ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আট হাজার টাকায় কসাই ভাড়া করে মাকে ৫ টুকরো করে ছেলে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অবশেষে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের গৃহিণী নুরজাহান বেগমের হত্যা ও ৫ টুকরো করে লাশের অংশ ধান ক্ষেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার সম্পূর্ণ রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।

নিজের পেটের ছেলে ৮ হাজার টাকা দিয়ে কসাই ভাড়া করে মায়ের লাশ ৫ টুকরো করার কথা নিজেই স্বীকার করেছে।

আসামিদের ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, নিহত নুরজাহানের প্রথম ঘরের সন্তান বেলাল হোসেনকে মা নুরজাহান সব সময় একটু বেশি আদর করত; এমন অভিযোগ ছিল বর্তমান সংসারের সন্তান হুমায়ুন কবির হুমার।

তারপর বেলাল হোসেন মাকে জিম্মি রেখে ৪ লাখ টাকা ঋণ রেখে গত বছর ইট ভাটায় কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়। এ ঋণের টাকা নিয়ে মা জাহানারার সঙ্গে ছেলে হুমায়ুন কবির দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

২ অক্টোবর সে বাড়ির পাশে ব্রিজের উপর বন্ধু নীরব, মামাতো ভাই কালাম, মামাতো বোনের জামাই সুমনকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। তখন নীরবের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ হাজার টাকা চুক্তিতে কসাই নুরুল ইসলামকে ভাড়া করা হয়। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মধ্যরাতে হুমায়ুন, নীরব, কালাম ও সুমন নুরজাহানের ঘরে প্রবেশ করে।

কালাম ও সুমন নুরজাহানের হাত-পা চেপে ধরে এবং হুমায়ুন বালিশ চাপা দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। তারপর কসাই নুর ইসলাম এসে ঘরের ভিতর লাশ দুই টুকরো করে সবাই মিলে ধান ক্ষেতের পাশে নিয়ে যায়। তাদের পরিকল্পনা ছিল লাশ টুকরা টুকরা করে তা ধানের ক্ষেতে পুতে ফেলবে।

কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় লাশের ৫ টুকরো করার পর আর কসাই নুর ইসলাম সেখানে থাকতে রাজি না হওয়ায় এ ৫ টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে সবাই চলে যায়।

আসামি ইসমাইল ও হামিদ সব পরিকল্পনায় অংশ নিলেও তারা ধানের ক্ষেতের টুকরো টুকরো করার কাজে অংশ নেয়নি বলে হুমায়ুন কবির জানায়। তবে কসাইকে ৮ হাজার টাকা চুক্তির টাকার যোগান দিয়েছিল হামিদ ও ইসমাইল। তারা নীরবের নিকট আট হাজার টাকা দিলেও নীরব এখান থেকে দুই হাজার টাকা রেখে ৬ হাজার টাকা দেয় কসাই নুরুল ইসলামকে।

এদিকে ৭ অক্টোবর লাশের টুকরোগুলি পাওয়ার পর নুরজাহানের ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ৮ অক্টোবর চরজব্বর থানায় একটি খুনের মামলা করে। এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ হতভম্ব হয়ে যায়। মামলার তদন্তের গতি সম্পূর্ণ উল্টো দিকে গড়াতে শুরু করে।

বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে হুমায়ুনের বন্ধু নীরবকে আটক করে তার জবানবন্দি নেয়ার পরও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে থাকে পুলিশ। তারপর কসাই নুরুল ইসলামকে আটক করে ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জবানবন্দি নেয়ার পর পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে মামলার বাদী হুমায়ুনকে গ্রেফতার করে।

এরপর হুমায়ুনের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরজব্বর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে নিহত নুরজাহানের ছেলে হুমায়ুন করিব হুমাকে প্রধান আসামি এবং নীরব, কসাই নুরুল ইসলাম, কালাম, সুমন, ইসমাইল ও হামিদকে আসামি করে চরজব্বর থানায় মামলা রুজু করেন। এ সময় মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবিতে স্থানান্তরিত হয়।

ডিবি পুলিশ চরজব্বর পুলিশের সহায়তায় একে একে সব আসামিকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় এবং হুমায়ুন, নীরব, কসাই নুরুল ইসলাম ও সুমন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দেয়। আর কালাম, ইসমাইল ও হামিদ বর্তমানে ডিবি পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক জাকির হোসেন জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে যে, নিহত নুরজাহান তার ভাই দুলাল মাঝির নিকট ৬২ হাজার ৫শত টাকা পাওনা ছিল। সে মারা গেলে এ টাকা দেয়া লাগবে না এ কারণে ভাইয়ের ছেলে কালাম এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। বাকীরা অর্থ ও সম্পত্তির লোভে অংশ নেয়।

হুমায়ুনের জবানবন্দিতে জানায়, বেলালের সম্পত্তির ১০ শতক ইসমাইলকে দেয়া হবে। আর নুরজাহানের সম্পত্তি সমান ৫ ভাগ করে হুমায়ুন, নোমান, সুমন ও নুর ইসলামকে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে সবাই এ হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আট হাজার টাকায় কসাই ভাড়া করে মাকে ৫ টুকরো করে ছেলে

