ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একটি মহলের অতি লোভের কারণে ইসলাম বিজয়ী হয়নি: চরমোনাই পীর ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি বছরেই প্রতি উপজেলা হাসপাতালে স্থাপন হবে ক্যাথ ল্যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার ১ বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী নাটোরে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দরজা খুলেই দেখলেন শাশুড়ির রক্তাক্ত লাশ, পাশের কক্ষে কাঁদছিল দুই বছরের মেয়ে

লাখো বছরের পুরনো ভাইরাস সক্রিয় হচ্ছে, বিপর্যয়ের শঙ্কা বিজ্ঞানীদের

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ায় বরফ গলছে আর্কটিক অঞ্চলের। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই এলাকায় হাজার হাজার পুরনো প্রাণঘাতি ভাইরাস রয়েছে। অনেক ভাইরাস করোনার চেয়েও শক্তিশালী। এসব ভাইরাস হিমায়িত অবস্থায় থাকলেও বরফ গলে যাওয়ায় সেগুলো সক্রিয় হচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে বড় বিপর্যয় নেমে আশার শঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট রবিবার বিষয়টি নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে এখন যা হচ্ছে তা খুবই হতাশাজনক। সর্বশেষ ১৫ দিনে সাইবেরিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অনেক স্থান দাবদাহ চলছে।

তাপমাত্রার কারণে আবহাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড। এতে জলবায়ু পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে। থিবী অতিমাত্রায় গরম হয়ে উঠছে। এতে আর্কটিক অঞ্চলে হিমায়িত অবস্থায় থাকা ভাইরাসগুলো সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। অনেক ভাইরাস সক্রিয় হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব ভাইরাস আর্কটিক অঞ্চলের বরফের নিচে হিমায়িত হয়ে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। ভাইরাসগুলি হাজার হাজার এমনকি লাখো বছরের পুরনো। দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রথমবারের মতো এসব ভাইরাস সক্রিয় হচ্ছে। যখন হিমায়িত অবস্থা থেকে প্রকৃতিতে ভাইরাস অবমুক্ত হয়, তখন তা নদীতে গিয়ে পড়ে। অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে যায়।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম আনআর্থডকে এইক্স মার্সেইলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জ্যাঁ মিশেল ক্লাভেরি বলেছেন, একেবারে চিরহিমায়িত অঞ্চলের গভীরে বেঁচে থাকতে পারে ব্যাকটেরিয়া এবং তারা পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।

একই প্রতিষ্ঠানের ড. চ্যান্টাল অ্যাবারজেল বলেন, প্রাচীনকালের হিমায়িত নমুনা থেকে আমরা ৩০ হাজার বছরের পুরানো ভাইরাসকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়েছি। তবে এর আগের ভাইরাসকে আমরা পুনরুজ্জীবিত করতে পারিনি।

অন্যদিকে গবেষকদের তথ্য বলছে, করোনাভাইরাসের চেয়ে ভয়ংকর একাধিক মারণ ভাইরাস রয়েছে পৃথিবীতে। যা খুব সহযেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এর আগে ১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সালে এমন একটি মহামারি দেখা দিয়েছিল। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আক্রমণে তখন বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। শক্তিশালী এসব ভাইরাস বর্তমান সময়ে ছড়িয়ে পড়লে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সারা বিশ্বে পৌঁছে যাবে এবং প্রায় ৮ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক এক প্রধান এ আশঙ্কা করেছিলেন বেশ কয়েক মাস আগে। তার সতর্ক বার্তা নিয়ে দ্য গ্লোবাল প্রিপেয়ার্ডনেস মনিটরিং বোর্ড (জিপিএমবি) এর ‘এ্যা ওয়ার্ল্ড এট রিক্স’ শিরোনামে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে এ সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জিপিএমবি তাদের এ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছিল, জিপিএমপির গবেষকরা বলছেন, আলোচিত ইবোলা, জিকা বা ডেঙ্গুর মতো করেই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এজন্য বিশ্বনেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এমন মহামারি প্রতিরোধে সব প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল ওই গবেষণা রিপোর্টে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক প্রধান ও নরওয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আল হাদ আজ সি এর নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। তিনি বর্তমানে জিপিএমবি এর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে ২০১৬ সালে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয় অজানা রোগে। ওই এলাকার আরও প্রায় ১১৫ জন অল্প সময়ের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে জানা যায়, তারা সবাই একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। যার নাম ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস বা অ্যান্থ্রাক্স।

বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে বের করেন, ১৯৪১ সালে একটি বলগা হরিণ মারা গিয়েছিল। ৭৫ বছর আগে মারা যাওয়া ওই হরিণটি থেকে রোগটি ছড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিক উষ্ণ হওয়ায় সেখানকার বরফায়িত মাটি বা পারমাফ্রস্ট গলে বেরিয়ে এসেছিল সেই অ্যান্থ্রাক্স।

২০১৫ সালে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা তিব্বতে গলিত তুষারের স্রোত থেকে ২৮টি নতুন ধরনের ভাইরাস খুঁজে পান। বায়োরিভ নামে একটি ওয়েবসাইটে ওই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সেখানে বলা হয়, গবেষকরা ১৬৪ ফুট গর্ত খুঁড়ে ১৫শ’ বছরের পুরনো গ্লাসিয়ার থেকে দুটি নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে তারা মোট ৩৩ ধরনের ভাইরাসের সন্ধান পান। যার মধ্যে ২৮টি ভাইরাসই আগে কখনো কেউ খুঁজে পাননি।

পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত গলছে তিব্বত থেকে শুরু করে মেরু অঞ্চলসহ উত্তর গোলার্ধের তুন্দ্রা, সাইবেরিয়া আলাস্কা এবং গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলের বরফ। গবেষণায় বেরিয়ে আসছে, এসব বরফের স্তরে স্তরে এখনো টিকে আছে আদিম সব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ জীবাণু। যার বেশিরভাগই আধুনিক যুগের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ওইসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচিত নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’

