তায় লাশ সৎকার করা হয়েছে। স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে, তাদের অইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

‘পাওনা টাকার শোকে’ মৃত্যু, লাশ নিয়ে দেনাদারের বাড়িতে স্বজনরা

আপডেট সময় ১১:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাওনাদার সুনীল চন্দ্র দাসের (৪০) লাশ নিয়ে দেনাদারের ঘরের সামনে অবস্থান করেছেন স্বজনরা। শনিবার সকালে উপজেলার মহিপুর থানার মৎস্য বন্দর আলীপুরে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে পাওনা টাকার শোক সইতে না পেরে, শুক্রবার রাত ৯টায় নিজ বাড়িতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরে লাশ নিয়ে স্বজনরা দেনাদার ইউসুফ মুসুল্লির ঘরের সামনে অবস্থান করেন। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে আলীপুর বাজারের স্থানীয় ইউসুফ মুসুল্লি নামের একজনের কাছ থেকে আট লাখ টাকায় তিন শতক জমি কেনেন সুনীল চন্দ্র দাস। তিনি পেশায় একজন লন্ড্রি ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু তাকে জমি বুঝিয়ে দেননি ইউসুফ মুসুল্লি। এরপর থেকে টাকা ফেরত চেয়ে আসছিলেন সুনীল। একপর্যায় সুনীল দাস অসুস্থ হয়ে পড়লে টাকার অভাবে স্বজনরা চিকিৎসা করতে পারছিলেন না। শুক্রবার রাতে নিজের বসতঘরে তার মৃত্যু হয়। এরপর শনিবার সকাল ৯টা থেকে পাওনাদার সুনীল চন্দ্র দাসের লাশ নিয়ে স্বজনরা দেনাদার ইউসুফ মুসুল্লির ঘরের সামনে অবস্থান করেন।

মৃত সুনীল দাসের স্ত্রী মাদুরী দাসের দাবি, তার স্বামী স্থানীয় ইউসুফ মুসুল্লির কাছ থেকে আট লাখ টাকায় তিন শতক জমি কেনেন। কিন্তু জমি বুঝিয়ে দেননি। এরপর থেকে টাকা ফেরত চেয়ে আসছেন তার স্বামী। টাকার শোক সইতে না পেরেই মৃত্যু হয় তার।

লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, মৃত সুনীল জমি কেনার জন্য ইউসুফ মুসুল্লিকে টাকা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে সালিশ বৈঠক বসলেও টাকা কিংবা জমি ফেরত দেননি। আমার জানামতে, সুনীল অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।

এ বিষয়ে ইউসুফ মুসুল্লির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশি সহায়তায় লাশ সৎকার করা হয়েছে। স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে, তাদের অইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।