আপডেট সময় ০৮:১৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অবশেষে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের গৃহিণী নুরজাহান বেগমের হত্যা ও ৫ টুকরো করে লাশের অংশ ধান ক্ষেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার সম্পূর্ণ রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।

নিজের পেটের ছেলে ৮ হাজার টাকা দিয়ে কসাই ভাড়া করে মায়ের লাশ ৫ টুকরো করার কথা নিজেই স্বীকার করেছে।

আসামিদের ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, নিহত নুরজাহানের প্রথম ঘরের সন্তান বেলাল হোসেনকে মা নুরজাহান সব সময় একটু বেশি আদর করত; এমন অভিযোগ ছিল বর্তমান সংসারের সন্তান হুমায়ুন কবির হুমার।

তারপর বেলাল হোসেন মাকে জিম্মি রেখে ৪ লাখ টাকা ঋণ রেখে গত বছর ইট ভাটায় কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়। এ ঋণের টাকা নিয়ে মা জাহানারার সঙ্গে ছেলে হুমায়ুন কবির দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

২ অক্টোবর সে বাড়ির পাশে ব্রিজের উপর বন্ধু নীরব, মামাতো ভাই কালাম, মামাতো বোনের জামাই সুমনকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। তখন নীরবের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ হাজার টাকা চুক্তিতে কসাই নুরুল ইসলামকে ভাড়া করা হয়। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মধ্যরাতে হুমায়ুন, নীরব, কালাম ও সুমন নুরজাহানের ঘরে প্রবেশ করে।

কালাম ও সুমন নুরজাহানের হাত-পা চেপে ধরে এবং হুমায়ুন বালিশ চাপা দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। তারপর কসাই নুর ইসলাম এসে ঘরের ভিতর লাশ দুই টুকরো করে সবাই মিলে ধান ক্ষেতের পাশে নিয়ে যায়। তাদের পরিকল্পনা ছিল লাশ টুকরা টুকরা করে তা ধানের ক্ষেতে পুতে ফেলবে।

কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় লাশের ৫ টুকরো করার পর আর কসাই নুর ইসলাম সেখানে থাকতে রাজি না হওয়ায় এ ৫ টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে সবাই চলে যায়।

আসামি ইসমাইল ও হামিদ সব পরিকল্পনায় অংশ নিলেও তারা ধানের ক্ষেতের টুকরো টুকরো করার কাজে অংশ নেয়নি বলে হুমায়ুন কবির জানায়। তবে কসাইকে ৮ হাজার টাকা চুক্তির টাকার যোগান দিয়েছিল হামিদ ও ইসমাইল। তারা নীরবের নিকট আট হাজার টাকা দিলেও নীরব এখান থেকে দুই হাজার টাকা রেখে ৬ হাজার টাকা দেয় কসাই নুরুল ইসলামকে।

এদিকে ৭ অক্টোবর লাশের টুকরোগুলি পাওয়ার পর নুরজাহানের ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ৮ অক্টোবর চরজব্বর থানায় একটি খুনের মামলা করে। এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ হতভম্ব হয়ে যায়। মামলার তদন্তের গতি সম্পূর্ণ উল্টো দিকে গড়াতে শুরু করে।

বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে হুমায়ুনের বন্ধু নীরবকে আটক করে তার জবানবন্দি নেয়ার পরও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে থাকে পুলিশ। তারপর কসাই নুরুল ইসলামকে আটক করে ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জবানবন্দি নেয়ার পর পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে মামলার বাদী হুমায়ুনকে গ্রেফতার করে।

এরপর হুমায়ুনের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরজব্বর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে নিহত নুরজাহানের ছেলে হুমায়ুন করিব হুমাকে প্রধান আসামি এবং নীরব, কসাই নুরুল ইসলাম, কালাম, সুমন, ইসমাইল ও হামিদকে আসামি করে চরজব্বর থানায় মামলা রুজু করেন। এ সময় মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবিতে স্থানান্তরিত হয়।

ডিবি পুলিশ চরজব্বর পুলিশের সহায়তায় একে একে সব আসামিকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় এবং হুমায়ুন, নীরব, কসাই নুরুল ইসলাম ও সুমন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দেয়। আর কালাম, ইসমাইল ও হামিদ বর্তমানে ডিবি পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক জাকির হোসেন জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে যে, নিহত নুরজাহান তার ভাই দুলাল মাঝির নিকট ৬২ হাজার ৫শত টাকা পাওনা ছিল। সে মারা গেলে এ টাকা দেয়া লাগবে না এ কারণে ভাইয়ের ছেলে কালাম এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। বাকীরা অর্থ ও সম্পত্তির লোভে অংশ নেয়।

হুমায়ুনের জবানবন্দিতে জানায়, বেলালের সম্পত্তির ১০ শতক ইসমাইলকে দেয়া হবে। আর নুরজাহানের সম্পত্তি সমান ৫ ভাগ করে হুমায়ুন, নোমান, সুমন ও নুর ইসলামকে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে সবাই এ হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে।