ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

হে আল্লাহ, বর্ষার বারিধারায় করোনা মহামারী ধুয়েমুছে সাফ করে দিন

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর এ দেশে নেয়ামতের ডালি সাজিয়ে বর্ষা এসেছে। মহান আল্লাহ আমাদের অগণিত নেয়ামতে ডুবিয়ে রেখেছেন। আল্লাহর নেয়ামত সম্পর্কে ভাবতে গেলে কৃতজ্ঞতার সেজদায় দেহ-মন নুয়ে আসে।

আল্লাহতায়ালার অন্যতম নেয়ামত হল বর্ষা। গ্রীষ্মের দাবদাহে পৃথিবী যখন চৌচির হয়ে যায়, প্রাণিকুলের বেঁচে থাকা এক রকম ফুরিয়ে আসে, খরা-রোদ্রে, করোনা আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীকে মনে হয় শতবর্ষী বৃদ্ধ- এমন তীব্র হতাশায় রহমতের ঝরনা খুলে দেন আল্লাহতায়ালা। আকাশ ফুঁড়ে বৃষ্টি ঝরে। জমিন উর্বর হয়। মরা পৃথিবী জেগে ওঠে। প্রাণিকুলে বাঁচার আশা জাগে।

বর্ষার বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনিই সে আল্লাহ, যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, যাতে রয়েছে তোমাদের জন্য পানীয় এবং তা থেকে উৎপন্ন হয় উদ্ভিদ; যেখানে তোমরা জন্তু চরাও। (সূরা নাহল, আয়াত ১০।)

এ আয়াতের তাফসিরে মুফাসসিররা লিখেন, আগের আয়াতগুলোতে আল্লাহতায়ালা জমিনে বিচরণশীল প্রাণীগুলো মানুষের কী কী উপকারে আসে তা বলা হয়েছে। আর এ আয়াতে বলা হয়েছে, আকাশের মেঘমালা থেকে বর্ষিত বৃষ্টি মানুষের কী কী উপাকারে আসে। আকাশ থেকে বর্ষিত বৃষ্টি মানুষের তিনটি বড় উপকারে আসে। প্রথমত, তা মানুষ পান করে তৃষ্ণা মেটায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বৃষ্টির পানির মতো এত বিশুদ্ধ পানির অস্তিত্ব আর কোথাও নেই। প্রাচীন চিকিৎসকরা অনেক জটিল রোগের চিকিৎসায় বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে সফল হয়েছেন। হাদিস শরিফে পাওয়া যায়, বৃষ্টির পানিতে রাসূল (সা.) আগ্রহ নিয়ে ভিজতেন। আমরাও যদি রাসূল (সা.)-এর অনুকরণে বৃষ্টিতে ভিজি তাহলে আমাদের আমলনামায় সুন্নত পালনের অশেষ নেকি লেখা হবে।

দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির পানি বৃক্ষ ও ফসল উৎপন্নের জন্য জরুরি উপাদান। বৃষ্টি না হলে ফসল ও বৃক্ষ কিছুই হতো না। ফলে মানুষের জীবন ধারণ পুরোপুরি অসম্ভব হয়ে পড়ত। তৃতীয়ত, মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহপালিত পশু ও যানবাহনের কাজে ব্যবহৃত পশু বাগানে বা মাঠে চরানো হয়। আর এখানে ঘাস জন্মায় বৃষ্টির কারণেই।

তা ছাড়া এসব প্রাণী বৃষ্টির পানি পান করেই জীবন ধারণ করে থাকে। ফলে মানুষের বেঁচে থাকার পেছনে বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (তাফসিরে ইবনে কাসির, তাফসিরে কুরতুবি এবং তাফসিরে জাকারিয়া।)

বর্ষা এলে প্রকৃতি সবুজ-সতেজ-নির্মল হয়ে ওঠে। পাখির কলকাকলিতে প্রকৃতি মুখর হয়। নদ-নদী-খাল-বিল প্রাণ ফিরে পায়। বর্ষা ঋতুতে মহান আল্লাহ আমাদের উপহার দেন বিচিত্র ফুল, ফল ও সবজি। বাগানে ফোটে গন্ধরাজ, বাগানবিলাস, শ্বেতরঙ্গন, টগর, জুঁই, কেয়া ও কদমসহ নাম না জানা আরও অনেক ফুল।

