ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে বিয়ের রাতেই বরের কাছ থেকে কনেকে উদ্ধার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল পেয়ে বিয়ের রাতেই বরের নির্যাতনের হাত থেকে কনেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার সহযোগিতায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে উদ্ধার হওয়া ওই নারী বুধবার এসব তথ্য জানান।

কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী নারীর নাম খাদিজা আক্তার। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তার স্বামী ওমর ফারুকসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি জানান, জুন মাসের ৫ তারিখ তার বিয়ে হয় উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ওমর ফারুকের সাথে। বিকালে তাকে শ্বশুর বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে তারা মেনে নেয়নি। উল্টো মারধর করে। তখন স্বামী ফারুক তাকে জানান, তারা উপজেলার গৌরিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকবেন। তাকে উপজেলার মোহাম্মদপুর নামে একটি এলাকায় নিয়ে কিছু লোকের নিকট ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা তাকে মারধর করে তার গায়ের গহনা খুলে নেয়। পরে পুলিশের ফোন পেয়ে তারা তাকে ফেলে চলে যায়। এই মুহূর্তে তিনি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। তার সাথে প্রতারণার বিচার চান তিনি।

ভুক্তভোগীর খালাতো ভাই মেহেদী হাসান জানান, খাদিজার বাবা মৃত। আমরা তাদের পরিবারকে দেখভাল করি। আনন্দের সাথে বোনকে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সন্ধ্যায় বোনের স্বামী ফারুক ফোন করে জানান, এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে, নাহলে তাকে মেরে ফেলবেন। নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলাম।

পরে দাউদকান্দি থানা পুলিশ ফারুককে ফোন করলে তিনি বোনকে ফেলে চলে যান। বোন ওই এলাকা চিনেন না। তার সাথে ফোনও নেই। রাতে পুলিশ লোকেশন ট্র্যাকিং করে বোনকে উদ্ধার করে। সেই সব ফোন রেকর্ড তার নিকট সংরক্ষণে আছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার বিকেলে মামলার আইনজীবী জামিল আহমেদ রাতুল বলেন, ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা নারী পাচারকারী। বিয়ের রাতেই ওই নারীর সাথে জঘন্য আচরণ করেছে। আদালত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাউদকান্দি থানার এসআই মো. হারিসুল হক বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেব।

এদিকে, অভিযুক্ত ওমর ফারুককের ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে বিয়ের রাতেই বরের কাছ থেকে কনেকে উদ্ধার

আপডেট সময় ০৮:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল পেয়ে বিয়ের রাতেই বরের নির্যাতনের হাত থেকে কনেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার সহযোগিতায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে উদ্ধার হওয়া ওই নারী বুধবার এসব তথ্য জানান।

কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী নারীর নাম খাদিজা আক্তার। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তার স্বামী ওমর ফারুকসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি জানান, জুন মাসের ৫ তারিখ তার বিয়ে হয় উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ওমর ফারুকের সাথে। বিকালে তাকে শ্বশুর বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে তারা মেনে নেয়নি। উল্টো মারধর করে। তখন স্বামী ফারুক তাকে জানান, তারা উপজেলার গৌরিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকবেন। তাকে উপজেলার মোহাম্মদপুর নামে একটি এলাকায় নিয়ে কিছু লোকের নিকট ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা তাকে মারধর করে তার গায়ের গহনা খুলে নেয়। পরে পুলিশের ফোন পেয়ে তারা তাকে ফেলে চলে যায়। এই মুহূর্তে তিনি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। তার সাথে প্রতারণার বিচার চান তিনি।

ভুক্তভোগীর খালাতো ভাই মেহেদী হাসান জানান, খাদিজার বাবা মৃত। আমরা তাদের পরিবারকে দেখভাল করি। আনন্দের সাথে বোনকে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সন্ধ্যায় বোনের স্বামী ফারুক ফোন করে জানান, এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে, নাহলে তাকে মেরে ফেলবেন। নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলাম।

পরে দাউদকান্দি থানা পুলিশ ফারুককে ফোন করলে তিনি বোনকে ফেলে চলে যান। বোন ওই এলাকা চিনেন না। তার সাথে ফোনও নেই। রাতে পুলিশ লোকেশন ট্র্যাকিং করে বোনকে উদ্ধার করে। সেই সব ফোন রেকর্ড তার নিকট সংরক্ষণে আছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার বিকেলে মামলার আইনজীবী জামিল আহমেদ রাতুল বলেন, ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা নারী পাচারকারী। বিয়ের রাতেই ওই নারীর সাথে জঘন্য আচরণ করেছে। আদালত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাউদকান্দি থানার এসআই মো. হারিসুল হক বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেব।

এদিকে, অভিযুক্ত ওমর ফারুককের ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।