অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ইউরোপে ‘অবৈধ’ হয়ে পড়া ৯৩ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরতের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে ঢাকায় আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
মঙ্গলবার থেকে এ আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় এক্সটার্নাল সার্ভিসের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (পররাষ্ট্র সচিব পদমর্যাদা) পাওলা পেম্পেলনির নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি ব্রাসেলস থেকে এসেছে। ওই দলের ঢাকাস্থ ইইউ কর্যালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
ব্রাসেলসের প্রতিনিধি দলটি আগামী ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় থাকছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ ইইউ ডেলিগেশন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ইইউ প্রতিনিধি দলের সফরে মূলত ইউরোপের দেশগুলোতে অবৈধ বা অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরানো সংক্রান্ত ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস’ (এসওপি) চূড়ান্তকরণের আলোচনা হচ্ছে।
মঙ্গলবার প্রথম দিনে রমনাস্থ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল আহসান বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ওই দলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন) সঙ্গে যুক্ত সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও ছিলেন।
বৈঠক সূত্র বলছে, প্রাথমিক আলোচনায় অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরাতে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মতি ব্যক্ত করেছে। এ সংক্রান্ত এসওপি’র খসড়ায় ‘অবৈধ’ বাংলাদেশিদের ফেরাতে তাদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ে যৌক্তিক সময় প্রস্তাব করেছে ঢাকা। যা ইইউ প্রতিনিধি দল মেনে নিয়েছে।
বুধবারও আলোচনা হবে জানিয়ে এক কর্মকতা রাতে বলেন, আমরা ‘অবৈধ’ বাংলাদেশিদের ফেরানোর সংক্রান্ত আইনি কাঠামো ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস বা এসওপি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। বুধবারের আলোচনায় শুধু ব্যকরণিক (গ্রামারাটিক্যাল) কিছু সংযোজন-বিয়োজন হবে। আগামী দু’মাসের মধ্যে এসওপি বাস্তবায়নে প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আভাস দেন ওই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের মধ্যে এসওপি’র আলোচনা শেষ করার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল ব্রাসেলস। এ নিয়ে ইউরোপের ২৮ রাষ্ট্রের জোট ইইউ প্রচারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসওপি’র নেগোসিয়েশন চূড়ান্ত করতে ঢাকাকে অব্যাহতভাবে চাপ দেয়ার ঘোষণা ছিল। তাছাড়া আগে থেকেই ইইউ’র তরফে বলা হয়েছিল ইউরোপের দেশগুলোতে আনডকুমেন্টড যে সব দেশের নাগরিক রয়েছেন তাদের ফিরিয়ে না নিলে দেশগুলোর সাধারণ নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করা হবে। ইইউ’র চাপ সত্ত্বেও নাগরিকত্ব যাচাইয়ে কিছুটা সময় নিচ্ছিলো বাংলাদেশ।
ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, ইউরোপে অনেক রোহিঙ্গা রয়েছে। তারা যেন বাংলাদেশিদের সঙ্গে এখানে আসতে না পরে সেজন্য সরকার খুবই সতর্ক। তালিকা ধরে বাংলাদেশিদের নাগরিকত্বের বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনবে সরকার। কর্মকর্তারা বলেন, ইইউ’র চাপ তো আছেই, বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থেই বিশ্বের কোথাও আন-ডকুমেন্টেড বা বৈধ ডকুমেন্টবিহীন কোনো নাগরিককে রাখতে চায় না। হয় তারা বৈধ হবে না হয় যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নাগরিকত্ব যাচাই করে ফেরত নিয়ে আসার বিষয়ে ঢাকা অঙ্গীকারবদ্ধ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