গাছে দেখা যায় পেয়ারা, আমড়া, কামরাঙা, ডেউয়া, জামরুল, লটকন, গাবসহ রকমারি ফল। সবজির তালিকায় যোগ হয় ঢেঁড়স, করলা, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, পটোল, বরবটিসহ বিচিত্র সব সবজি।

এতসব নেয়ামত দেখে অজান্তেই মনে পড়ে যায় সূরা রহমানের সেই আয়াতটি- ‘ফাবিআইয়ি আলা ইরাব্বিকুমাতুকাজ্জিবান। হে পৃথিবীর মানুষ! বল তো তোমার প্রভুর কোন নেয়ামতটি তুমি অস্বীকার করবে!’ না হে আল্লাহ! আপনার কোনো ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর নেয়ামতও অস্বীকার করা যায় না, যাবে না। আপনি মহান। আপনার সৃষ্টি অপরূপ। আপনি জুলজালালি ওয়াল ইকরাম।

বর্ষার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে কবি-সাহিত্যিকরা অসংখ্য গান-কবিতা রচনা করেছেন। তবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই বর্ষা সম্পর্কে ছন্দের তুলিতে নির্ভুল সত্যটি এঁকেছেন। বর্ষার প্রথম বর্ষণ দেখে কবি গুরু বলেন, ‘এসেছে বরষা, এসেছে নবীনা বরষা, গগন ভরিয়া এসেছে ভুবন ভরসা।’

পৃথিবীবাসীর জন্য বর্ষা নতুন ভরসা। নতুন করে বাঁচার প্রেরণা। হে আল্লাহ, বর্ষার বারিধারায় করোনা নামক মহামারী ধুয়েমুছে সাফ করে দিন। আমাদের উপহার দিন একটি সুস্থ-সুন্দর-নতুন পৃথিবী। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হে আল্লাহ, বর্ষার বারিধারায় করোনা মহামারী ধুয়েমুছে সাফ করে দিন

আপডেট সময় ০৭:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর এ দেশে নেয়ামতের ডালি সাজিয়ে বর্ষা এসেছে। মহান আল্লাহ আমাদের অগণিত নেয়ামতে ডুবিয়ে রেখেছেন। আল্লাহর নেয়ামত সম্পর্কে ভাবতে গেলে কৃতজ্ঞতার সেজদায় দেহ-মন নুয়ে আসে।

আল্লাহতায়ালার অন্যতম নেয়ামত হল বর্ষা। গ্রীষ্মের দাবদাহে পৃথিবী যখন চৌচির হয়ে যায়, প্রাণিকুলের বেঁচে থাকা এক রকম ফুরিয়ে আসে, খরা-রোদ্রে, করোনা আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীকে মনে হয় শতবর্ষী বৃদ্ধ- এমন তীব্র হতাশায় রহমতের ঝরনা খুলে দেন আল্লাহতায়ালা। আকাশ ফুঁড়ে বৃষ্টি ঝরে। জমিন উর্বর হয়। মরা পৃথিবী জেগে ওঠে। প্রাণিকুলে বাঁচার আশা জাগে।

বর্ষার বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনিই সে আল্লাহ, যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, যাতে রয়েছে তোমাদের জন্য পানীয় এবং তা থেকে উৎপন্ন হয় উদ্ভিদ; যেখানে তোমরা জন্তু চরাও। (সূরা নাহল, আয়াত ১০।)

