ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

সবকিছু স্বাভাবিক, করোনা যেন নেই!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রাজধানীর জীবনযাত্রা এবং সার্বিক পরিবেশ এখন বেশ স্বাভাবিক। প্রাণঘাতী ভাইরাস ‘কোভিড-১৯’ নামে কিছু একটা যে আছে তা আর আলাদা করে প্রভাব ফেলছে না জনমনে।

ভাবনাটা এমন, তারা হয়তো আক্রান্ত হয়েছেন অথবা হবেন। এটা নিয়ে আলাদা করে চিন্তার কী আছে!
মার্চের শুরুর দিকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের পর সতর্কতা অবলম্বন করার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল তা আর নেই। সময়ের পরিক্রমায় অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে গতিশীল করা হয়েছে সবকিছুকে। উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘সাধারণ ছুটি’। খুলে দেওয়া হয়েছে শপিং মল, রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল। চলতে শুরু করেছে গণপরিবহন। আগের মতো ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন অফিস এবং কলকারখানাগুলো।

গেল সপ্তাহে সচিবালয়সহ সব সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিতভাবে অফিস করতে বলা হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোথাও তেমন একটা হচ্ছে না হোম অফিস। রাজধানীর সড়ক, ফুটপাত এমনকি ফুটওভার ব্রিজগুলোতে দেখা যায় সেই চিরচেনা ভিড়।

অফিস, কলকারখানা খুলে যাওয়ায় রাজধানীতে কর্মমুখী মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় আর রাতে অফিস থেকে বাসায় ফেরার যাত্রায় বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। আর গণপরিবহনে যে শারীরিক দূরত্ব মানার কথা ছিল সেটাও যেন এক মরীচিকা। শপিং মলগুলোতে এখন আর সেভাবে দেখা যায় না স্বাস্থ্যবিধি তথা শারীরিক দূরত্ব মানার প্রবণতা। হোটেল, রেস্তোরাঁগুলোর অবস্থাও একই। গেটের বাইরে ন্যূনতম হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা জীবাণুনাশকও এখন আর প্রয়োগ হচ্ছে না অনেক স্থানেই। টং দোকানগুলো আবারও সেই আগের মতো ঝড় উঠছে চায়ের কাপে।

কেন এমনটা হচ্ছে, তা জানতে কথা বলা হয় কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে। তাদের ভাষ্য হলো, করোনাকে নিয়েই যে জীবনের চাকা চালিয়ে যেতে হবে সেটা তারা একরকম বুঝে গেছেন। আর তাই সেভাবেই নিজেদের মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন।

রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা মোড়গামী সড়কে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে। ফলে প্রধান সড়কের পাশাপাশি ফুটপাত হয়ে এসেছে সরু। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে ফুটপাতে বেশ জটলার মাঝেই হেঁটে যেতে দেখা যায় পথচারীদের।

শারীরিক দূরত্ব নেই কিন্তু আছে ঝুঁকি তবুও কেন হাঁটছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক চাকরিজীবী ইমন আশরাফ বলেন, এভাবেই এখন থেকে চলতে হবে। অফিস তো করতে হবে। মাস্ক আছে, আগে তো গ্লাভস আর পিপিই পরতাম অনেক সময়। এখন তাও পরি না। এই করোনা নিয়েই চলতে হবে। এখন কেউ কেউ হ্যান্ডশেকও করছেন। কিছুদিন পর দেখবেন মানুষ কোলাকুলিও করতেছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সুমন মীর বলেন, আগে অফিসে সবাই পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক পরে আসতো। আমি নিজেও যেতাম। এখন শুধু মাস্ক পরি আমরা। কেউ কেউ হয়তো গ্লাভস আর ফেস শিল্ড পরে। কিন্তু সতর্কতা আর স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি এখন আর সেভাবে নেই। আমরা চারপাশ থেকে এটাই শুনছি যে, আমাদের এর মাঝেই থাকতে হবে। হয় করোনা আমাদের কারও কারও হয়ে গেছে আমরা হয়তো অনেকে জানিও না। যদি না হয়ে থাকে তবে হবে। দুঃখ একটাই যে, শুধু করোনা না, কোনো রোগের জন্যই আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আমার মতো মধ্যবিত্তদের জন্য ভালো কিছু রাখেনি।

রাজধানীর হাতিরঝিলে ঝিলকুটুম নামের একটি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আনন্দ কুটুম বলেন, করোনার ঠিক আগে আগে রেস্টুরেন্ট চালু করেছিলাম। করোনার কারণে এতদিন সব বন্ধ ছিল। দুই তিন সপ্তাহ হলো আবার চালু করেছি। রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত অতিথি থাকে আমাদের। রেস্টুরেন্ট চালু করার আগে চিন্তায় ছিলাম। এখন আর সেভাবে চিন্তা হচ্ছে না। মানুষ এখন আবার তাদের নিয়মিত জীবনে ফিরে যাচ্ছে। সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

সবকিছু স্বাভাবিক, করোনা যেন নেই!

