ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ অনিবন্ধিত সাংবাদিকরাই সোস্যাল মিডিয়ায় মিসইনফরমেশন উপস্থাপন করেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী রক্তের শর্করা কমাবে ডায়াবেটিসের নতুন ইনজেকশন লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর আরও ‘নিখুঁত’ হামলার আহ্বান ট্রাম্পের উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতানির্ভর ও কর্মমুখী করতে নতুন শিক্ষাকাঠামোর উদ্যোগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে: ড. হামিদুর দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণে নতুন উদ্যোগ, ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে মধ্যবিত্তদের পরমাণু অস্ত্র কখনোই ছাড়বে না উত্তর কোরিয়া, কিমের বোনের ঘোষণা গ্রামে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী

পদত্যাগ করে পাকিস্তান চলে যান: হাছান মাহমুদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে পদত্যাগ করে পাকিস্তান চলে যেতে বললেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ। সোমবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সামনে এক মানববন্ধনে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, “২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আপনি আদালতে বলেছেন-আপনি একাত্তের শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। পাকিস্তানিদের সাহায্য করার জন্য শান্তি কমিটির সদস্য হয়েছিলেন, আর আজকে পাকিস্তানের উদাহরণ দিবেন এটাই স্বাভাবিক। শান্তি কমিটির অনেক সদস্য স্বাধীনতার পরে পাকিস্তানে চলে গেছেন। শুধু পদত্যাগ করলে হবে না, আপনি পাকিস্তানের উদাহরণ দেন, পাকিস্তানে চলে যেতে পারেন।”

‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণে মাননীয় প্রধান বিচারপতির রাজনৈতিক অসত্য মনগড়া বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদ’ শীর্ষক মানববন্ধনটির আয়োজন করে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন- স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও গণশিক্ষা সম্পাদক ডা. রোকেয়া বেগম প্রমুখ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউ এর উপাচার্য ডা. কামরুল হাসান, সাবেক উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, অধ্যাপক ডা. সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

বিচারপতি জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত বন্ধ করার উদ্দেশ্যে চিঠি দিয়ে প্রধান বিচারপতি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে মন্তব্য করেন হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, দুদক আইনের ১৯ এর ৩ ধারায় বলা আছে, দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য যদি অপচেষ্টা করে তবে তা তিনবছর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রধান বিচারপতি দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করে এ ধারায় অপরাধ করেছেন। আপনার যদি লজ্জা থাকে, লজ্জায় যদি ফরমালিন না দিয়ে থাকেন তবে পদত্যাগ করুন।

হাছান বলেন, বিএনপি এখন প্রধান বিচারপতির ঘাড়ে বসেছেন। প্রধান বিচারপতির ঘাড়ে বসে তারা রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। নিজেদের কোনো ইস্যু নেই। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ নিয়ে তারা অপরাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। পর্যবেক্ষণে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ বলার জন্য প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান বলেন, প্রধান বিচারপতি বলেছেন- দেশের মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে না। দেশের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখা চিকিৎসকদের কটাক্ষ করে এ বক্তব্যে আমাদেরকে বিস্মিত করেছে।

অধ্যাপক আজিজ বলেন, এদেশের ক্রান্তিলগ্নে চিকিৎসক সমাজ এগিয়ে এসেছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজ যে দেশ পোলিও মুক্ত হয়েছে, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমে এসেছে, তা এই চিকিৎসকদেরই অবদান। এই সমাজকে নিয়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য কোনো ক্রমেই কাম্য নয়। রায়ের ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই তবে অতিসত্ত্বর আপত্তিকর পর্যবেক্ষণগুলো তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ

পদত্যাগ করে পাকিস্তান চলে যান: হাছান মাহমুদ

আপডেট সময় ০৪:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে পদত্যাগ করে পাকিস্তান চলে যেতে বললেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ। সোমবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সামনে এক মানববন্ধনে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, “২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আপনি আদালতে বলেছেন-আপনি একাত্তের শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। পাকিস্তানিদের সাহায্য করার জন্য শান্তি কমিটির সদস্য হয়েছিলেন, আর আজকে পাকিস্তানের উদাহরণ দিবেন এটাই স্বাভাবিক। শান্তি কমিটির অনেক সদস্য স্বাধীনতার পরে পাকিস্তানে চলে গেছেন। শুধু পদত্যাগ করলে হবে না, আপনি পাকিস্তানের উদাহরণ দেন, পাকিস্তানে চলে যেতে পারেন।”

‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণে মাননীয় প্রধান বিচারপতির রাজনৈতিক অসত্য মনগড়া বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদ’ শীর্ষক মানববন্ধনটির আয়োজন করে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন- স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও গণশিক্ষা সম্পাদক ডা. রোকেয়া বেগম প্রমুখ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউ এর উপাচার্য ডা. কামরুল হাসান, সাবেক উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, অধ্যাপক ডা. সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

বিচারপতি জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত বন্ধ করার উদ্দেশ্যে চিঠি দিয়ে প্রধান বিচারপতি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে মন্তব্য করেন হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, দুদক আইনের ১৯ এর ৩ ধারায় বলা আছে, দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য যদি অপচেষ্টা করে তবে তা তিনবছর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রধান বিচারপতি দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করে এ ধারায় অপরাধ করেছেন। আপনার যদি লজ্জা থাকে, লজ্জায় যদি ফরমালিন না দিয়ে থাকেন তবে পদত্যাগ করুন।

হাছান বলেন, বিএনপি এখন প্রধান বিচারপতির ঘাড়ে বসেছেন। প্রধান বিচারপতির ঘাড়ে বসে তারা রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। নিজেদের কোনো ইস্যু নেই। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ নিয়ে তারা অপরাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। পর্যবেক্ষণে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ বলার জন্য প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান বলেন, প্রধান বিচারপতি বলেছেন- দেশের মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে না। দেশের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখা চিকিৎসকদের কটাক্ষ করে এ বক্তব্যে আমাদেরকে বিস্মিত করেছে।

অধ্যাপক আজিজ বলেন, এদেশের ক্রান্তিলগ্নে চিকিৎসক সমাজ এগিয়ে এসেছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজ যে দেশ পোলিও মুক্ত হয়েছে, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমে এসেছে, তা এই চিকিৎসকদেরই অবদান। এই সমাজকে নিয়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য কোনো ক্রমেই কাম্য নয়। রায়ের ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই তবে অতিসত্ত্বর আপত্তিকর পর্যবেক্ষণগুলো তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।