ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়াটা দুঃখজনক’:মোহাম্মদ ইউসুফ ‘বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি,আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবো না’:মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নয়, সরকার অপরাধীদের জামিনের বিরুদ্ধে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়ে ইসির নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ: নজরুল ইসলাম ৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র উত্তরণের প্রধান শর্ত: সুজন সম্পাদক ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের সমালোচনার মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন হবে না: তারেক রহমান

দ্বিগুণ ঋণ নিয়ে শুরু সরকারের নতুন অর্থবছর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সরকার বিপুল অংকের ঋণ নিয়ে জুলাই মাসে নতুন অর্থবছর শুরু করেছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ড থেকে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ ১৩০ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।

এর আগে সরকার বাজেটের ঘাটতি মেটাতে বন্ডের বিপরীতে ৭০ দশমিক ৫০ বিলিয়ন টাকা প্রি-অকশন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।

মোট ঋণের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে নিয়েছে ১৯০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন টাকা এবং ব্যক্তি ও বেসরকারি উদ্যোগ থেকে নিয়েছে ২১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ভর যোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অপর দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৮ দশমিক ৭২ বিলিয়ন টাকা সমন্বয় করার পর ২৯ জুলাই পর্যন্ত সরকারের প্রকৃত ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন টাকা।

সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, জুলাই মাসে রাজস্ব আদায় কম হওয়ার কারণে সরকার ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, সরকারের ব্যাংক ঋণ স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেক বছরের জুন-জুলাই মাসে বৃদ্ধি পায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসে সার্বিকভাবে রাজস্ব আদায় ২২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে আদায় হয়েছে ১২৩ দশমিক ৩৪৫ বিলিয়ন টাকা। আগের বছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১৫৮ দশমিক ৩৮ বিয়িলন টাকা।

জুলাই মাসে ১৯৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে ৭০ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন টাকা আদায় কম হয়েছে।

অপর দিকে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে আগস্ট মাসে ৫৮ বিলিয়ন টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারের নিলাম বর্ষপঞ্জি মতে, আগস্ট মাসে ব্যাংকিং খাত ও ট্রেজারি বন্ড থেকে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৯০ বিলিয়ন টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে সরকারি সিকিউরিটির মেয়াদ পূর্তির কারণে ১৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার কেটে নেওয়ার পরে একক মাস হিসেবে আগস্টে সরকারের ব্যাংক ঋণ ৫৮ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা মনে করেন, আগামীতে রাজস্ব আদায় না বাড়লে সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, সরকারি সিকিউরিটি তহবিলে কর্পোরেট ও ব্যক্তিখাতের অংশগ্রহণে ব্যাংকিং খাতের তহবিলের ওপর চাপ কমেছে।

তিনি আরও বলেন, বিমা কোম্পানিগুলো বিশেষ করে জীবন বিমা কোম্পানিগুলো সরকারি সিকিউরিটিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা যথেষ্ট।

চলতি অর্থবছরে ৮৪৯ দশমিক ৮০ বিলিয়ন টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৭৯ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন টাকা।

এ অবস্থায় সরকার দীর্ঘমেয়াদী বন্ড থেকে ৫৩৬ দশমিক ৫৪ কোটি টাকা এবং ট্রেজারি বিল থেকে ৩১৩ দশমিক ২৬ বিলিয়ন টাকা ঋণ নেবে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারি ঋণ সামঞ্জস্য করতে বর্তমানে নিলামের মাধ্যমে তিনটি ট্রেজারি বিল লেনদেন হচ্ছে। এছাড়াও ০২, ০৫, ১০, ১৫ এবং ২০ বছর মেয়াদী পাঁচ ধরনের সরকারি বন্ডের মাধ্যমে বাজারে লেনদেন হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি

দ্বিগুণ ঋণ নিয়ে শুরু সরকারের নতুন অর্থবছর

আপডেট সময় ১২:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সরকার বিপুল অংকের ঋণ নিয়ে জুলাই মাসে নতুন অর্থবছর শুরু করেছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ড থেকে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ ১৩০ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।

এর আগে সরকার বাজেটের ঘাটতি মেটাতে বন্ডের বিপরীতে ৭০ দশমিক ৫০ বিলিয়ন টাকা প্রি-অকশন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।

মোট ঋণের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে নিয়েছে ১৯০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন টাকা এবং ব্যক্তি ও বেসরকারি উদ্যোগ থেকে নিয়েছে ২১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ভর যোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অপর দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৮ দশমিক ৭২ বিলিয়ন টাকা সমন্বয় করার পর ২৯ জুলাই পর্যন্ত সরকারের প্রকৃত ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন টাকা।

সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, জুলাই মাসে রাজস্ব আদায় কম হওয়ার কারণে সরকার ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, সরকারের ব্যাংক ঋণ স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেক বছরের জুন-জুলাই মাসে বৃদ্ধি পায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসে সার্বিকভাবে রাজস্ব আদায় ২২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে আদায় হয়েছে ১২৩ দশমিক ৩৪৫ বিলিয়ন টাকা। আগের বছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১৫৮ দশমিক ৩৮ বিয়িলন টাকা।

জুলাই মাসে ১৯৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে ৭০ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন টাকা আদায় কম হয়েছে।

অপর দিকে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে আগস্ট মাসে ৫৮ বিলিয়ন টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারের নিলাম বর্ষপঞ্জি মতে, আগস্ট মাসে ব্যাংকিং খাত ও ট্রেজারি বন্ড থেকে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৯০ বিলিয়ন টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে সরকারি সিকিউরিটির মেয়াদ পূর্তির কারণে ১৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার কেটে নেওয়ার পরে একক মাস হিসেবে আগস্টে সরকারের ব্যাংক ঋণ ৫৮ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা মনে করেন, আগামীতে রাজস্ব আদায় না বাড়লে সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, সরকারি সিকিউরিটি তহবিলে কর্পোরেট ও ব্যক্তিখাতের অংশগ্রহণে ব্যাংকিং খাতের তহবিলের ওপর চাপ কমেছে।

তিনি আরও বলেন, বিমা কোম্পানিগুলো বিশেষ করে জীবন বিমা কোম্পানিগুলো সরকারি সিকিউরিটিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা যথেষ্ট।

চলতি অর্থবছরে ৮৪৯ দশমিক ৮০ বিলিয়ন টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৭৯ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন টাকা।

এ অবস্থায় সরকার দীর্ঘমেয়াদী বন্ড থেকে ৫৩৬ দশমিক ৫৪ কোটি টাকা এবং ট্রেজারি বিল থেকে ৩১৩ দশমিক ২৬ বিলিয়ন টাকা ঋণ নেবে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারি ঋণ সামঞ্জস্য করতে বর্তমানে নিলামের মাধ্যমে তিনটি ট্রেজারি বিল লেনদেন হচ্ছে। এছাড়াও ০২, ০৫, ১০, ১৫ এবং ২০ বছর মেয়াদী পাঁচ ধরনের সরকারি বন্ডের মাধ্যমে বাজারে লেনদেন হয়।