আপডেট সময় ০৬:১৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রাজধানীর জীবনযাত্রা এবং সার্বিক পরিবেশ এখন বেশ স্বাভাবিক। প্রাণঘাতী ভাইরাস ‘কোভিড-১৯’ নামে কিছু একটা যে আছে তা আর আলাদা করে প্রভাব ফেলছে না জনমনে।

ভাবনাটা এমন, তারা হয়তো আক্রান্ত হয়েছেন অথবা হবেন। এটা নিয়ে আলাদা করে চিন্তার কী আছে!
মার্চের শুরুর দিকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের পর সতর্কতা অবলম্বন করার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল তা আর নেই। সময়ের পরিক্রমায় অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে গতিশীল করা হয়েছে সবকিছুকে। উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘সাধারণ ছুটি’। খুলে দেওয়া হয়েছে শপিং মল, রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল। চলতে শুরু করেছে গণপরিবহন। আগের মতো ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন অফিস এবং কলকারখানাগুলো।

গেল সপ্তাহে সচিবালয়সহ সব সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিতভাবে অফিস করতে বলা হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোথাও তেমন একটা হচ্ছে না হোম অফিস। রাজধানীর সড়ক, ফুটপাত এমনকি ফুটওভার ব্রিজগুলোতে দেখা যায় সেই চিরচেনা ভিড়।

অফিস, কলকারখানা খুলে যাওয়ায় রাজধানীতে কর্মমুখী মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় আর রাতে অফিস থেকে বাসায় ফেরার যাত্রায় বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। আর গণপরিবহনে যে শারীরিক দূরত্ব মানার কথা ছিল সেটাও যেন এক মরীচিকা। শপিং মলগুলোতে এখন আর সেভাবে দেখা যায় না স্বাস্থ্যবিধি তথা শারীরিক দূরত্ব মানার প্রবণতা। হোটেল, রেস্তোরাঁগুলোর অবস্থাও একই। গেটের বাইরে ন্যূনতম হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা জীবাণুনাশকও এখন আর প্রয়োগ হচ্ছে না অনেক স্থানেই। টং দোকানগুলো আবারও সেই আগের মতো ঝড় উঠছে চায়ের কাপে।

কেন এমনটা হচ্ছে, তা জানতে কথা বলা হয় কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে। তাদের ভাষ্য হলো, করোনাকে নিয়েই যে জীবনের চাকা চালিয়ে যেতে হবে সেটা তারা একরকম বুঝে গেছেন। আর তাই সেভাবেই নিজেদের মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন।

রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা মোড়গামী সড়কে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে। ফলে প্রধান সড়কের পাশাপাশি ফুটপাত হয়ে এসেছে সরু। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে ফুটপাতে বেশ জটলার মাঝেই হেঁটে যেতে দেখা যায় পথচারীদের।

শারীরিক দূরত্ব নেই কিন্তু আছে ঝুঁকি তবুও কেন হাঁটছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক চাকরিজীবী ইমন আশরাফ বলেন, এভাবেই এখন থেকে চলতে হবে। অফিস তো করতে হবে। মাস্ক আছে, আগে তো গ্লাভস আর পিপিই পরতাম অনেক সময়। এখন তাও পরি না। এই করোনা নিয়েই চলতে হবে। এখন কেউ কেউ হ্যান্ডশেকও করছেন। কিছুদিন পর দেখবেন মানুষ কোলাকুলিও করতেছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সুমন মীর বলেন, আগে অফিসে সবাই পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক পরে আসতো। আমি নিজেও যেতাম। এখন শুধু মাস্ক পরি আমরা। কেউ কেউ হয়তো গ্লাভস আর ফেস শিল্ড পরে। কিন্তু সতর্কতা আর স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি এখন আর সেভাবে নেই। আমরা চারপাশ থেকে এটাই শুনছি যে, আমাদের এর মাঝেই থাকতে হবে। হয় করোনা আমাদের কারও কারও হয়ে গেছে আমরা হয়তো অনেকে জানিও না। যদি না হয়ে থাকে তবে হবে। দুঃখ একটাই যে, শুধু করোনা না, কোনো রোগের জন্যই আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আমার মতো মধ্যবিত্তদের জন্য ভালো কিছু রাখেনি।

রাজধানীর হাতিরঝিলে ঝিলকুটুম নামের একটি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আনন্দ কুটুম বলেন, করোনার ঠিক আগে আগে রেস্টুরেন্ট চালু করেছিলাম। করোনার কারণে এতদিন সব বন্ধ ছিল। দুই তিন সপ্তাহ হলো আবার চালু করেছি। রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত অতিথি থাকে আমাদের। রেস্টুরেন্ট চালু করার আগে চিন্তায় ছিলাম। এখন আর সেভাবে চিন্তা হচ্ছে না। মানুষ এখন আবার তাদের নিয়মিত জীবনে ফিরে যাচ্ছে। সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে আসছে।