ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তালিকায় ১ নম্বরে আমার নাম, আমি মরলে তোমরাও মরবে: ট্রাম্প স্পেনে ভয়াবহ দাবানল : মৃত বেড়ে ১২, তাপপ্রবাহে বাড়ছে ইউরোপজুড়ে বিপর্যয় পাকিস্তানে পিপিপি নেতার বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ১৭ রাজধানীতে গোডাউনে বিস্ফোরণ, ব্যবসায়ী নিহত বন্যাকবলিত চট্টগ্রামে জামায়াত আমির, দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ আমাকে থামাতে হলে হত্যা করতে হবে: মমতা রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত কক্সবাজারে বন্যায় ৪০টি ইউনিয়ন প্লাবিত, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক

করোনায় ১৮ চিকিৎসকের মৃত্যু, সংক্রমিত হাজারের বেশি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে রোগীদের সেবা দেয়ার প্রধান কাণ্ডারী চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও। একই সঙ্গে করোনায় প্রাণ হারানো চিকিৎসকের তালিকাও ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১৮ জন চিকিৎসক মারা গেছেন এই ভাইরাসে। আর করোনার ‘উপসর্গ নিয়ে’ মারা গেছেন আরও পাঁচ চিকিৎসক। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭জন চিকিৎসক।

চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠনের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যেসব চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের বেশিরভাগই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। বয়সে প্রবীণ। আবার আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই বয়সে তরুণ। তারা হাসপাতালে করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিস-এফডিএসআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৭ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ১৮জন চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন।

চিকিৎসকদের মধ্যে প্রথম মারা গেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। আর সবশেষ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মারা গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এস এ এম গোলাম কিবরিয়া।

সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, এছাড়াও পাঁচজন চিকিৎসক করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

তিনি বলেন, রোগীদের সংস্পর্শে আসায় চিকিৎসকরা বেশি ঝুঁকিতে। এ কারণে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। তারা সামনের সারিতে থেকে কাজ করছেন। একইভাবে পুলিশও সামনের দিকে থাকেন। ফলে তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।

কবে মারা গেলেন কোন চিকিৎসক

গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ডা. মঈন উদ্দিন মারা যাওয়ার পর ৩ মে সিএমএইচে মারা যান রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) মো. মনিরুজ্জামান। ১৩ মে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অধ্যাপক ডা. আবুল মোকারিম মো. মোহসিন উদ্দিন।

এফডিএসআর বলছে, গত ১৮ মে মারা যান ডা. আজিজুর রহমান রাজু, ২২ মে মারা যান মৌলভীবাজারের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এমএ মতিন, ডা. কাজী দিলরুবা খানম।

২৬ মে মারা যান সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহমান, নারায়ণঞ্জের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আমিনা খান। পরদিন মারা যান অধ্যাপক ডা. মোশাররফ হোসেন এবং ৩০ মে মারা যান ডা. সাইদুর রহমান।

১ জুন মুগদা হাসপাতালে মারা যান যক্ষ্মারোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ বাবলু। পরদিন মারা যান প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ডা. মঞ্জুর রশীদ চৌধুরী, ৩ জুন মারা যান চট্টগ্রামের মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. এহসানুল করিম।

একই দিনে মারা যান ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন ও ডিজি হেলথের অবসরপ্রাপ্ত ইভালুয়াটার অফিসার ডা. একেএম ওয়াহিদুল হক।

৪ জুন ডা. এস এ এম গোলাম কিবরিয়া ছাড়াও মারা গেছেন ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মুহিদুল হাসান।

এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া পাঁচ চিকিৎসক হলেন-অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক (অব.) আনিসুর রহমান, ডা. সারওয়ার ইবনে আজিজ, ডা. সৈয়দ জাফর রুমি ও ডা. তাজউদ্দিন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে নতুন এ করোনাভাইরাসে প্রথম সংক্রমণ নিশ্চিত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দেশে ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যর আট শ ছাড়িয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৬০হাজার ছুঁয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তালিকায় ১ নম্বরে আমার নাম, আমি মরলে তোমরাও মরবে: ট্রাম্প

করোনায় ১৮ চিকিৎসকের মৃত্যু, সংক্রমিত হাজারের বেশি

আপডেট সময় ০৯:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে রোগীদের সেবা দেয়ার প্রধান কাণ্ডারী চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও। একই সঙ্গে করোনায় প্রাণ হারানো চিকিৎসকের তালিকাও ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১৮ জন চিকিৎসক মারা গেছেন এই ভাইরাসে। আর করোনার ‘উপসর্গ নিয়ে’ মারা গেছেন আরও পাঁচ চিকিৎসক। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭জন চিকিৎসক।

চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠনের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যেসব চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের বেশিরভাগই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। বয়সে প্রবীণ। আবার আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই বয়সে তরুণ। তারা হাসপাতালে করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিস-এফডিএসআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৭ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ১৮জন চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন।

চিকিৎসকদের মধ্যে প্রথম মারা গেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। আর সবশেষ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মারা গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এস এ এম গোলাম কিবরিয়া।

সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, এছাড়াও পাঁচজন চিকিৎসক করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

তিনি বলেন, রোগীদের সংস্পর্শে আসায় চিকিৎসকরা বেশি ঝুঁকিতে। এ কারণে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। তারা সামনের সারিতে থেকে কাজ করছেন। একইভাবে পুলিশও সামনের দিকে থাকেন। ফলে তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।

কবে মারা গেলেন কোন চিকিৎসক

গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ডা. মঈন উদ্দিন মারা যাওয়ার পর ৩ মে সিএমএইচে মারা যান রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) মো. মনিরুজ্জামান। ১৩ মে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অধ্যাপক ডা. আবুল মোকারিম মো. মোহসিন উদ্দিন।

এফডিএসআর বলছে, গত ১৮ মে মারা যান ডা. আজিজুর রহমান রাজু, ২২ মে মারা যান মৌলভীবাজারের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এমএ মতিন, ডা. কাজী দিলরুবা খানম।

২৬ মে মারা যান সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহমান, নারায়ণঞ্জের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আমিনা খান। পরদিন মারা যান অধ্যাপক ডা. মোশাররফ হোসেন এবং ৩০ মে মারা যান ডা. সাইদুর রহমান।

১ জুন মুগদা হাসপাতালে মারা যান যক্ষ্মারোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ বাবলু। পরদিন মারা যান প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ডা. মঞ্জুর রশীদ চৌধুরী, ৩ জুন মারা যান চট্টগ্রামের মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. এহসানুল করিম।

একই দিনে মারা যান ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন ও ডিজি হেলথের অবসরপ্রাপ্ত ইভালুয়াটার অফিসার ডা. একেএম ওয়াহিদুল হক।

৪ জুন ডা. এস এ এম গোলাম কিবরিয়া ছাড়াও মারা গেছেন ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মুহিদুল হাসান।

এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া পাঁচ চিকিৎসক হলেন-অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক (অব.) আনিসুর রহমান, ডা. সারওয়ার ইবনে আজিজ, ডা. সৈয়দ জাফর রুমি ও ডা. তাজউদ্দিন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে নতুন এ করোনাভাইরাসে প্রথম সংক্রমণ নিশ্চিত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দেশে ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যর আট শ ছাড়িয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৬০হাজার ছুঁয়েছে।