ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

ঘরে ঘরে লাশ জানাজা-দাফন দিয়ে এসেছি: মংডু চেয়ারম্যান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মংডুর এক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভিন্ন গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীদের নরহত্যার পর ফেলে রাখা বীভৎস লাশ কিভাবে তিনি লোকজন নিয়ে উদ্ধার করে জানাজা শেষে দাফনকরেছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন। মিয়ানমারে কিভাবে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ চলছে প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানিতে তা শুনলেও গা শিউরে ওঠে।

রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের বড়ছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (রাখাইনে বলা হয় ‘ওকাট্যা’) মোহাম্মদ হোসেন (৩২) ও বাবা আবুল বশর। দুই দিন হেঁটে এবং আরো এক দিন নৌকা ও গাড়িতে চড়ে ১৮ জন রোহিঙ্গাসহ কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছান।

তিনি জানান, গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এবারের রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে সবচেয়ে কম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বড়ছড়া ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামে। গ্রামের ৮৫০টি পরিবারে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গা ছিল। হোসেন বলছিলেন, ‘তন্মধ্যে ৩০ থেকে ৩২ জনকে খতম (নিধন) করা হয়েছে গুলি ও লইঞ্চা (রকেট লাঞ্চার) দিয়ে। অন্যরা লুকিয়ে এবং পালিয়ে রক্ষা পায়। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়। তবে তার ইউনিয়নের দুটি গ্রামে চরমভাবে বিপন্ন হয়েছে মানবতা।

তিনি অারো বলেন, ইউনিয়নের দুটি গ্রাম ধুংছা ও শীলখালী মংডুর রাশিদং জেলার সীমান্তের কাছাকাছি। সশস্ত্র রাখাইন সন্ত্রাসীরা একযোগে ধুংছা ও শীলখালী গ্রামে ২৫ আগস্টের পরদিন হামলে পড়ে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন ভাগের একভাগ শিশু, নারী ও বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও জবাই করে খতম করে তারা। সুন্দরী রোহিঙ্গা নারীদের বেছে বেছে আলাদা করে গণধর্ষণের পর হত্যা করে।

স্থানীয় রোহিঙ্গা মুসলিম ধর্মীয় নেতা মাওলানা হাসান শরীফ আমাকে অনুরোধ করেন তাদের গ্রামে ঘরে ঘরে পড়ে থাকা অসংখ্য শিশু, নারী ও বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে কবর দিতে। আমি ২০ জনের মতো লোককে সঙ্গে নিয়ে শীলখালী গ্রামে যাই হত্যাকাণ্ডের পরদিন রাতে। চার-পাঁচটি ঘর থেকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত শিশু, নারী ও বৃদ্ধের ৩০ জনের মতো লাশ নিজের হাতে উদ্ধার করে জানাজা শেষে গণকবর দিই। ’

রাখাইনের চেয়ারম্যান আরো বলেন, রাখাইন যুবকদেরও সংগঠিত করে তাদের হাতে হাতে রামদা, চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র তুলে দেয় রোহিঙ্গা নিধনে। এখন এই সন্ত্রাসীরাই রোহিঙ্গা খতমের মূল কাজটি করছে। ’ হোসেন আরো বলেন, ‘এভাবে নিধনযজ্ঞ চালানোর সুবিধা হলো রাখাইন রাজ্যকে রোহিঙ্গাশূন্য করা গেল কম খরচেই। ’

ইউপি চেয়ারম্যান হোসেনের খালাতো ভাই আবদুল হাফিজ আগে থেকেই উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইসহ ১৮ জন এসেছে শনিবার রাতে। তারা তিন দিন ধরে কিছুই খেতে পারেনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরে ঘরে লাশ জানাজা-দাফন দিয়ে এসেছি: মংডু চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ০২:১৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মংডুর এক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভিন্ন গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীদের নরহত্যার পর ফেলে রাখা বীভৎস লাশ কিভাবে তিনি লোকজন নিয়ে উদ্ধার করে জানাজা শেষে দাফনকরেছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন। মিয়ানমারে কিভাবে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ চলছে প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানিতে তা শুনলেও গা শিউরে ওঠে।

রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের বড়ছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (রাখাইনে বলা হয় ‘ওকাট্যা’) মোহাম্মদ হোসেন (৩২) ও বাবা আবুল বশর। দুই দিন হেঁটে এবং আরো এক দিন নৌকা ও গাড়িতে চড়ে ১৮ জন রোহিঙ্গাসহ কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছান।

তিনি জানান, গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এবারের রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে সবচেয়ে কম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বড়ছড়া ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামে। গ্রামের ৮৫০টি পরিবারে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গা ছিল। হোসেন বলছিলেন, ‘তন্মধ্যে ৩০ থেকে ৩২ জনকে খতম (নিধন) করা হয়েছে গুলি ও লইঞ্চা (রকেট লাঞ্চার) দিয়ে। অন্যরা লুকিয়ে এবং পালিয়ে রক্ষা পায়। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়। তবে তার ইউনিয়নের দুটি গ্রামে চরমভাবে বিপন্ন হয়েছে মানবতা।

তিনি অারো বলেন, ইউনিয়নের দুটি গ্রাম ধুংছা ও শীলখালী মংডুর রাশিদং জেলার সীমান্তের কাছাকাছি। সশস্ত্র রাখাইন সন্ত্রাসীরা একযোগে ধুংছা ও শীলখালী গ্রামে ২৫ আগস্টের পরদিন হামলে পড়ে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন ভাগের একভাগ শিশু, নারী ও বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও জবাই করে খতম করে তারা। সুন্দরী রোহিঙ্গা নারীদের বেছে বেছে আলাদা করে গণধর্ষণের পর হত্যা করে।

স্থানীয় রোহিঙ্গা মুসলিম ধর্মীয় নেতা মাওলানা হাসান শরীফ আমাকে অনুরোধ করেন তাদের গ্রামে ঘরে ঘরে পড়ে থাকা অসংখ্য শিশু, নারী ও বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে কবর দিতে। আমি ২০ জনের মতো লোককে সঙ্গে নিয়ে শীলখালী গ্রামে যাই হত্যাকাণ্ডের পরদিন রাতে। চার-পাঁচটি ঘর থেকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত শিশু, নারী ও বৃদ্ধের ৩০ জনের মতো লাশ নিজের হাতে উদ্ধার করে জানাজা শেষে গণকবর দিই। ’

রাখাইনের চেয়ারম্যান আরো বলেন, রাখাইন যুবকদেরও সংগঠিত করে তাদের হাতে হাতে রামদা, চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র তুলে দেয় রোহিঙ্গা নিধনে। এখন এই সন্ত্রাসীরাই রোহিঙ্গা খতমের মূল কাজটি করছে। ’ হোসেন আরো বলেন, ‘এভাবে নিধনযজ্ঞ চালানোর সুবিধা হলো রাখাইন রাজ্যকে রোহিঙ্গাশূন্য করা গেল কম খরচেই। ’

ইউপি চেয়ারম্যান হোসেনের খালাতো ভাই আবদুল হাফিজ আগে থেকেই উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইসহ ১৮ জন এসেছে শনিবার রাতে। তারা তিন দিন ধরে কিছুই খেতে পারেনি।