ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়াটা দুঃখজনক’:মোহাম্মদ ইউসুফ ‘বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি,আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবো না’:মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নয়, সরকার অপরাধীদের জামিনের বিরুদ্ধে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়ে ইসির নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ: নজরুল ইসলাম ৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র উত্তরণের প্রধান শর্ত: সুজন সম্পাদক ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের সমালোচনার মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন হবে না: তারেক রহমান

পরামর্শকেই যাচ্ছে ২৪ কোটি টাকা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিশ্বব্যাংকের ‘ইমার্জেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স’ প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শকের পকেটেই যাচ্ছে ২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ৫৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের অনুদান থেকে ৫৯৫ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরামর্শক খাতে যাচ্ছে মোট ব্যয়ের ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- পূর্ত কাজের জন্য জনদিবসভিত্তিক শ্রমের ব্যবস্থা করা (বছরে জনপ্রতি ৯০ দিন)। ভূমিক্ষয় রোধে ক্যাম্পের জমিতে দেশীয় ঘাস রোপণ ও সংরক্ষণ করা। এ ছাড়া ভূমিধস, বন্যা ও ভূমিক্ষয় রোধে ক্যাম্পের ঢালু জমির ঢাল রক্ষণাবেক্ষণ, পায়ে চলার পথে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা। পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ, ক্যাম্প এলাকার পানি নিষ্কাশন, নারীদের জন্য শ্রমদিবসের ব্যবস্থা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কাজসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা।

অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মোট প্রকল্প ব্যয় ও পরামর্শক খাতের ব্যয় বাড়িয়ে সংশোধনী প্রস্তাব করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এটির সংশোধনী প্রস্তাবসহ ৬টি উন্নয়ন প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগহ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের অনুদানে বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং এসব বিষয়ে (পরামর্শক) খুব বেশি নেগোসিয়েশনের সুযোগ থাকে না। তাছাড়া ইআরডির সঙ্গে শুরুতেই প্রজেক্ট অ্যাপ্রাইজাল ডকুমেন্ট (প্যাড) নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যায়। তাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় খুব বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই। তবে পরামর্শকের প্রয়োজন আছে বলেই হয়তো তারা এই খাতে বরাদ্দ রেখেছে।

প্রকল্পটির ব্যয় বিভাজন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মূল অনুমোদিত প্রকল্পটিতে ১০ জন ব্যক্তি পরামর্শকের জন্য ১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা আছে। এখন পরামর্শকের সংখ্যা ঠিক থাকলেও তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা বাড়িয়ে এ খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে খরচ বাড়ছে দুই দশমিক ৩১ শতাংশ। এ ছাড়া চারটি পরামর্শক ফার্মের জন্য বরাদ্দ রয়েছে আট কোটি সাত লাখ টাকা। এখন দুই কোটি টাকা বাড়িয়ে ১০ কোটি সাত লাখ টাকা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ছে এক দশমিক ৬৮ শতাংশ।

ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক উইংয়ের প্রধান শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, এ ক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের পরামর্শকই নিয়োগ দেয়া হতে পারে। সাধারণত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়। ফলে সেখানে দেশীয় পরামর্শকরাও প্রতিযোগিতা করতে পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরামর্শক তো লাগেই।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ছিল ৩৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এখন ২৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ৫৯৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া এটি বাস্তবায়নের সময় ধরা হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত। এখন ২২ মাস বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। প্রকল্পটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় চলমান। প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে ১৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০১ শতাংশ। এ ছাড়া বাস্তব অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহেরি এ মাহবুব বলেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরামর্শকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম ইত্যাদি কম্পোনেন্টের জন্য পরামর্শক প্রয়োজন। তাছাড়া সাইক্লোন শেল্টার তৈরি, পাহাড়গুলো রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি কাজের জন্য স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের প্রয়োজন। মাঝে মাঝে গবেষণারও প্রয়োজন হয়। এ জন্য পরামর্শক দরকার।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চরম সহিংসতা শুরু হয়। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের আনুমানিক ৭ লাখ লোক বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করে কক্সবাজার জেলায় অনুপ্রবেশে বাধ্য হয়েছেন। পুরনো ও নতুন মিলিয়ে প্রায় ১০-১১ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বসতি স্থাপন করেছে। এদের তরুণ ও যুবকদের কোনো উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত না করতে পারলে বিভিন্ন বিপথগামী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ দেশীয়দের কলুষিত করতে পারে। এ জন্য রোহিঙ্গাদের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান সেবাগুলোর মান উন্নীতকরণ ও ক্যাম্পের জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশ্বব্যাংকের অনুদান সহায়তায় প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর অনুমোদন দেয় একনেক। মূল প্রকল্পের অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গত বছরের ৮ মে চার কোটি ডলারের অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এখন আবার নতুন করে অতিরিক্ত তিন কোটি ডলার অনুদান দিতে গত ২ এপ্রিল সম্মতি দেয় বিশ্বব্যাংক। ফলে প্রকল্পটি সংশোধন করতে হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি

