অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
ভারতের বিজেপি শাসিত হরিয়ানা রাজ্যে ঈদের দিন রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হামলা চালিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। মহিষ কুরবানিকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে তাদেরকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। নারীদেরকেও মারধর এবং শ্লীলতাহানি করা হয়। ফরিদাবাদ জেলার বল্লভগড় এলাকার মুজেরি গ্রামে বসবাসরত রোহিঙ্গারা মহিষ কুরবানির চেষ্টা চালালে তাদের উপরে হামলা চালায় ওই হিন্দুত্ববাদীরা। এখানে ৪৫টি মুসলিম পরিবার বাস করে।
সাকির নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘এলাকার লোকজন আমাদের কুরবানির জন্য বেধে রাখা পশু খুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা তাদের বলি যে ওই পশু কুরবানির জন্য আমরা কিনে এনেছি। বিতর্ক যাতে না বাড়ে সেজন্য আমরা বলি শনিবার আমরা একে বাজারে বিক্রি করে দেবো। কিন্তু তা সত্ত্বেও শনিবার সকালে ১৫/২০ জনের একটি দল এসে আমাদের মারধর করে এবং নারীদের পোশাক পর্যন্ত ছিঁড়ে দেয়।’
মুহাম্মদ জামিল নামে এক রোহিঙ্গা মুসলিম বলেন, তাদের পরিবারের নারীদেরও বেদম মারধর করা হয়েছে। দু’জন নারীর শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলাকারীরা চার জনকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে।
মুহাম্মদুল্লাহ নামে আহত এক ব্যক্তি বলেন, উগ্রবাদীরা তার ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং পুলিশে অভিযোগ না করার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অভিযোগ করলে এক রাতে সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। পরে সকাল ৭টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
ওই ঘটনায় আহতরা চলাফেরা করতে পারছেন না। আহত চার জনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। বল্লভগড় সদর থানার পক্ষ থেকে অজ্ঞাত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯ এবং ৩৭৯ অনুসারে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, ওই ঘটনায় যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ ঘটনাস্থলে মহিষ জবাইয়ের কথা অস্বীকার করেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















