ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে বিএনপি অফিসে আগুন সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল আলবেনিয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পোস্ট ভাইরাল বিএনপি সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকা খুব কঠিন হবে: সারজিস সংসদ বসতে পারে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ধাপে-ধাপে বাস্তবায়ন হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় এক রাতে নিহত ৫০ নড়াইলে আ.লীগের অফিস খুলে উল্লাস, স্লোগান-পতাকা উত্তোলন আ.লীগের অফিস খুলে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, দখলে নিল বিএনপি-ছাত্রদল একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জিএম কাদেরের

করোনাকালে পেশা বদলেছেন ৭ ভাগ, বেকার ১৭ ভাগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

স্বল্প শিক্ষিত তরুণ মো. রায়হান। অনেক দিন ধরে ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় ওয়ার্কশপ। জীবিকার তাগিদে পরে পেশা পাল্টিয়ে ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন। মৌসুমী নানা ফলও বিক্রি করছেন মাঝে মাঝে। এভাবে গত কয়েক মাস ধরে চলছে রায়হানের জীবন চাকা।

শুধু রায়হানই নয়, এমন অসংখ্য মানুষ করোনার কষাঘাতে পেশা পাল্টাতে বাধ্য হয়েছেন। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)-এর যৌথ জরিপের তথ্য বলছে, ৭ শতাংশ মানুষ পেশা পরিবর্তন করেছেন। এই সময়ে ১৭ শতাংশ মানুষ বেকার হয়েছেন।

মঙ্গলবার পিপিআরসি ও বিআইজিডি-এর যৌথ উদ্যোগে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে এই সময়ের মধ্যে ঢাকা ছেড়ে গেছেন ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। সারাদেশে সাত হাজার ৬৩৮ জনের ওপর পরিচালিত জরিপ করে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ এখনো বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে বের হচ্ছেন। এর কোনো বিকল্প নেই। কেননা করোনা মহামারিতে সরকারি সহায়তা খুবই অপ্রতুল।

জরিপের ফলাফলে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও যাদের কাজ ছিল তারা এপ্রিল, মে ও জুন মাসে এসে বেকার হয়ে পড়ে। বেকার হওয়াদের মধ্যে আছেন নারী, অদক্ষ শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবার উপরে। গৃহকর্মী নারীদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেকার হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রতি ১০০ জনে ১৫ জনের বেশি মানুষ অন্য জেলায় চলে গেছেন। এই চলে যাওয়া হার ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সময় ধরে করা ওই গবেষণায় বলা হয়, জুনে এসে অতি দরিদ্র মানুষের আয় কমেছে ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারিতে যদি প্রতিদিন আয় হতো ১০০ টাকা, সেই আয় জুনে এসে ৩৪ টাকা কমে হয়েছে ৬৬ টাকা। এতে অতি দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হয়ে পড়েছেন। তিন বেলা খাবার জোটানোই এখন তাদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরিপে বলা হয়, করোনার শুরুতে গত এপ্রিল মাসে দেশে দারিদ্রের হার ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও জুন মাসে এসে তা দাঁড়িযেছে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ। জুন মাসে লকডাউন কিছুটা শিথিল থাকায় এপ্রিলের তুলনায় দারিদ্র এক শতাংশ কমেছে। তবে দেশে করোনার আগে সরকারি হিসাবে দারিদ্রের হার ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ।

জরিপে আরও বলা হয়, গত জুনে এসে দরিদ্রদের আয় কমেছে ৪১ শতাংশ। করোনার কারণে নতুন করে যারা দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের আয় জুনে এসে কমেছে ৪২ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বেশি আয় কমেছে রিকশা চালকদের। তাদের প্রায় ৫৪ শতাংশের আয় কমেছে, এরপরই রয়েছে ছোট ছোট ব্যবসায়ী, পরিবহন ও অদক্ষ শ্রমিকরা। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আয় কমেছে কারখানা শ্রমিকদের। এদের মধ্যে ১৬ শতাংশের কিছু বেশি কারখানা শ্রমিকের আয় কমেছে।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ এখনো বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে বের হচ্ছেন। এর কোনো বিকল্প নেই। কেননা করোনা মহামারিতে সরকারি সহায়তা খুবই অপ্রতুল।

তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে করোনার আগে দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। করোনার কারণে গত জুনে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ। এই সময়ে সরকারি সাহায্যের কথা বলা হলেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এ সময় নগদ সহায়তা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ সরকারি সহায়তা পেয়েছে। এই ১৫ শতাংশ সবাই আবার সাহায্যে পাওয়ার যোগ্য ছিল না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

করোনাকালে পেশা বদলেছেন ৭ ভাগ, বেকার ১৭ ভাগ

আপডেট সময় ০৯:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

স্বল্প শিক্ষিত তরুণ মো. রায়হান। অনেক দিন ধরে ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় ওয়ার্কশপ। জীবিকার তাগিদে পরে পেশা পাল্টিয়ে ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন। মৌসুমী নানা ফলও বিক্রি করছেন মাঝে মাঝে। এভাবে গত কয়েক মাস ধরে চলছে রায়হানের জীবন চাকা।

শুধু রায়হানই নয়, এমন অসংখ্য মানুষ করোনার কষাঘাতে পেশা পাল্টাতে বাধ্য হয়েছেন। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)-এর যৌথ জরিপের তথ্য বলছে, ৭ শতাংশ মানুষ পেশা পরিবর্তন করেছেন। এই সময়ে ১৭ শতাংশ মানুষ বেকার হয়েছেন।

মঙ্গলবার পিপিআরসি ও বিআইজিডি-এর যৌথ উদ্যোগে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে এই সময়ের মধ্যে ঢাকা ছেড়ে গেছেন ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। সারাদেশে সাত হাজার ৬৩৮ জনের ওপর পরিচালিত জরিপ করে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ এখনো বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে বের হচ্ছেন। এর কোনো বিকল্প নেই। কেননা করোনা মহামারিতে সরকারি সহায়তা খুবই অপ্রতুল।

জরিপের ফলাফলে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও যাদের কাজ ছিল তারা এপ্রিল, মে ও জুন মাসে এসে বেকার হয়ে পড়ে। বেকার হওয়াদের মধ্যে আছেন নারী, অদক্ষ শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবার উপরে। গৃহকর্মী নারীদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেকার হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রতি ১০০ জনে ১৫ জনের বেশি মানুষ অন্য জেলায় চলে গেছেন। এই চলে যাওয়া হার ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সময় ধরে করা ওই গবেষণায় বলা হয়, জুনে এসে অতি দরিদ্র মানুষের আয় কমেছে ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারিতে যদি প্রতিদিন আয় হতো ১০০ টাকা, সেই আয় জুনে এসে ৩৪ টাকা কমে হয়েছে ৬৬ টাকা। এতে অতি দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হয়ে পড়েছেন। তিন বেলা খাবার জোটানোই এখন তাদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরিপে বলা হয়, করোনার শুরুতে গত এপ্রিল মাসে দেশে দারিদ্রের হার ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও জুন মাসে এসে তা দাঁড়িযেছে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ। জুন মাসে লকডাউন কিছুটা শিথিল থাকায় এপ্রিলের তুলনায় দারিদ্র এক শতাংশ কমেছে। তবে দেশে করোনার আগে সরকারি হিসাবে দারিদ্রের হার ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ।

জরিপে আরও বলা হয়, গত জুনে এসে দরিদ্রদের আয় কমেছে ৪১ শতাংশ। করোনার কারণে নতুন করে যারা দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের আয় জুনে এসে কমেছে ৪২ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বেশি আয় কমেছে রিকশা চালকদের। তাদের প্রায় ৫৪ শতাংশের আয় কমেছে, এরপরই রয়েছে ছোট ছোট ব্যবসায়ী, পরিবহন ও অদক্ষ শ্রমিকরা। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আয় কমেছে কারখানা শ্রমিকদের। এদের মধ্যে ১৬ শতাংশের কিছু বেশি কারখানা শ্রমিকের আয় কমেছে।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ এখনো বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে বের হচ্ছেন। এর কোনো বিকল্প নেই। কেননা করোনা মহামারিতে সরকারি সহায়তা খুবই অপ্রতুল।

তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে করোনার আগে দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। করোনার কারণে গত জুনে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ। এই সময়ে সরকারি সাহায্যের কথা বলা হলেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এ সময় নগদ সহায়তা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ সরকারি সহায়তা পেয়েছে। এই ১৫ শতাংশ সবাই আবার সাহায্যে পাওয়ার যোগ্য ছিল না।