ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেফতার ৪ জন কারাগারে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নে এক ব্যক্তিকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার চারজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার লালমনিরহাট আদালতের মাধ্যমে দুজনকে এবং রবিবার দুজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নাম মোস্তফা আলী (৩৬)। তিনি উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সর্দারপাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি পেশায় রং মিস্ত্রি।

এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় রবিবার অভিযুক্ত হামিদুল ইসলাম ও ফাতেমা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। আর সোমবার ভোররাতে তাছলিমা বেগম (৩৫) ও আব্দুল খালেককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত শনিবার বিকেলে মোস্তফা আলীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয় অভিযুক্তরা।

থানা পুলিশ ও এজাহার সূত্র জানা গেছে, উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের সর্দারপাড়া প্রাণকৃষ্ণ এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মোস্তফা আলী রং মিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং বাড়িতে গরু পালন করে আসছেন। গত শনিবার বিকেলে মোস্তফা আলী নিজ বাড়ি থেকে রং ক্রয় করার জন্য ৫০ হাজার টাকা নিয়ে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

এসময় জগতবেড় ইউনিয়নের ডাকুয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একই এলাকার হামিদুল ইসলাম (৪৫) ও তার স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৩২), মেয়ে হাওয়া খাতুন (১৫), আব্দুল খালেক, নুরুল হক (৬০), মোস্তফা (৪২) ও ফাতেমা বেগম (৫০) সকলে মিলে দলবদ্ধ হয়ে মোস্তফা আলীর পথরোধ ও আটক করে তার নিকট ১২ হাজার টাকা দাবি করেন।

তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং তার সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর আব্দুল খালেককে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে মধ্যযুগীয় কায়দায় রশি দিয়ে বেঁধে মাররধ করা হয়। এসময় মোবাইল ফোনে অনেকেই ভিডিও ধারণ করেন। এ ঘটনায় ওই দিনই নির্যাতনের শিকার মোস্তফা আলীর স্ত্রী মহসেনা বেগম পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন।

নির্যাতনের শিকার মোস্তফা আলী বলেন, প্রায় ৬ মাস আগে আমার ছেলে অসুস্থ হলে আমি পাশের থানা কালীগঞ্জ এলাকা থেকে একজন কবিরাজ নিয়ে এসে চিকিৎসা করি। হামিদুল ও তার স্ত্রী তাছলিমা বেগমের সঙ্গে আমাদের সাংসারিক বিরোধ থাকার কারণে ওই কবিরাজের নিকট চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা গ্রহণকালে তাদের ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। চিকিৎসায় তাদের কাজ না হওয়ায় তারা বিভিন্ন সময় আমার কাছে ওই টাকা ফেরত চায়। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেন।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত বলেন, গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মোস্তফা আলীর স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের লালমনিরহাট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেফতার ৪ জন কারাগারে

আপডেট সময় ০৯:৪০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নে এক ব্যক্তিকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার চারজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার লালমনিরহাট আদালতের মাধ্যমে দুজনকে এবং রবিবার দুজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নাম মোস্তফা আলী (৩৬)। তিনি উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সর্দারপাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি পেশায় রং মিস্ত্রি।

এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় রবিবার অভিযুক্ত হামিদুল ইসলাম ও ফাতেমা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। আর সোমবার ভোররাতে তাছলিমা বেগম (৩৫) ও আব্দুল খালেককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত শনিবার বিকেলে মোস্তফা আলীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয় অভিযুক্তরা।

থানা পুলিশ ও এজাহার সূত্র জানা গেছে, উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের সর্দারপাড়া প্রাণকৃষ্ণ এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মোস্তফা আলী রং মিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং বাড়িতে গরু পালন করে আসছেন। গত শনিবার বিকেলে মোস্তফা আলী নিজ বাড়ি থেকে রং ক্রয় করার জন্য ৫০ হাজার টাকা নিয়ে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

এসময় জগতবেড় ইউনিয়নের ডাকুয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একই এলাকার হামিদুল ইসলাম (৪৫) ও তার স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৩২), মেয়ে হাওয়া খাতুন (১৫), আব্দুল খালেক, নুরুল হক (৬০), মোস্তফা (৪২) ও ফাতেমা বেগম (৫০) সকলে মিলে দলবদ্ধ হয়ে মোস্তফা আলীর পথরোধ ও আটক করে তার নিকট ১২ হাজার টাকা দাবি করেন।

তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং তার সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর আব্দুল খালেককে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে মধ্যযুগীয় কায়দায় রশি দিয়ে বেঁধে মাররধ করা হয়। এসময় মোবাইল ফোনে অনেকেই ভিডিও ধারণ করেন। এ ঘটনায় ওই দিনই নির্যাতনের শিকার মোস্তফা আলীর স্ত্রী মহসেনা বেগম পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন।

নির্যাতনের শিকার মোস্তফা আলী বলেন, প্রায় ৬ মাস আগে আমার ছেলে অসুস্থ হলে আমি পাশের থানা কালীগঞ্জ এলাকা থেকে একজন কবিরাজ নিয়ে এসে চিকিৎসা করি। হামিদুল ও তার স্ত্রী তাছলিমা বেগমের সঙ্গে আমাদের সাংসারিক বিরোধ থাকার কারণে ওই কবিরাজের নিকট চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা গ্রহণকালে তাদের ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। চিকিৎসায় তাদের কাজ না হওয়ায় তারা বিভিন্ন সময় আমার কাছে ওই টাকা ফেরত চায়। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেন।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত বলেন, গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মোস্তফা আলীর স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের লালমনিরহাট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।