লাখো বছরের পুরনো ভাইরাস সক্রিয় হচ্ছে, বিপর্যয়ের শঙ্কা বিজ্ঞানীদের

আপডেট সময় ০৫:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ায় বরফ গলছে আর্কটিক অঞ্চলের। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই এলাকায় হাজার হাজার পুরনো প্রাণঘাতি ভাইরাস রয়েছে। অনেক ভাইরাস করোনার চেয়েও শক্তিশালী। এসব ভাইরাস হিমায়িত অবস্থায় থাকলেও বরফ গলে যাওয়ায় সেগুলো সক্রিয় হচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে বড় বিপর্যয় নেমে আশার শঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট রবিবার বিষয়টি নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে এখন যা হচ্ছে তা খুবই হতাশাজনক। সর্বশেষ ১৫ দিনে সাইবেরিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অনেক স্থান দাবদাহ চলছে।

তাপমাত্রার কারণে আবহাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড। এতে জলবায়ু পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে। থিবী অতিমাত্রায় গরম হয়ে উঠছে। এতে আর্কটিক অঞ্চলে হিমায়িত অবস্থায় থাকা ভাইরাসগুলো সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। অনেক ভাইরাস সক্রিয় হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব ভাইরাস আর্কটিক অঞ্চলের বরফের নিচে হিমায়িত হয়ে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। ভাইরাসগুলি হাজার হাজার এমনকি লাখো বছরের পুরনো। দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রথমবারের মতো এসব ভাইরাস সক্রিয় হচ্ছে। যখন হিমায়িত অবস্থা থেকে প্রকৃতিতে ভাইরাস অবমুক্ত হয়, তখন তা নদীতে গিয়ে পড়ে। অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে যায়।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম আনআর্থডকে এইক্স মার্সেইলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জ্যাঁ মিশেল ক্লাভেরি বলেছেন, একেবারে চিরহিমায়িত অঞ্চলের গভীরে বেঁচে থাকতে পারে ব্যাকটেরিয়া এবং তারা পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।

একই প্রতিষ্ঠানের ড. চ্যান্টাল অ্যাবারজেল বলেন, প্রাচীনকালের হিমায়িত নমুনা থেকে আমরা ৩০ হাজার বছরের পুরানো ভাইরাসকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়েছি। তবে এর আগের ভাইরাসকে আমরা পুনরুজ্জীবিত করতে পারিনি।

অন্যদিকে গবেষকদের তথ্য বলছে, করোনাভাইরাসের চেয়ে ভয়ংকর একাধিক মারণ ভাইরাস রয়েছে পৃথিবীতে। যা খুব সহযেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এর আগে ১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সালে এমন একটি মহামারি দেখা দিয়েছিল। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আক্রমণে তখন বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। শক্তিশালী এসব ভাইরাস বর্তমান সময়ে ছড়িয়ে পড়লে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সারা বিশ্বে পৌঁছে যাবে এবং প্রায় ৮ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক এক প্রধান এ আশঙ্কা করেছিলেন বেশ কয়েক মাস আগে। তার সতর্ক বার্তা নিয়ে দ্য গ্লোবাল প্রিপেয়ার্ডনেস মনিটরিং বোর্ড (জিপিএমবি) এর ‘এ্যা ওয়ার্ল্ড এট রিক্স’ শিরোনামে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে এ সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জিপিএমবি তাদের এ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছিল, জিপিএমপির গবেষকরা বলছেন, আলোচিত ইবোলা, জিকা বা ডেঙ্গুর মতো করেই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এজন্য বিশ্বনেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এমন মহামারি প্রতিরোধে সব প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল ওই গবেষণা রিপোর্টে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক প্রধান ও নরওয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আল হাদ আজ সি এর নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। তিনি বর্তমানে জিপিএমবি এর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে ২০১৬ সালে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয় অজানা রোগে। ওই এলাকার আরও প্রায় ১১৫ জন অল্প সময়ের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে জানা যায়, তারা সবাই একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। যার নাম ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস বা অ্যান্থ্রাক্স।

বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে বের করেন, ১৯৪১ সালে একটি বলগা হরিণ মারা গিয়েছিল। ৭৫ বছর আগে মারা যাওয়া ওই হরিণটি থেকে রোগটি ছড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিক উষ্ণ হওয়ায় সেখানকার বরফায়িত মাটি বা পারমাফ্রস্ট গলে বেরিয়ে এসেছিল সেই অ্যান্থ্রাক্স।

২০১৫ সালে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা তিব্বতে গলিত তুষারের স্রোত থেকে ২৮টি নতুন ধরনের ভাইরাস খুঁজে পান। বায়োরিভ নামে একটি ওয়েবসাইটে ওই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সেখানে বলা হয়, গবেষকরা ১৬৪ ফুট গর্ত খুঁড়ে ১৫শ’ বছরের পুরনো গ্লাসিয়ার থেকে দুটি নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে তারা মোট ৩৩ ধরনের ভাইরাসের সন্ধান পান। যার মধ্যে ২৮টি ভাইরাসই আগে কখনো কেউ খুঁজে পাননি।

পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত গলছে তিব্বত থেকে শুরু করে মেরু অঞ্চলসহ উত্তর গোলার্ধের তুন্দ্রা, সাইবেরিয়া আলাস্কা এবং গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলের বরফ। গবেষণায় বেরিয়ে আসছে, এসব বরফের স্তরে স্তরে এখনো টিকে আছে আদিম সব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ জীবাণু। যার বেশিরভাগই আধুনিক যুগের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ওইসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচিত নয়।