এ আয়াতের তাফসিরে মুফাসসিররা লিখেন, আগের আয়াতগুলোতে আল্লাহতায়ালা জমিনে বিচরণশীল প্রাণীগুলো মানুষের কী কী উপকারে আসে তা বলা হয়েছে। আর এ আয়াতে বলা হয়েছে, আকাশের মেঘমালা থেকে বর্ষিত বৃষ্টি মানুষের কী কী উপাকারে আসে। আকাশ থেকে বর্ষিত বৃষ্টি মানুষের তিনটি বড় উপকারে আসে। প্রথমত, তা মানুষ পান করে তৃষ্ণা মেটায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বৃষ্টির পানির মতো এত বিশুদ্ধ পানির অস্তিত্ব আর কোথাও নেই। প্রাচীন চিকিৎসকরা অনেক জটিল রোগের চিকিৎসায় বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে সফল হয়েছেন। হাদিস শরিফে পাওয়া যায়, বৃষ্টির পানিতে রাসূল (সা.) আগ্রহ নিয়ে ভিজতেন। আমরাও যদি রাসূল (সা.)-এর অনুকরণে বৃষ্টিতে ভিজি তাহলে আমাদের আমলনামায় সুন্নত পালনের অশেষ নেকি লেখা হবে।

দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির পানি বৃক্ষ ও ফসল উৎপন্নের জন্য জরুরি উপাদান। বৃষ্টি না হলে ফসল ও বৃক্ষ কিছুই হতো না। ফলে মানুষের জীবন ধারণ পুরোপুরি অসম্ভব হয়ে পড়ত। তৃতীয়ত, মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহপালিত পশু ও যানবাহনের কাজে ব্যবহৃত পশু বাগানে বা মাঠে চরানো হয়। আর এখানে ঘাস জন্মায় বৃষ্টির কারণেই।

তা ছাড়া এসব প্রাণী বৃষ্টির পানি পান করেই জীবন ধারণ করে থাকে। ফলে মানুষের বেঁচে থাকার পেছনে বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (তাফসিরে ইবনে কাসির, তাফসিরে কুরতুবি এবং তাফসিরে জাকারিয়া।)

বর্ষা এলে প্রকৃতি সবুজ-সতেজ-নির্মল হয়ে ওঠে। পাখির কলকাকলিতে প্রকৃতি মুখর হয়। নদ-নদী-খাল-বিল প্রাণ ফিরে পায়। বর্ষা ঋতুতে মহান আল্লাহ আমাদের উপহার দেন বিচিত্র ফুল, ফল ও সবজি। বাগানে ফোটে গন্ধরাজ, বাগানবিলাস, শ্বেতরঙ্গন, টগর, জুঁই, কেয়া ও কদমসহ নাম না জানা আরও অনেক ফুল।

গাছে দেখা যায় পেয়ারা, আমড়া, কামরাঙা, ডেউয়া, জামরুল, লটকন, গাবসহ রকমারি ফল। সবজির তালিকায় যোগ হয় ঢেঁড়স, করলা, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, পটোল, বরবটিসহ বিচিত্র সব সবজি।

এতসব নেয়ামত দেখে অজান্তেই মনে পড়ে যায় সূরা রহমানের সেই আয়াতটি- ‘ফাবিআইয়ি আলা ইরাব্বিকুমাতুকাজ্জিবান। হে পৃথিবীর মানুষ! বল তো তোমার প্রভুর কোন নেয়ামতটি তুমি অস্বীকার করবে!’ না হে আল্লাহ! আপনার কোনো ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর নেয়ামতও অস্বীকার করা যায় না, যাবে না। আপনি মহান। আপনার সৃষ্টি অপরূপ। আপনি জুলজালালি ওয়াল ইকরাম।

বর্ষার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে কবি-সাহিত্যিকরা অসংখ্য গান-কবিতা রচনা করেছেন। তবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই বর্ষা সম্পর্কে ছন্দের তুলিতে নির্ভুল সত্যটি এঁকেছেন। বর্ষার প্রথম বর্ষণ দেখে কবি গুরু বলেন, ‘এসেছে বরষা, এসেছে নবীনা বরষা, গগন ভরিয়া এসেছে ভুবন ভরসা।’

পৃথিবীবাসীর জন্য বর্ষা নতুন ভরসা। নতুন করে বাঁচার প্রেরণা। হে আল্লাহ, বর্ষার বারিধারায় করোনা নামক মহামারী ধুয়েমুছে সাফ করে দিন। আমাদের উপহার দিন একটি সুস্থ-সুন্দর-নতুন পৃথিবী। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়