ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ ৩ সচিবকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন সরকারি অফিসে কোনো ফাইল যেন আটকে না থাকে: আখতার হোসেন চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজ আমার নিজের সন্তান হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন: আফরোজা খানম রিতা জুনিয়র বৃত্তি পাবেন ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চাঁদাবাজি বেড়েছে ২০-৫০%: ঢাকা চেম্বার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাইবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও অপচয় রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সড়কমন্ত্রী

এবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উপপরিচালক পরিচালককে শোকজ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সাবেক পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার ওএসডির আদেশের প্রতিবাদে কর্মসূচি করার অভিযোগে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. কে এম মামুন মোর্শেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সরকারি চাকরিবিধি ভঙ্গ করায় রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়া হয় তাকে।

গত ৩ নভেম্বর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে ডা. কে এম মামুন মোর্শেদকে আপাতত পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

শোকজের বিষয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৫ নভেম্বর নিজ স্বাক্ষর ও উদ্যোগে নোটিশ জারির মাধ্যমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালকের (ভারপ্রাপ্ত) বদলি আদেশের বিরুদ্ধে হাসপাতালের সব চিকিৎসক, কর্মকর্তা, সেবক/সেবিকা ও কর্মচারীদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

ওই মতবিনিময় সভায় সরকারি আদেশের সমালোচনা ও বিষোদগার করা হয়, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী ( শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর তিন ( বি) বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শোকজে বলা হয়, এমতাবস্থায় এহেন কার্যকলাপের জন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার ব্যাখ্যা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

গত ২৯ অক্টোবর বেশি মূল্যে যন্ত্রপাতি ক্রয় করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করার প্রমাণ পাওয়ায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াসহ তিন চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত অন্য দুই চিকিৎসকরা হলেন হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৌমিত্র সরকার ও নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রতন দাসগুপ্ত।

চিঠিতে বলা হয়, ওই তিন চিকিৎসক বিভিন্ন সরঞ্জামের মূল্য যাচাই না করে অতিরিক্ত বাজার দর নির্ধারণ করেছেন। এতে সরকারের ছয় কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই ওই তিন চিকিৎসককে বিধিমোতাবেক অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ৩ (খ) ও ৩ (ঘ) বিধিমোতাবেক তাদের কেনও যথোপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না সে বিষয়ে দশ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে অভিযুক্তরা ব্যক্তিগত শুনানি চায় কিনা তাও জানতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ৩ নভেম্বর ডা. উত্তম বড়ুয়াকে ওএসডি করা হয়।

যদিও নিজে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে ষড়যন্ত্রকে ওএসডি করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দেয়া হয়নি বলে দাবি এই চিকিৎসকের।

জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

হাসপাতালের চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের কারণে সম্মেলন কক্ষের বাইরেও বসার ব্যবস্থা করা হয়। একইসঙ্গে হাসপাতালের প্রবেশপথ এবং দোতলায় দুটি বড় ডিসপ্লেতে সভা প্রদর্শন করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

এবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উপপরিচালক পরিচালককে শোকজ

আপডেট সময় ১১:১৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সাবেক পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার ওএসডির আদেশের প্রতিবাদে কর্মসূচি করার অভিযোগে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. কে এম মামুন মোর্শেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সরকারি চাকরিবিধি ভঙ্গ করায় রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়া হয় তাকে।

গত ৩ নভেম্বর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে ডা. কে এম মামুন মোর্শেদকে আপাতত পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

শোকজের বিষয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৫ নভেম্বর নিজ স্বাক্ষর ও উদ্যোগে নোটিশ জারির মাধ্যমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালকের (ভারপ্রাপ্ত) বদলি আদেশের বিরুদ্ধে হাসপাতালের সব চিকিৎসক, কর্মকর্তা, সেবক/সেবিকা ও কর্মচারীদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

ওই মতবিনিময় সভায় সরকারি আদেশের সমালোচনা ও বিষোদগার করা হয়, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী ( শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর তিন ( বি) বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শোকজে বলা হয়, এমতাবস্থায় এহেন কার্যকলাপের জন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার ব্যাখ্যা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

গত ২৯ অক্টোবর বেশি মূল্যে যন্ত্রপাতি ক্রয় করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করার প্রমাণ পাওয়ায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াসহ তিন চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত অন্য দুই চিকিৎসকরা হলেন হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৌমিত্র সরকার ও নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রতন দাসগুপ্ত।

চিঠিতে বলা হয়, ওই তিন চিকিৎসক বিভিন্ন সরঞ্জামের মূল্য যাচাই না করে অতিরিক্ত বাজার দর নির্ধারণ করেছেন। এতে সরকারের ছয় কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই ওই তিন চিকিৎসককে বিধিমোতাবেক অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ৩ (খ) ও ৩ (ঘ) বিধিমোতাবেক তাদের কেনও যথোপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না সে বিষয়ে দশ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে অভিযুক্তরা ব্যক্তিগত শুনানি চায় কিনা তাও জানতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ৩ নভেম্বর ডা. উত্তম বড়ুয়াকে ওএসডি করা হয়।

যদিও নিজে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে ষড়যন্ত্রকে ওএসডি করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দেয়া হয়নি বলে দাবি এই চিকিৎসকের।

জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

হাসপাতালের চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের কারণে সম্মেলন কক্ষের বাইরেও বসার ব্যবস্থা করা হয়। একইসঙ্গে হাসপাতালের প্রবেশপথ এবং দোতলায় দুটি বড় ডিসপ্লেতে সভা প্রদর্শন করা হয়।