ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল

শেষ ঠিকানা মাটিতেই

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূল ছিলেন অতুলনীয়, অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

হায়! আমরা যদি তার পবিত্র জীবনাদর্শ অনুসরণ করতাম তাহলে পৃথিবীর বুকে মর্যাদাময় জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারতাম। প্রিয়নবী (সা.) বিধর্মীদের সম্মান করতেন। এমনকি তাদের লাশের সম্মানে দাঁড়িয়ে পর্যন্ত উম্মতকে শিখিয়েছেন মানবতা কাকে বলে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি মানুষকে মরণ দেন এবং তিনিই মানুষের কবরের জীবন সাজিয়ে দেন।’ (সূরা আবাসা, আয়াত ২১।)

আস্তিক-নাস্তিক, মুসলিম-অমুসলিম সবার শেষ ঠিকানা মাটিতেই হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় মতবিরোধ সত্ত্বেও আল্লাহতায়ালাই সবাইকে পরম যত্নে লালন-পালন করছেন। বিশ্বাসের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে একই আকাশের বৃষ্টি থেকে রিজিক দেন। একই সূর্যের আলো নিয়ে সবাই বেঁচে থাকেন।

একই কাদামাটিতে সবাই চাষাবাদ করে ফসল ফলায়। মহান আল্লাহর দয়ার এ সার্বজনীনতা আমাদের শেখায়, আমরাও যেন আপন-পর, শত্রু-মিত্র সবাইকে পরম যত্নে ভালোবাসতে পারি। কাউকেই ঘৃণার চোখে, বিদ্বেষের চোখে না দেখি।

খাতামুল আম্বিয়া হজরত রাসূলুল্লাহও (সা.) ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। ইসলামের ঘোরতর শত্রু ও কাফেরের লাশকেও তিনি (সা.) সম্মান প্রদর্শন করেছেন।

একবার হজরত সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.) ও হজরত কায়স ইবনে সাদ (রা.) কাদসিয়াতে বসা ছিলেন, তখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হল, এটা এ দেশীয় অমুসলিম জিম্মি ব্যক্তির জানাজা।

তখন এ সাহাবি (রা.) বললেন, ‘একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দিয়েও একটি জানাজা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হয়েছিল, এটা তো এক ইহুদির জানাজা। তিনি ইরশাদ করেছিলেন, সে কি একজন মানুষ নয়?’ (বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ, হাদিস নম্বর ১২৩৪)।

অন্য একটি হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) ‘প্রতিটি মানব শিশু মুসলমান হয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান অথবা অগ্নি-উপাসক বানায়।’ (বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ, হাদিস নম্বর ১৩০২)।

আমার প্রিয়নবী (সা.) শুধু মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনই করেননি বরং মৃতদের গালমন্দ, লাশের অসম্মান, তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করাকে গোনাহর কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি (সা.) বলেন, ‘তোমরা মৃতদের গালমন্দ করো না, তারা যা করেছে তারা তা পেয়ে গেছে।’ (বুখারি)।

আমাদের প্রিয়নবী (সা.) সব ক্ষেত্রেই মানবতার অতুলনীয় দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার উম্মত হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তার (সা.) অতুলনীয় জীবনাদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করা। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের হাতে এমন কোনো কাজ যেন সংঘটিত না হয় যার ফলে নবীজী (সা.) কষ্ট পান। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে নবুওয়াতি শিক্ষার আলোকে জীবন পরিচালনার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জাপানের সহায়তায় উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত শেষ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

শেষ ঠিকানা মাটিতেই

আপডেট সময় ১১:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূল ছিলেন অতুলনীয়, অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

হায়! আমরা যদি তার পবিত্র জীবনাদর্শ অনুসরণ করতাম তাহলে পৃথিবীর বুকে মর্যাদাময় জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারতাম। প্রিয়নবী (সা.) বিধর্মীদের সম্মান করতেন। এমনকি তাদের লাশের সম্মানে দাঁড়িয়ে পর্যন্ত উম্মতকে শিখিয়েছেন মানবতা কাকে বলে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি মানুষকে মরণ দেন এবং তিনিই মানুষের কবরের জীবন সাজিয়ে দেন।’ (সূরা আবাসা, আয়াত ২১।)

আস্তিক-নাস্তিক, মুসলিম-অমুসলিম সবার শেষ ঠিকানা মাটিতেই হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় মতবিরোধ সত্ত্বেও আল্লাহতায়ালাই সবাইকে পরম যত্নে লালন-পালন করছেন। বিশ্বাসের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে একই আকাশের বৃষ্টি থেকে রিজিক দেন। একই সূর্যের আলো নিয়ে সবাই বেঁচে থাকেন।

একই কাদামাটিতে সবাই চাষাবাদ করে ফসল ফলায়। মহান আল্লাহর দয়ার এ সার্বজনীনতা আমাদের শেখায়, আমরাও যেন আপন-পর, শত্রু-মিত্র সবাইকে পরম যত্নে ভালোবাসতে পারি। কাউকেই ঘৃণার চোখে, বিদ্বেষের চোখে না দেখি।

খাতামুল আম্বিয়া হজরত রাসূলুল্লাহও (সা.) ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। ইসলামের ঘোরতর শত্রু ও কাফেরের লাশকেও তিনি (সা.) সম্মান প্রদর্শন করেছেন।

একবার হজরত সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.) ও হজরত কায়স ইবনে সাদ (রা.) কাদসিয়াতে বসা ছিলেন, তখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হল, এটা এ দেশীয় অমুসলিম জিম্মি ব্যক্তির জানাজা।

তখন এ সাহাবি (রা.) বললেন, ‘একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দিয়েও একটি জানাজা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হয়েছিল, এটা তো এক ইহুদির জানাজা। তিনি ইরশাদ করেছিলেন, সে কি একজন মানুষ নয়?’ (বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ, হাদিস নম্বর ১২৩৪)।

অন্য একটি হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) ‘প্রতিটি মানব শিশু মুসলমান হয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান অথবা অগ্নি-উপাসক বানায়।’ (বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ, হাদিস নম্বর ১৩০২)।

আমার প্রিয়নবী (সা.) শুধু মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনই করেননি বরং মৃতদের গালমন্দ, লাশের অসম্মান, তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করাকে গোনাহর কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি (সা.) বলেন, ‘তোমরা মৃতদের গালমন্দ করো না, তারা যা করেছে তারা তা পেয়ে গেছে।’ (বুখারি)।

আমাদের প্রিয়নবী (সা.) সব ক্ষেত্রেই মানবতার অতুলনীয় দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার উম্মত হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তার (সা.) অতুলনীয় জীবনাদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করা। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের হাতে এমন কোনো কাজ যেন সংঘটিত না হয় যার ফলে নবীজী (সা.) কষ্ট পান। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে নবুওয়াতি শিক্ষার আলোকে জীবন পরিচালনার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক