ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

বিপর্যস্ত অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতি মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগবে।

করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বাইরে কম সুদে সব খাতের টাকার জোগান বাড়াতে হবে।

দেশের অর্থনৈতিক হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ত্রৈমাসিক : জানুয়ারি-মার্চ ২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব মন্তব্য করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারের আর্থিক এবং রাজস্ব নীতি ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি কমাতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, করোনার আগে দেশের সার্বিক অর্থনীতির অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছিল।

কিন্তু করোনায় বিশ্ব অর্থনীতির গতি যেমন থমকে গেছে, তেমনই দেশের অর্থনীতিও স্লথ হয়ে পড়ে। এতে পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়। সব মিলে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ার কারণে টাকার চলাচলও স্তিমিত হয়ে পড়ে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি থেমে যায়।

অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির বিভিন্ন সূচকের হিসাব রাখার স্বার্থে পুরো অর্থবছরকে তিন মাস করে চার ভাগে ভাগ করা হয়। প্রতি একটি ভাগকে বলা হয় কোয়ার্টার বা প্রান্তিক। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বর প্রান্তিকে অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছিল।

কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে চীনে করোনার বিস্তার ব্যাপক হওয়ায় বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। মার্চে এর প্রভাব আরও প্রকট হয়। যে কারণে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকেই দেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের অর্থনীতির সূচকগুলোর তথ্য পাওয়া গেলে দেখা যাবে করোনার আঘাত আরও কঠিন হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার প্রভাবে চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে রফতানি আয় ও আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধিতে মন্দা দেখা দেয়। দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের হোঁচট খায়। এই অবস্থায় বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

বিশ্বব্যাপী অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম পড়ে যায়। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম অর্ধেকে নেমে যায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের তেলনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে মারাত্মক ধস নামে। তেল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর আয় কমে যায়। ফলে অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ী অর্থবছরের শুরুর প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়েই শিল্প উৎপাদনের গতি ছিল নিুমুখী। পরের দুই প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে সামান্য বেড়েছে।

বিদায়ী অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে যোগাযোগ খাতের কার্যক্রম ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমেছে। কমেছে অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যও। প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার প্রভাবে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে মূল্যস্ফীতির হার সামান্য বেড়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্যবহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতির হার। তবে খাদ্য খাতের মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, করোনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি স্তিমিত হয়ে পড়ায় বাজারে টাকার চাহিদা কমে যায়। ফলে টাকার প্রবাহও কমে যায়। টাকার

প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ শতাংশ। সেটি গত প্রান্তিকে বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি। ওই সময়ে সরকারি খাতে টাকার প্রবাহ বেড়েছে এ খাতের ঋণের চাহিদা বাড়ায়।

সরকারের রাজস্ব আয় কম হওয়ার কারণে ঋণের চাহিদা বেড়েছে। ফলে গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি ঋণ নিতে হয়েছে। এদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

বিপর্যস্ত অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে

আপডেট সময় ০৭:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতি মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগবে।

করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বাইরে কম সুদে সব খাতের টাকার জোগান বাড়াতে হবে।

দেশের অর্থনৈতিক হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ত্রৈমাসিক : জানুয়ারি-মার্চ ২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব মন্তব্য করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারের আর্থিক এবং রাজস্ব নীতি ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি কমাতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, করোনার আগে দেশের সার্বিক অর্থনীতির অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছিল।

কিন্তু করোনায় বিশ্ব অর্থনীতির গতি যেমন থমকে গেছে, তেমনই দেশের অর্থনীতিও স্লথ হয়ে পড়ে। এতে পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়। সব মিলে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ার কারণে টাকার চলাচলও স্তিমিত হয়ে পড়ে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি থেমে যায়।

অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির বিভিন্ন সূচকের হিসাব রাখার স্বার্থে পুরো অর্থবছরকে তিন মাস করে চার ভাগে ভাগ করা হয়। প্রতি একটি ভাগকে বলা হয় কোয়ার্টার বা প্রান্তিক। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বর প্রান্তিকে অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছিল।

কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে চীনে করোনার বিস্তার ব্যাপক হওয়ায় বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। মার্চে এর প্রভাব আরও প্রকট হয়। যে কারণে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকেই দেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের অর্থনীতির সূচকগুলোর তথ্য পাওয়া গেলে দেখা যাবে করোনার আঘাত আরও কঠিন হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার প্রভাবে চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে রফতানি আয় ও আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধিতে মন্দা দেখা দেয়। দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের হোঁচট খায়। এই অবস্থায় বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

বিশ্বব্যাপী অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম পড়ে যায়। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম অর্ধেকে নেমে যায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের তেলনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে মারাত্মক ধস নামে। তেল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর আয় কমে যায়। ফলে অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ী অর্থবছরের শুরুর প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়েই শিল্প উৎপাদনের গতি ছিল নিুমুখী। পরের দুই প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে সামান্য বেড়েছে।

বিদায়ী অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে যোগাযোগ খাতের কার্যক্রম ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমেছে। কমেছে অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যও। প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার প্রভাবে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে মূল্যস্ফীতির হার সামান্য বেড়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্যবহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতির হার। তবে খাদ্য খাতের মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, করোনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি স্তিমিত হয়ে পড়ায় বাজারে টাকার চাহিদা কমে যায়। ফলে টাকার প্রবাহও কমে যায়। টাকার

প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ শতাংশ। সেটি গত প্রান্তিকে বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি। ওই সময়ে সরকারি খাতে টাকার প্রবাহ বেড়েছে এ খাতের ঋণের চাহিদা বাড়ায়।

সরকারের রাজস্ব আয় কম হওয়ার কারণে ঋণের চাহিদা বেড়েছে। ফলে গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি ঋণ নিতে হয়েছে। এদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গেছে।