ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন ওষুধে সর্বোচ্চ ৩৩% পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সুযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

নতুন ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) নির্ধারণবিষয়ক জাতীয় নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। এই নীতিমালার আওতায় নতুন জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে সব ওষুধের দামই সরকারের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে থাকবে। ফলে এতদিন নতুন ওষুধ বাজারে ছাড়ার সময় কোম্পানিগুলো যে একতরফা দাম নির্ধারণ করত, সেই সুযোগ আর থাকছে না। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) প্রণীত এই নীতিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ওষুধের দাম নির্ধারণে কাঁচামাল ও সহায়ক উপাদান, প্রাথমিক প্যাকেটজাতের খরচ এবং শ্রেণিভিত্তিক মুনাফা যোগ করে একটি মানদণ্ডমূল্য নির্ধারণ করা হবে। যেহেতু প্রাথমিক প্যাকেট সরাসরি ওষুধের সংস্পর্শে থাকে, তাই সেটিকে মুনাফা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে দাম অযথা বাড়ানো ঠেকাতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের প্যাকেটজাতের ব্যয় এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীর স্বার্থ বিবেচনায় রেখে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হারে ওষুধের দাম বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

কাঁচামাল ১০০ টাকা ধরে নতুন হিসাব:
ডিজিডিএর সর্বশেষ মূল্য তালিকা অনুযায়ী, কাঁচামাল ও প্রাথমিক প্যাকেটজাতের ব্যয় ১০০ টাকা ধরে বিভিন্ন শ্রেণির ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন তালিকায় দেখা যায়, পুনঃপ্যাকেটজাত বাল্ক সার্জিক্যাল ওষুধের ক্ষেত্রে যেখানে আগে সর্বোচ্চ মূল্য ছিল এক টাকা ৫০ পয়সা, সেখানে নির্ধারণ হয়েছে দুই টাকা। তবে সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, এই নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের প্যাকেটজাতের ব্যয় যুক্ত হলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম আরও বাড়তে পারে। একইভাবে মুখে খাওয়ার ও ত্বকে ব্যবহারের অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া অন্য ওষুধের সর্বোচ্চ মূল্য দুই টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিকের সর্বোচ্চ মূল্য দুই টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে তিন টাকা ৬ পয়সা।

স্টেরাইল ও হরমোন শ্রেণিতে দাম বাড়ার হার বেশি:
নতুন নীতিমালায় সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ার সুযোগ রাখা হয়েছে স্টেরাইল ও হরমোন-স্টেরয়েড শ্রেণির ওষুধে। এই শ্রেণিতে বিদ্যমান সর্বোচ্চ মূল্য দুই টাকা ৮০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে তিন টাকা ৭২ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এসব ওষুধে সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো যাবে।

চার বছরে ধাপে ধাপে সমন্বয়:
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত এমআরপি ও নতুন মানদণ্ডমূল্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলে তা চার বছরে ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে। প্রতিবছর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো বা কমানো যাবে। দ্বিতীয় বছর থেকে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের ব্যবস্থাও যুক্ত হবে। এ ছাড়া পাঁচ বছর অন্তর পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়ন এবং দুই বছর অন্তর কাঁচামালসহ অন্য খরচ পর্যালোচনার বিধান রাখা হয়েছে।

দেশীয় কাঁচামাল উৎপাদনে নতুন শর্ত:
নীতিমালায় দেশীয় ওষুধ কাঁচামাল উৎপাদন বাড়াতে আমদানিকারকের জন্য নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে কাঁচামাল আমদানির আগে ডিজিডিএ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। তবে দেশে কোনো কাঁচামাল পর্যাপ্ত উৎপাদিত না হলে বা দেশীয় কাঁচামালের দাম আন্তর্জাতিক দরের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি হলে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরবরাহ বাধ্যতামূলক:
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ওষুধ কোম্পানিকে তাদের মোট বার্ষিক বিক্রয়ের অন্তত ২৫ শতাংশ মূল্যের সমপরিমাণ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বাজারে সরবরাহ করতে হবে। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নতুন ওষুধের অনুমোদন স্থগিত রাখার বিধানও রাখা হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা ওষুধের ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজেরা খুচরা মূল্যের প্রস্তাব দেবে, যা ডিজিডিএ অনুমোদন করবে।

