ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

‘সংক্রমণ সমাজে ছড়িয়ে পড়লে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা সংক্রমণ সমাজে ছড়িয়ে পড়লে, যে পরিমাণ লোক আক্রান্ত হবে, তাদের সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।

ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এর উদ্যোগে ‘চিকিৎসায় অবহেলা আইন এবং চিকিৎসক হয়রানি প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, সোমবার (২৮ জুন) থেকে সারাদেশে লোকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির যে অবস্থা, সেটার জন্যেও আমরা অনেক কথা শুনছি। আমাদের সক্ষমতার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। সক্ষমতাতো আর রাবার না, রাবারও একসময় আর বড় হয়না। আমাদের ১০টা বেড ছিল, সেখান থেকে ২০ বেড, এরপর ৪০, ৬০ এবং ১০০ বেড করা হয়েছে। এরপর কি হবে। হাজার জাহার লোক সংক্রমিত হচ্ছে। প্রথম দিকে আমাদের যে সক্ষমতা ছিল, তার থেকে অনেক বেশি সক্ষমতা এখন হয়েছে। তারপরেও সংক্রমণের হার যখন সোসাইটিতে (সমাজে) ছড়িয়ে পড়বে, তখন যে পরিমাণ লোক আক্রান্ত হবে, তাদের সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পক্ষে সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা গত একবছর ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তারা বার্ন আউট হয়ে গেছে। তারা কোনভাবেই আর পারছেন না। চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রেস মিডিয়া যেভাবে লেখে তাতে মনে হচ্ছে একমাত্র হাসপাতালেরই দায়। আর কারও দায় নেই। একসময় সত্যি সত্যি ডাক্তাররা হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে যাবে, আমাদের ডাক্তাররা এটা আর সামাল দিতে পারবেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আমি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, প্রণোদনার কথা অনেকে বলেছেন, অনেক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে কিন্তু তারা প্রণোদনা চান না, তারা একটি ভালো কর্ম পরিবেশ চায়, অন্যকিছু নয়। ডাক্তারদের যারা আক্রমণ করে তারা কিন্তু ভারত পাকিস্তান থেকে আসেন না, তারা এদেশেরই লোক। এ ক্ষেত্রেও আমাদের সচেতনতার প্রবল ঘাটতি রয়েছে। বিদেশে যারা সেবাদানকারী, তাদের ওপর আক্রমণ করলে ফৌজদারি দণ্ডবিধির আওতায় পড়ে। সেটা যদি আমরা প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে আমাদের ডাক্তারদের সুরক্ষা হবে।

ওয়েবিনারে সম্মানিত প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনায় আরও অংশ নেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ, সাবেক সংসদ এবং বিএমএ সভাপতি ডা. মুস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, বিএমএ নির্বাহী সদস্য ডা. মুস্তাক হুসেন, ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. শাকিল আখতার, জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডা. ফয়জুল হাকিম লালা।

ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ। সঞ্চালনা করেন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের যুগ্ম সম্পাদক ডা. এম এইচ ফারুকী।

স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম এবং মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক ডা. ফিরোজ আহমেদ খান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সংক্রমণ সমাজে ছড়িয়ে পড়লে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়’

আপডেট সময় ১১:৫৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা সংক্রমণ সমাজে ছড়িয়ে পড়লে, যে পরিমাণ লোক আক্রান্ত হবে, তাদের সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।

ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এর উদ্যোগে ‘চিকিৎসায় অবহেলা আইন এবং চিকিৎসক হয়রানি প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, সোমবার (২৮ জুন) থেকে সারাদেশে লোকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির যে অবস্থা, সেটার জন্যেও আমরা অনেক কথা শুনছি। আমাদের সক্ষমতার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। সক্ষমতাতো আর রাবার না, রাবারও একসময় আর বড় হয়না। আমাদের ১০টা বেড ছিল, সেখান থেকে ২০ বেড, এরপর ৪০, ৬০ এবং ১০০ বেড করা হয়েছে। এরপর কি হবে। হাজার জাহার লোক সংক্রমিত হচ্ছে। প্রথম দিকে আমাদের যে সক্ষমতা ছিল, তার থেকে অনেক বেশি সক্ষমতা এখন হয়েছে। তারপরেও সংক্রমণের হার যখন সোসাইটিতে (সমাজে) ছড়িয়ে পড়বে, তখন যে পরিমাণ লোক আক্রান্ত হবে, তাদের সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পক্ষে সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা গত একবছর ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তারা বার্ন আউট হয়ে গেছে। তারা কোনভাবেই আর পারছেন না। চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রেস মিডিয়া যেভাবে লেখে তাতে মনে হচ্ছে একমাত্র হাসপাতালেরই দায়। আর কারও দায় নেই। একসময় সত্যি সত্যি ডাক্তাররা হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে যাবে, আমাদের ডাক্তাররা এটা আর সামাল দিতে পারবেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আমি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, প্রণোদনার কথা অনেকে বলেছেন, অনেক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে কিন্তু তারা প্রণোদনা চান না, তারা একটি ভালো কর্ম পরিবেশ চায়, অন্যকিছু নয়। ডাক্তারদের যারা আক্রমণ করে তারা কিন্তু ভারত পাকিস্তান থেকে আসেন না, তারা এদেশেরই লোক। এ ক্ষেত্রেও আমাদের সচেতনতার প্রবল ঘাটতি রয়েছে। বিদেশে যারা সেবাদানকারী, তাদের ওপর আক্রমণ করলে ফৌজদারি দণ্ডবিধির আওতায় পড়ে। সেটা যদি আমরা প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে আমাদের ডাক্তারদের সুরক্ষা হবে।

ওয়েবিনারে সম্মানিত প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনায় আরও অংশ নেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ, সাবেক সংসদ এবং বিএমএ সভাপতি ডা. মুস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, বিএমএ নির্বাহী সদস্য ডা. মুস্তাক হুসেন, ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. শাকিল আখতার, জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডা. ফয়জুল হাকিম লালা।

ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ। সঞ্চালনা করেন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের যুগ্ম সম্পাদক ডা. এম এইচ ফারুকী।

স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম এবং মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক ডা. ফিরোজ আহমেদ খান।