ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘নতুন সূত্র’ মেলায় করোনা চিকিৎসায় আশার আলো!

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাস তথা কোভিড-১৯ এর কার্যকর ভ্যাকসিন ও ওষুধ তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছেন গবেষক-বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত টিকা মানবশরীরে প্রায়োগিক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো ফল আসছে না। তবে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের সারিয়ে তুলতে চিকিৎসকরা ব্যবহার করছেন পুরনো কিছু ওষুধ।

এবার করোনাভাইরাসের নতুন একটি চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর পরীক্ষা শুরু করছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন গুরুতরভাবে অসুস্থ করোনা রোগীদের সারিয়ে তুলতে এই ওষুধ কাজ করতে পারে বলে তারা আশাবাদী।

দেখা গেছে, যারা করোনাভাইরাসে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়, তাদের শরীরে টি-সেল নামে রোগ প্রতিরোধী একটি কোষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই টি-সেল বা টি কোষের কাজ হচ্ছে শরীরে সংক্রমণের জন্য দায়ী জীবাণুকে হঠানো।

যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হচ্ছে তাতে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ইন্টারলিউকিন-৭ নামে একটি ওষুধ ব্যবহার করা হবে, যা টি-সেলের সংখ্যা বাড়াবে এবং রোগীকে সেরে উঠতে সাহায্য করবে বলে তারা মনে করছেন।

লন্ডনের বিজ্ঞানীরা কোভিড নাইনটিনে আক্রান্ত ৬০জন রোগীর রক্তের টি-কোষ পরীক্ষা করে দেখেছেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর তাদের টি-কোষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে গেছে।

কিংস কলেজের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অধ্যাপক এড্রিয়ান হেডে বলেছেন কোভিড-১৯ আক্রমণে শরীরের টি-সেলের কী দশা হয় সেটা দেখে তারা ‘দারুণ অবাক’ হয়েছেন।

‘এই কোষগুলো আমাদের রক্ষার চেষ্টা করে। কিন্তু এই ভাইরাস এমনভাবে তাদের আক্রমণ করছে যাতে তাদের সব শক্তি কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে তাদের সংখ্যা এমন নাটকীয়ভাবে কমে যাচ্ছে যাতে লড়াই করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

একজন সুস্থ মানুষের এক মাইক্রো লিটার (০.০০১ মিলিলিটার) রক্তবিন্দুতে থাকে দুই থেকে চার হাজার ‘টি-কোষ’। এই কোষ বা টি-সেলের আরেকটা নাম হল ‘টি লিম্ফোসাইট’।

যেসব কোভিড রোগীর রক্ত বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করেছেন তাদের রক্তে সংক্রমণের পর টি-কোষের সংখ্যা নেমে গেছে ২০০ থেকে ১২০০-য়ে।

গবেষকরা বলছেন এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তারা রক্তে টি-কোষের আচরণ ও মাত্রা সম্পর্কে একটা ধারণা গড়ে তুলতে পারবেন এবং তারা আশা করছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে কাদের জন্য এটা খুবই গুরুতর হয়ে উঠতে পারে তার একটা আগাম ধারণা তারা করতে পারবেন।

এছাড়াও আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রতিরোধী টি-কোষের সংখ্যার হ্রাস বন্ধ করতে নির্দিষ্ট চিকিৎসার সম্ভাবনাও দেখছেন বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

‘নতুন সূত্র’ মেলায় করোনা চিকিৎসায় আশার আলো!

আপডেট সময় ১২:২২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাস তথা কোভিড-১৯ এর কার্যকর ভ্যাকসিন ও ওষুধ তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছেন গবেষক-বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত টিকা মানবশরীরে প্রায়োগিক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো ফল আসছে না। তবে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের সারিয়ে তুলতে চিকিৎসকরা ব্যবহার করছেন পুরনো কিছু ওষুধ।

এবার করোনাভাইরাসের নতুন একটি চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর পরীক্ষা শুরু করছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন গুরুতরভাবে অসুস্থ করোনা রোগীদের সারিয়ে তুলতে এই ওষুধ কাজ করতে পারে বলে তারা আশাবাদী।

দেখা গেছে, যারা করোনাভাইরাসে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়, তাদের শরীরে টি-সেল নামে রোগ প্রতিরোধী একটি কোষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই টি-সেল বা টি কোষের কাজ হচ্ছে শরীরে সংক্রমণের জন্য দায়ী জীবাণুকে হঠানো।

যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হচ্ছে তাতে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ইন্টারলিউকিন-৭ নামে একটি ওষুধ ব্যবহার করা হবে, যা টি-সেলের সংখ্যা বাড়াবে এবং রোগীকে সেরে উঠতে সাহায্য করবে বলে তারা মনে করছেন।

লন্ডনের বিজ্ঞানীরা কোভিড নাইনটিনে আক্রান্ত ৬০জন রোগীর রক্তের টি-কোষ পরীক্ষা করে দেখেছেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর তাদের টি-কোষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে গেছে।

কিংস কলেজের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অধ্যাপক এড্রিয়ান হেডে বলেছেন কোভিড-১৯ আক্রমণে শরীরের টি-সেলের কী দশা হয় সেটা দেখে তারা ‘দারুণ অবাক’ হয়েছেন।

‘এই কোষগুলো আমাদের রক্ষার চেষ্টা করে। কিন্তু এই ভাইরাস এমনভাবে তাদের আক্রমণ করছে যাতে তাদের সব শক্তি কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে তাদের সংখ্যা এমন নাটকীয়ভাবে কমে যাচ্ছে যাতে লড়াই করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

একজন সুস্থ মানুষের এক মাইক্রো লিটার (০.০০১ মিলিলিটার) রক্তবিন্দুতে থাকে দুই থেকে চার হাজার ‘টি-কোষ’। এই কোষ বা টি-সেলের আরেকটা নাম হল ‘টি লিম্ফোসাইট’।

যেসব কোভিড রোগীর রক্ত বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করেছেন তাদের রক্তে সংক্রমণের পর টি-কোষের সংখ্যা নেমে গেছে ২০০ থেকে ১২০০-য়ে।

গবেষকরা বলছেন এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তারা রক্তে টি-কোষের আচরণ ও মাত্রা সম্পর্কে একটা ধারণা গড়ে তুলতে পারবেন এবং তারা আশা করছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে কাদের জন্য এটা খুবই গুরুতর হয়ে উঠতে পারে তার একটা আগাম ধারণা তারা করতে পারবেন।

এছাড়াও আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রতিরোধী টি-কোষের সংখ্যার হ্রাস বন্ধ করতে নির্দিষ্ট চিকিৎসার সম্ভাবনাও দেখছেন বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।