ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মুক্তিযুদ্ধে পেটে গুলি লেগেছিল মন্নাস আলীর, ৫৫ বছর পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছিলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাসিন্দা মন্নাস আলী (৭৫)। দীর্ঘ ৫৫ বছর শরীরে গুলি বহন করার পর অবশেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট থেকে গুলিটি অপসারণ করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল প্রায় ৩০ মিনিটের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলিটি বের করেন। মন্নাস আলীর বাড়ি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময় গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে এক মুক্তিযোদ্ধার হাতে তিন পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় অনেক মানুষকে ঘরে আটকে আগুন দেওয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বহু মানুষ নিহত হন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর সময় মন্নাস আলীর পেটে একটি গুলি বিদ্ধ হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দারিদ্র্যের কারণে এত বছর তার অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হয়নি। এভাবেই শরীরে গুলি নিয়েই কেটে যায় পাঁচ দশকের বেশি সময়। সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে স্থানীয়দের উদ্যোগ ও চিকিৎসকদের সহযোগিতায় অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।

মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। অর্থাভাবে আমরা চিকিৎসা করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করার বিষয়ে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় অবশেষে তার শরীর থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’

পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, ‘শ্বশুর সব সময় বলতেন তার শরীরে একটি গুলি রয়েছে। আজ অস্ত্রোপচারের পর আমরা সেটি নিজের চোখে দেখেছি। তিনি বলতেন, মৃত্যুর পরও যেন গুলিটি বের না করে তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহর রহমতে জীবিত অবস্থাতেই গুলিটি বের করা সম্ভব হয়েছে।’

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ নামের একজন শুক্রবার মন্নাস আলীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সফলভাবে গুলিটি অপসারণ করা হয়।

তিনি জানান, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়ে থানাকে অবহিত করা হয়েছে। মন্নাস আলীকে আরও তিন থেকে চার দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

মুক্তিযুদ্ধে পেটে গুলি লেগেছিল মন্নাস আলীর, ৫৫ বছর পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ

আপডেট সময় ০৯:২০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছিলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাসিন্দা মন্নাস আলী (৭৫)। দীর্ঘ ৫৫ বছর শরীরে গুলি বহন করার পর অবশেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট থেকে গুলিটি অপসারণ করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল প্রায় ৩০ মিনিটের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলিটি বের করেন। মন্নাস আলীর বাড়ি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময় গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে এক মুক্তিযোদ্ধার হাতে তিন পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় অনেক মানুষকে ঘরে আটকে আগুন দেওয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বহু মানুষ নিহত হন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর সময় মন্নাস আলীর পেটে একটি গুলি বিদ্ধ হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দারিদ্র্যের কারণে এত বছর তার অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হয়নি। এভাবেই শরীরে গুলি নিয়েই কেটে যায় পাঁচ দশকের বেশি সময়। সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে স্থানীয়দের উদ্যোগ ও চিকিৎসকদের সহযোগিতায় অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।

মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। অর্থাভাবে আমরা চিকিৎসা করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করার বিষয়ে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় অবশেষে তার শরীর থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’

পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, ‘শ্বশুর সব সময় বলতেন তার শরীরে একটি গুলি রয়েছে। আজ অস্ত্রোপচারের পর আমরা সেটি নিজের চোখে দেখেছি। তিনি বলতেন, মৃত্যুর পরও যেন গুলিটি বের না করে তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহর রহমতে জীবিত অবস্থাতেই গুলিটি বের করা সম্ভব হয়েছে।’

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ নামের একজন শুক্রবার মন্নাস আলীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সফলভাবে গুলিটি অপসারণ করা হয়।

তিনি জানান, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়ে থানাকে অবহিত করা হয়েছে। মন্নাস আলীকে আরও তিন থেকে চার দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।