যদি কোনো ওষুধ সাত বা তার বেশি কোম্পানি উৎপাদন করে, তবে অভ্যন্তরীণ তুলনামূলক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে বাজারে প্রচলিত দামের মধ্যম মানকে মানদণ্ড ধরা হবে। আর যদি সাতটির কম কোম্পানি উৎপাদন করে, তাহলে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের মধ্যে যেটি কম, সেটিই কার্যকর হবে। সব ক্ষেত্রেই অনুমোদিত খুচরা মূল্য মানদণ্ড দামের ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। আমদানি করা ওষুধের ক্ষেত্রে আমদানি মূল্য, বর্তমান বিনিময় হার এবং পূর্বনির্ধারিত মুনাফার হার বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করা হবে।

শিল্প ও ভোক্তা অধিকার নিয়ে ভিন্নমত:
নীতিমালাকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে ৮ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান বলেছিলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। এসব ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ তালিকা-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সদস্য সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৯৪ সালের পর এসব ওষুধের দামে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমন্বয় হয়নি। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়েছিল। তাঁর মতে, নতুন ফর্মুলাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ কার্যকর হলে বাজারে ওষুধের সহজলভ্যতা বাড়বে এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত হবে। তবে সরকারকে দেখতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং ভোক্তারাও ভালো মানের ওষুধ পায়।

অন্যদিকে, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ করেছে, নীতিমালা প্রণয়নে শিল্প খাতকে যথাযথ সম্পৃক্ত করা হয়নি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নীতিমালাটি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে অনেক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক পরামর্শক মো. আবু জাফর সাদেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দামের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ গুণগত মান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাব। অযৌক্তিক দাম নির্ধারণ হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ দাম বাড়ানোর সুযোগ ৩৮ বছর পর দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত দাম সমন্বয় না হলে টেকসইভাবে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন ওষুধে সর্বোচ্চ ৩৩% পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সুযোগ

আপডেট সময় ১১:২৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

নতুন ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) নির্ধারণবিষয়ক জাতীয় নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। এই নীতিমালার আওতায় নতুন জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে সব ওষুধের দামই সরকারের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে থাকবে। ফলে এতদিন নতুন ওষুধ বাজারে ছাড়ার সময় কোম্পানিগুলো যে একতরফা দাম নির্ধারণ করত, সেই সুযোগ আর থাকছে না। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) প্রণীত এই নীতিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ওষুধের দাম নির্ধারণে কাঁচামাল ও সহায়ক উপাদান, প্রাথমিক প্যাকেটজাতের খরচ এবং শ্রেণিভিত্তিক মুনাফা যোগ করে একটি মানদণ্ডমূল্য নির্ধারণ করা হবে। যেহেতু প্রাথমিক প্যাকেট সরাসরি ওষুধের সংস্পর্শে থাকে, তাই সেটিকে মুনাফা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে দাম অযথা বাড়ানো ঠেকাতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের প্যাকেটজাতের ব্যয় এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীর স্বার্থ বিবেচনায় রেখে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হারে ওষুধের দাম বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

কাঁচামাল ১০০ টাকা ধরে নতুন হিসাব:
ডিজিডিএর সর্বশেষ মূল্য তালিকা অনুযায়ী, কাঁচামাল ও প্রাথমিক প্যাকেটজাতের ব্যয় ১০০ টাকা ধরে বিভিন্ন শ্রেণির ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন তালিকায় দেখা যায়, পুনঃপ্যাকেটজাত বাল্ক সার্জিক্যাল ওষুধের ক্ষেত্রে যেখানে আগে সর্বোচ্চ মূল্য ছিল এক টাকা ৫০ পয়সা, সেখানে নির্ধারণ হয়েছে দুই টাকা। তবে সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, এই নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের প্যাকেটজাতের ব্যয় যুক্ত হলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম আরও বাড়তে পারে। একইভাবে মুখে খাওয়ার ও ত্বকে ব্যবহারের অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া অন্য ওষুধের সর্বোচ্চ মূল্য দুই টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিকের সর্বোচ্চ মূল্য দুই টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে তিন টাকা ৬ পয়সা।

