ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই হাসিনা দেশে ফিরবেন: নাহিদ ইসলাম নাহিদ-আসিফ-পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন নুর জনগণের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিমন্ত্রী অমিতকে দায়িত্ব দিল সরকার কালেমা লেখা পতাকায় জঙ্গি নাটক তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ ফয়জুল করিমের খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের ১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতাল অনুমোদন মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়াই সরকারের অঙ্গীকার : মাহদী আমিন

যে ভ্যারিয়েন্টই হোক, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করোনা প্রতিরোধ সম্ভব

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) যেটাই হোক না কেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনার যে কোনো ধরনের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যে কোনো ভাইরাস প্রতিনিয়ত তার রূপ বদলায়। কোনো ভাইরাস যখন পরিবর্তিত হয়, তখন ভাইরাসের সর্বশেষ ধরনটি পাওয়া যায়। আমাদের দেশে করোনার প্রথম দিকে পাওয়া গিয়েছিল আলফা ভ্যারিয়েন্ট যুক্তরাজ্য (ধরন), এরপর পাওয়া গেল বিটা ভ্যারিয়েন্ট (দক্ষিণ আফ্রিকান ধরন), এখন পাওয়া যাচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ভারতীয় ধরন)।

ভারতে করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ফলে দেশটিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যু বেড়েছে কয়েকগুণ। আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাইরাসটির এ ধরন পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা ৬০টি নমুনার মধ্যে ৪১টিতেই ভারতীয় ধরন (ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট) পেয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি), যা মোট সংগৃহীত নমুনার ৬৮ শতাংশ।

এরইমধ্যে ভারতে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট স্পাইক প্রোটিন পরিবর্তন করে তার রূপ বদলে ফেলেছে। যে ভ্যারিয়েন্টকে দেশটিতে ‘ডেল্টা প্লাস’ বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশে বিগত কয়েকদিন থেকে করোনার আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার উর্ধ্বমুখী। করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতির ফলে দেশবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক। এমতাবস্থায় করোনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয় জানতে চাইলে বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ভাইরাসের ধর্মই হচ্ছে প্রতিনিয়ত মিউটেশনের মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তন করা। ভাইরাসের এসব মিউটেশনের মধ্যে দুই একটা বিপদজ্জনক হয়। সব ভ্যারিন্টের ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি সমানভাবে প্রযোজ্য। মাস্ক পরতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ইনডোর এবং আউটডোরে গণজমায়েত-সমাবেশ যদি রোধ করা যায় তাহলে ভ্যারিয়েন্ট যেটাই হোক না কেন, সেটা প্রতিরোধ করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, ভ্যারিয়েন্ট বিষয়ে বেশি চিন্তা করার কারণ নেই। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসতেই থাকবে, এটা ঠেকানোর কোনো পথ নেই। কিন্তু আমরা চাইলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারি।

এ চিকিৎসাবিদ আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য যে পরিমাণ ভ্যাক্সিনেশন করা দরকার, আমরা যেহেতু সেটা পারছি না, তাই আমাদের অগ্রাধিকার ঠিক করে পরিকল্পনা মোতাবেক যারা বয়স্ক এবং বিভিন্ন কোমরবিটি ডিজিজ রয়েছে, তাদেরকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। শহর বা গ্রামে হাট বাজারগুলোকে একটু দূরে দূরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গণজমায়েত রোধ করতে হবে, করোনায় যাদের উপার্জন নেই তাদেরকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে করোনা প্রতিরোধে সফলতা আসবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী

যে ভ্যারিয়েন্টই হোক, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করোনা প্রতিরোধ সম্ভব

আপডেট সময় ১১:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) যেটাই হোক না কেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনার যে কোনো ধরনের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যে কোনো ভাইরাস প্রতিনিয়ত তার রূপ বদলায়। কোনো ভাইরাস যখন পরিবর্তিত হয়, তখন ভাইরাসের সর্বশেষ ধরনটি পাওয়া যায়। আমাদের দেশে করোনার প্রথম দিকে পাওয়া গিয়েছিল আলফা ভ্যারিয়েন্ট যুক্তরাজ্য (ধরন), এরপর পাওয়া গেল বিটা ভ্যারিয়েন্ট (দক্ষিণ আফ্রিকান ধরন), এখন পাওয়া যাচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ভারতীয় ধরন)।

ভারতে করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ফলে দেশটিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যু বেড়েছে কয়েকগুণ। আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাইরাসটির এ ধরন পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা ৬০টি নমুনার মধ্যে ৪১টিতেই ভারতীয় ধরন (ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট) পেয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি), যা মোট সংগৃহীত নমুনার ৬৮ শতাংশ।

এরইমধ্যে ভারতে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট স্পাইক প্রোটিন পরিবর্তন করে তার রূপ বদলে ফেলেছে। যে ভ্যারিয়েন্টকে দেশটিতে ‘ডেল্টা প্লাস’ বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশে বিগত কয়েকদিন থেকে করোনার আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার উর্ধ্বমুখী। করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতির ফলে দেশবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক। এমতাবস্থায় করোনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয় জানতে চাইলে বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ভাইরাসের ধর্মই হচ্ছে প্রতিনিয়ত মিউটেশনের মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তন করা। ভাইরাসের এসব মিউটেশনের মধ্যে দুই একটা বিপদজ্জনক হয়। সব ভ্যারিন্টের ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি সমানভাবে প্রযোজ্য। মাস্ক পরতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ইনডোর এবং আউটডোরে গণজমায়েত-সমাবেশ যদি রোধ করা যায় তাহলে ভ্যারিয়েন্ট যেটাই হোক না কেন, সেটা প্রতিরোধ করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, ভ্যারিয়েন্ট বিষয়ে বেশি চিন্তা করার কারণ নেই। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসতেই থাকবে, এটা ঠেকানোর কোনো পথ নেই। কিন্তু আমরা চাইলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারি।

এ চিকিৎসাবিদ আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য যে পরিমাণ ভ্যাক্সিনেশন করা দরকার, আমরা যেহেতু সেটা পারছি না, তাই আমাদের অগ্রাধিকার ঠিক করে পরিকল্পনা মোতাবেক যারা বয়স্ক এবং বিভিন্ন কোমরবিটি ডিজিজ রয়েছে, তাদেরকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। শহর বা গ্রামে হাট বাজারগুলোকে একটু দূরে দূরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গণজমায়েত রোধ করতে হবে, করোনায় যাদের উপার্জন নেই তাদেরকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে করোনা প্রতিরোধে সফলতা আসবে।