ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

ব্রিটেনে বর্ষসেরা চিকিৎসক নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে যুক্তরাজ্য। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মারণ এই ভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৪ হাজার ১৩১ জনের।

দেশটিতে করোনার এই মহামারীর সময়ে সামনের সারিতে থেকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে বর্ষসেরা চিকিৎসক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ চিকিৎসক। তার নাম ফারজানা হোসেইন। দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস- এনএইচএস এই ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পিকাডিলি সার্কাসের সামনের তাকে নিয়ে বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। ব্রিটেনের সাটারস্টক ডটকম ছবিটি প্রকাশ করেছে।
এতে দেখা যাচ্ছে, বিলবোর্ডটির সামনেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন ফারজানা হোসেইন। ডা. ফারজানা হোসেইন এবং তার টিম করোনা মহামারীকালীন ব্রিটেনের রোগীদের চিকিৎসা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ডা. ফারজানা হোসেইন ১৮ বছর ধরে পূর্ব লন্ডনে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত।

দুই কন্যা সন্তানের জননী ডা. ফারজানা হোসেইন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইমারি কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করায় তার লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ডা. ফারজানা হোসেইন।

জানা গেছে, ফারজানা হোসেইনের বাবা স্বাধীনতার আগে ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। তিনি মূলত অ্যানেস্থেসিস্ট হিসেবে বৃত্তি নিয়ে পড়ালেখা করতে সেখানে যান।

পরের বছর যখন যুদ্ধ শুরু হল তখন তার বাবার বৃত্তি বাতিল হয়ে যায়। ওই সময় দেশেও ফিরতে পারেননি তিনি। স্ত্রী ও এক বছরের ছেলে সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন তিনি। এমন সময় যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিসে তিনি বেতন ছাড়াই দীর্ঘ দিন কাজ করেন।

ফারজানার যখন ১৯ বছর বয়স, তখন তার অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই সময় ফারজানা মেডিকেল প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ওই সময় তার মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর আগে মায়ের শেষ উপদেশ ছিল ‘আমি চাই তুমি চিকিৎসক হও এবং অসহায়দের সেবা করো।’
মায়ের এই কথাকে সম্বল করে পড়াশোনা চালিয়ে যান ফারজানা এবং নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলেন। সূত্র: ইস্টার্ন আই

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ব্রিটেনে বর্ষসেরা চিকিৎসক নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী

আপডেট সময় ১২:২০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে যুক্তরাজ্য। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মারণ এই ভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৪ হাজার ১৩১ জনের।

দেশটিতে করোনার এই মহামারীর সময়ে সামনের সারিতে থেকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে বর্ষসেরা চিকিৎসক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ চিকিৎসক। তার নাম ফারজানা হোসেইন। দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস- এনএইচএস এই ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পিকাডিলি সার্কাসের সামনের তাকে নিয়ে বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। ব্রিটেনের সাটারস্টক ডটকম ছবিটি প্রকাশ করেছে।
এতে দেখা যাচ্ছে, বিলবোর্ডটির সামনেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন ফারজানা হোসেইন। ডা. ফারজানা হোসেইন এবং তার টিম করোনা মহামারীকালীন ব্রিটেনের রোগীদের চিকিৎসা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ডা. ফারজানা হোসেইন ১৮ বছর ধরে পূর্ব লন্ডনে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত।

দুই কন্যা সন্তানের জননী ডা. ফারজানা হোসেইন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইমারি কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করায় তার লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ডা. ফারজানা হোসেইন।

জানা গেছে, ফারজানা হোসেইনের বাবা স্বাধীনতার আগে ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। তিনি মূলত অ্যানেস্থেসিস্ট হিসেবে বৃত্তি নিয়ে পড়ালেখা করতে সেখানে যান।

পরের বছর যখন যুদ্ধ শুরু হল তখন তার বাবার বৃত্তি বাতিল হয়ে যায়। ওই সময় দেশেও ফিরতে পারেননি তিনি। স্ত্রী ও এক বছরের ছেলে সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন তিনি। এমন সময় যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিসে তিনি বেতন ছাড়াই দীর্ঘ দিন কাজ করেন।

ফারজানার যখন ১৯ বছর বয়স, তখন তার অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই সময় ফারজানা মেডিকেল প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ওই সময় তার মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর আগে মায়ের শেষ উপদেশ ছিল ‘আমি চাই তুমি চিকিৎসক হও এবং অসহায়দের সেবা করো।’
মায়ের এই কথাকে সম্বল করে পড়াশোনা চালিয়ে যান ফারজানা এবং নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলেন। সূত্র: ইস্টার্ন আই