ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাসা থেকে ধরে নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করতে হবে’:শিল্পমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে পেটে গুলি লেগেছিল মন্নাস আলীর, ৫৫ বছর পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’ ২০২৭ সালে কমলাপুর পর্যন্ত চালু হচ্ছে মেট্রোরেল কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ বলছে- মাকে ধর্ষণের প্রতিশোধ নিতে হত্যা নবজাতকের লাশ নিয়ে ফিরছিলেন, পথেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স উপজেলায় জোরদার হচ্ছে মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্ভরযোগ্য ডাটা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি : অর্থমন্ত্রী

মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং পরবর্তীতে ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল কাসেম (৪২) নামে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের দাবি, অপমান, হুমকি ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে আবুল কাসেমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত আবুল কাসেম মুদি দোকানি ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে চাপ দেওয়া হয়। পরে ১ জুলাই বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আবুল কাসেমকে মারধর করা হয় এবং পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার বলেন, ‘হুমকি-ধমকির কারণে তারা কয়েক দিন আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। রোববার সকালে তিনি বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।’

নিহতের ভাই আবুল কালাম বলেন, ‘অপমান, ভয় ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার ভাই আত্মহত্যা করেছেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী রুবা আক্তার দাবি করেন, তাঁর স্বামী ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং ওই ছাত্রীর সঙ্গে কোনো বিয়ের ঘটনাও হয়নি।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৃষ্ট একটি ঘটনার জেরে আবুল কাশেম আত্মহত্যা করেছেন। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাসা থেকে ধরে নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’

আপডেট সময় ০৮:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং পরবর্তীতে ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল কাসেম (৪২) নামে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের দাবি, অপমান, হুমকি ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে আবুল কাসেমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত আবুল কাসেম মুদি দোকানি ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে চাপ দেওয়া হয়। পরে ১ জুলাই বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আবুল কাসেমকে মারধর করা হয় এবং পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার বলেন, ‘হুমকি-ধমকির কারণে তারা কয়েক দিন আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। রোববার সকালে তিনি বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।’

নিহতের ভাই আবুল কালাম বলেন, ‘অপমান, ভয় ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার ভাই আত্মহত্যা করেছেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী রুবা আক্তার দাবি করেন, তাঁর স্বামী ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং ওই ছাত্রীর সঙ্গে কোনো বিয়ের ঘটনাও হয়নি।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৃষ্ট একটি ঘটনার জেরে আবুল কাশেম আত্মহত্যা করেছেন। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।