পরামর্শকেই যাচ্ছে ২৪ কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৬:০২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিশ্বব্যাংকের ‘ইমার্জেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স’ প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শকের পকেটেই যাচ্ছে ২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ৫৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের অনুদান থেকে ৫৯৫ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরামর্শক খাতে যাচ্ছে মোট ব্যয়ের ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- পূর্ত কাজের জন্য জনদিবসভিত্তিক শ্রমের ব্যবস্থা করা (বছরে জনপ্রতি ৯০ দিন)। ভূমিক্ষয় রোধে ক্যাম্পের জমিতে দেশীয় ঘাস রোপণ ও সংরক্ষণ করা। এ ছাড়া ভূমিধস, বন্যা ও ভূমিক্ষয় রোধে ক্যাম্পের ঢালু জমির ঢাল রক্ষণাবেক্ষণ, পায়ে চলার পথে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা। পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ, ক্যাম্প এলাকার পানি নিষ্কাশন, নারীদের জন্য শ্রমদিবসের ব্যবস্থা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কাজসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা।

অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মোট প্রকল্প ব্যয় ও পরামর্শক খাতের ব্যয় বাড়িয়ে সংশোধনী প্রস্তাব করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এটির সংশোধনী প্রস্তাবসহ ৬টি উন্নয়ন প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগহ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের অনুদানে বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং এসব বিষয়ে (পরামর্শক) খুব বেশি নেগোসিয়েশনের সুযোগ থাকে না। তাছাড়া ইআরডির সঙ্গে শুরুতেই প্রজেক্ট অ্যাপ্রাইজাল ডকুমেন্ট (প্যাড) নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যায়। তাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় খুব বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই। তবে পরামর্শকের প্রয়োজন আছে বলেই হয়তো তারা এই খাতে বরাদ্দ রেখেছে।

প্রকল্পটির ব্যয় বিভাজন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মূল অনুমোদিত প্রকল্পটিতে ১০ জন ব্যক্তি পরামর্শকের জন্য ১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা আছে। এখন পরামর্শকের সংখ্যা ঠিক থাকলেও তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা বাড়িয়ে এ খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে খরচ বাড়ছে দুই দশমিক ৩১ শতাংশ। এ ছাড়া চারটি পরামর্শক ফার্মের জন্য বরাদ্দ রয়েছে আট কোটি সাত লাখ টাকা। এখন দুই কোটি টাকা বাড়িয়ে ১০ কোটি সাত লাখ টাকা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ছে এক দশমিক ৬৮ শতাংশ।

ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক উইংয়ের প্রধান শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, এ ক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের পরামর্শকই নিয়োগ দেয়া হতে পারে। সাধারণত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়। ফলে সেখানে দেশীয় পরামর্শকরাও প্রতিযোগিতা করতে পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরামর্শক তো লাগেই।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ছিল ৩৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এখন ২৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ৫৯৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া এটি বাস্তবায়নের সময় ধরা হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত। এখন ২২ মাস বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। প্রকল্পটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় চলমান। প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে ১৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০১ শতাংশ। এ ছাড়া বাস্তব অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহেরি এ মাহবুব বলেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরামর্শকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম ইত্যাদি কম্পোনেন্টের জন্য পরামর্শক প্রয়োজন। তাছাড়া সাইক্লোন শেল্টার তৈরি, পাহাড়গুলো রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি কাজের জন্য স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের প্রয়োজন। মাঝে মাঝে গবেষণারও প্রয়োজন হয়। এ জন্য পরামর্শক দরকার।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চরম সহিংসতা শুরু হয়। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের আনুমানিক ৭ লাখ লোক বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করে কক্সবাজার জেলায় অনুপ্রবেশে বাধ্য হয়েছেন। পুরনো ও নতুন মিলিয়ে প্রায় ১০-১১ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বসতি স্থাপন করেছে। এদের তরুণ ও যুবকদের কোনো উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত না করতে পারলে বিভিন্ন বিপথগামী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ দেশীয়দের কলুষিত করতে পারে। এ জন্য রোহিঙ্গাদের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান সেবাগুলোর মান উন্নীতকরণ ও ক্যাম্পের জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশ্বব্যাংকের অনুদান সহায়তায় প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর অনুমোদন দেয় একনেক। মূল প্রকল্পের অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গত বছরের ৮ মে চার কোটি ডলারের অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এখন আবার নতুন করে অতিরিক্ত তিন কোটি ডলার অনুদান দিতে গত ২ এপ্রিল সম্মতি দেয় বিশ্বব্যাংক। ফলে প্রকল্পটি সংশোধন করতে হচ্ছে।