স্টেরাইল ও হরমোন শ্রেণিতে দাম বাড়ার হার বেশি:
নতুন নীতিমালায় সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ার সুযোগ রাখা হয়েছে স্টেরাইল ও হরমোন-স্টেরয়েড শ্রেণির ওষুধে। এই শ্রেণিতে বিদ্যমান সর্বোচ্চ মূল্য দুই টাকা ৮০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে তিন টাকা ৭২ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এসব ওষুধে সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো যাবে।

চার বছরে ধাপে ধাপে সমন্বয়:
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত এমআরপি ও নতুন মানদণ্ডমূল্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলে তা চার বছরে ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে। প্রতিবছর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো বা কমানো যাবে। দ্বিতীয় বছর থেকে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের ব্যবস্থাও যুক্ত হবে। এ ছাড়া পাঁচ বছর অন্তর পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়ন এবং দুই বছর অন্তর কাঁচামালসহ অন্য খরচ পর্যালোচনার বিধান রাখা হয়েছে।

দেশীয় কাঁচামাল উৎপাদনে নতুন শর্ত:
নীতিমালায় দেশীয় ওষুধ কাঁচামাল উৎপাদন বাড়াতে আমদানিকারকের জন্য নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে কাঁচামাল আমদানির আগে ডিজিডিএ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। তবে দেশে কোনো কাঁচামাল পর্যাপ্ত উৎপাদিত না হলে বা দেশীয় কাঁচামালের দাম আন্তর্জাতিক দরের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি হলে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরবরাহ বাধ্যতামূলক:
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ওষুধ কোম্পানিকে তাদের মোট বার্ষিক বিক্রয়ের অন্তত ২৫ শতাংশ মূল্যের সমপরিমাণ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বাজারে সরবরাহ করতে হবে। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নতুন ওষুধের অনুমোদন স্থগিত রাখার বিধানও রাখা হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা ওষুধের ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজেরা খুচরা মূল্যের প্রস্তাব দেবে, যা ডিজিডিএ অনুমোদন করবে।

যদি কোনো ওষুধ সাত বা তার বেশি কোম্পানি উৎপাদন করে, তবে অভ্যন্তরীণ তুলনামূলক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে বাজারে প্রচলিত দামের মধ্যম মানকে মানদণ্ড ধরা হবে। আর যদি সাতটির কম কোম্পানি উৎপাদন করে, তাহলে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের মধ্যে যেটি কম, সেটিই কার্যকর হবে। সব ক্ষেত্রেই অনুমোদিত খুচরা মূল্য মানদণ্ড দামের ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। আমদানি করা ওষুধের ক্ষেত্রে আমদানি মূল্য, বর্তমান বিনিময় হার এবং পূর্বনির্ধারিত মুনাফার হার বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করা হবে।

শিল্প ও ভোক্তা অধিকার নিয়ে ভিন্নমত:
নীতিমালাকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে ৮ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান বলেছিলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। এসব ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ তালিকা-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সদস্য সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৯৪ সালের পর এসব ওষুধের দামে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমন্বয় হয়নি। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়েছিল। তাঁর মতে, নতুন ফর্মুলাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ কার্যকর হলে বাজারে ওষুধের সহজলভ্যতা বাড়বে এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত হবে। তবে সরকারকে দেখতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং ভোক্তারাও ভালো মানের ওষুধ পায়।

অন্যদিকে, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ করেছে, নীতিমালা প্রণয়নে শিল্প খাতকে যথাযথ সম্পৃক্ত করা হয়নি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নীতিমালাটি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে অনেক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক পরামর্শক মো. আবু জাফর সাদেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দামের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ গুণগত মান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাব। অযৌক্তিক দাম নির্ধারণ হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ দাম বাড়ানোর সুযোগ ৩৮ বছর পর দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত দাম সমন্বয় না হলে টেকসইভাবে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হবে।