ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

রায়হান হত্যা মামলায় কনস্টেবল হারুনের জামিন নামঞ্জুর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় একজনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে রায়হান হত্যা মামলার আসামি পুলিশ কনস্টেবল হারুনুর রশিদের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আব্দুর রহিম জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন বলে আদালত সূত্র জানায়। শুনানিকালে হারুনকে আদালতে আনা হয়নি।

রায়হানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, আদালতে পুলিশ কনস্টেবল হারুন জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। রায়হান হত্যার ঘটনার সাথে সরাসরি হারুন জড়িত ছিল। জামিন শুনানিকালে আমরা জামিনের বিরোধীতা করেছি। এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল কয়েকজন আদালতে পূর্বে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমাদের বক্তব্য আদালত শুনার পর জামিন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আসামিদের জামিনের বিষয়ে খবর পেয়ে রায়হানের মা’সহ তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হন।

হারুনের জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, আদালত ন্যায় বিচার করেছেন জামিন না দিয়ে। আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি, ছেলে হারানো কত কষ্টকর তা একজন মা ভালো বলতে পারবেন। আমি ছেলে হত্যার যথাযথ বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার ছেলেকে হারিয়ে আজ পথে। কিন্তু পুলিশ কনস্টেবল হারুন গোপনে আদালতে জামিন নিতে চাচ্ছে। বিষয়টি আমি জানার পর পরই আদালতে ছুটে আসি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। আমার দাবি একটাই আমার ছেলে হত্যার বিচার।

জানা যায়, গতকাল ১১ জানুয়ারি রায়হান হত্যার তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। নগরীর আখালিয়ার নেহারীপাড়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে গত বছরের ১১ অক্টোবর দিবাগত রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে আসে। রাত ৩টা ৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে স্বাভাবিক অবস্থায় রায়হানকে ফাঁড়িতে ধরে আনে পুলিশ। সকাল ৬টা ২৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে রায়হানকে ফাঁড়ি থেকে বের করা হয়। ৬টা ৪০ মিনিটে ওসমানী হাসপাতালে নেয়া হয় এবং ৭টা ৫০ মিনিটে মারা যায় রায়হান। ওই দিনই ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ দাফন করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়হান হত্যা মামলায় কনস্টেবল হারুনের জামিন নামঞ্জুর

আপডেট সময় ০৪:২১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় একজনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে রায়হান হত্যা মামলার আসামি পুলিশ কনস্টেবল হারুনুর রশিদের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আব্দুর রহিম জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন বলে আদালত সূত্র জানায়। শুনানিকালে হারুনকে আদালতে আনা হয়নি।

রায়হানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, আদালতে পুলিশ কনস্টেবল হারুন জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। রায়হান হত্যার ঘটনার সাথে সরাসরি হারুন জড়িত ছিল। জামিন শুনানিকালে আমরা জামিনের বিরোধীতা করেছি। এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল কয়েকজন আদালতে পূর্বে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমাদের বক্তব্য আদালত শুনার পর জামিন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আসামিদের জামিনের বিষয়ে খবর পেয়ে রায়হানের মা’সহ তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হন।

হারুনের জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, আদালত ন্যায় বিচার করেছেন জামিন না দিয়ে। আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি, ছেলে হারানো কত কষ্টকর তা একজন মা ভালো বলতে পারবেন। আমি ছেলে হত্যার যথাযথ বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার ছেলেকে হারিয়ে আজ পথে। কিন্তু পুলিশ কনস্টেবল হারুন গোপনে আদালতে জামিন নিতে চাচ্ছে। বিষয়টি আমি জানার পর পরই আদালতে ছুটে আসি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। আমার দাবি একটাই আমার ছেলে হত্যার বিচার।

জানা যায়, গতকাল ১১ জানুয়ারি রায়হান হত্যার তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। নগরীর আখালিয়ার নেহারীপাড়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে গত বছরের ১১ অক্টোবর দিবাগত রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে আসে। রাত ৩টা ৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে স্বাভাবিক অবস্থায় রায়হানকে ফাঁড়িতে ধরে আনে পুলিশ। সকাল ৬টা ২৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে রায়হানকে ফাঁড়ি থেকে বের করা হয়। ৬টা ৪০ মিনিটে ওসমানী হাসপাতালে নেয়া হয় এবং ৭টা ৫০ মিনিটে মারা যায় রায়হান। ওই দিনই ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ দাফন করা হয়।