ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

আবাসন ব্যবসার অন্তরালে প্রতারণা, ৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

আবাসন ব্যবসার অন্তরালে প্রতারণা করে অন্তত ৫৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এই চক্রটি এক লাখ টাকা লগ্নিতে দুই বছরে দ্বিগুণ টাকা লাভ দেবে বলে গ্রাহক সংগ্রহ করত।

এমন অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে এ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আশিক ঘোষ অসিত, কাজী নুরুল ইসলাম, শাহ নেওয়াজ শামীম, মো. জহিরুল হক, মীর মো. নুরুল ইসলাম ও মো. মামুন মিয়া।

এ সময় ২২০৯ জন গ্রাহকের টাকা জমার রসিদ ও লভ্যাংশের ফাইল, ২৫০টি মানি রিসিট এবং ৪৩জন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের জমাকৃত টাকা ফেরত নেয়ার জন্য করা আবেদনপত্রের কপি জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, উত্তরা পূর্ব এলাকায় সেবা আইডিয়াল অ্যান্ড লিভিং লিমিটেড নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। তারা ওই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এমএলএম ব্যবসা চালু করে দুই বছরে দ্বিগুণ মুনাফার লোভে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, এই চক্রটি ২২০৯ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এই চক্রটির নিজস্ব কোনো জমি নেই। তারা সিলসিটির একটি ব্রোশিয়ার দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করত। পরে তাদের দ্বিগুণ টাকার লাভ দেখিয়ে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতো।

সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহের মহেশপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, আমার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানে আসি। তারা আমার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেয় প্রতিমাসে সাড়ে আট হাজার টাকা লাভ দেবে বলে। পরে তারা আমাকে কোনো টাকা দেয়নি। ফলে আমি তাদের অফিসে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। আমি ন্যায় বিচার চাই। যাতে আমার মতো আর কাউকে এমন অবস্থায় পড়তে না হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ঢাকা মহানগর পশ্চিমের বিশেষ পুলিশ সুপার সামসুন নাহার, অতিরিক্ত পুলিশ জাকির হোসেন ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবাসন ব্যবসার অন্তরালে প্রতারণা, ৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আপডেট সময় ০২:১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

আবাসন ব্যবসার অন্তরালে প্রতারণা করে অন্তত ৫৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এই চক্রটি এক লাখ টাকা লগ্নিতে দুই বছরে দ্বিগুণ টাকা লাভ দেবে বলে গ্রাহক সংগ্রহ করত।

এমন অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে এ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আশিক ঘোষ অসিত, কাজী নুরুল ইসলাম, শাহ নেওয়াজ শামীম, মো. জহিরুল হক, মীর মো. নুরুল ইসলাম ও মো. মামুন মিয়া।

এ সময় ২২০৯ জন গ্রাহকের টাকা জমার রসিদ ও লভ্যাংশের ফাইল, ২৫০টি মানি রিসিট এবং ৪৩জন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের জমাকৃত টাকা ফেরত নেয়ার জন্য করা আবেদনপত্রের কপি জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, উত্তরা পূর্ব এলাকায় সেবা আইডিয়াল অ্যান্ড লিভিং লিমিটেড নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। তারা ওই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এমএলএম ব্যবসা চালু করে দুই বছরে দ্বিগুণ মুনাফার লোভে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, এই চক্রটি ২২০৯ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এই চক্রটির নিজস্ব কোনো জমি নেই। তারা সিলসিটির একটি ব্রোশিয়ার দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করত। পরে তাদের দ্বিগুণ টাকার লাভ দেখিয়ে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতো।

সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহের মহেশপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, আমার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানে আসি। তারা আমার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেয় প্রতিমাসে সাড়ে আট হাজার টাকা লাভ দেবে বলে। পরে তারা আমাকে কোনো টাকা দেয়নি। ফলে আমি তাদের অফিসে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। আমি ন্যায় বিচার চাই। যাতে আমার মতো আর কাউকে এমন অবস্থায় পড়তে না হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ঢাকা মহানগর পশ্চিমের বিশেষ পুলিশ সুপার সামসুন নাহার, অতিরিক্ত পুলিশ জাকির হোসেন ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক উপস্থিত ছিলেন।