ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

ধর্মগুরু রাম রহিমের জন্য বিশেষ সেল সাথে সঙ্গীও

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ঘোষণার পর ভারতে স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে হরিয়ানা রাজ্যের রোহতাক কারাগারে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার হরিয়ানার বিশেষ সিবিআই আদালত এক রায়ে ওই ধর্মগুরুকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং আগামী সোমবার সাজা ঘোষণার কথা জানান।

ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেও তার জন্য কারাগার কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, হরিয়ানার রোহতাক কারাগারের বিশেষ সেলে রাখা হবে এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে। সেখানে তিনি মিনারেল ওয়াটার, একজন সার্বক্ষণিক সঙ্গীসহ নানা সুযোগ সুবিধা পাবেন।

শুক্রবার দুপুরে হরিয়ানা রাজ্যের পাঁচকুলা শহরের ওই আদালত ধর্ষণের মামলায় গুরমিত রাম রহিম সিংকে দোষী সাব্যস্ত করার পর তার ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। হরিয়ানা রাজ্যের পাঁচকুলা ও পাঞ্জাবে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ‘গুরুভক্তরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

১৫ বছর আগে নিজের আশ্রমে দুইজন নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে তারা সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

পুলিশের বরাতে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাম রহিমের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর পাঁচকুলা শহরে সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। পাঁচকুলা শহরের বেসামরিক একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, রায় ঘোষণার পর অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন রাম রহিম সিং।

শুক্রবার দোষী সাব্যস্ত করার পরপরই হরিয়ানা রাজ্য পুলিশ এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে একটি হেলিকপ্টারে করে আদালত থেকে তাকে রোহতাক কারাগারে নেওয়া হয়। আদালত প্রাঙ্গণে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে একজন নারীকে তার সঙ্গে তার ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করতে দেখা গেছে।

হেফাজতে নেওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কারাগারের নামে তাকে পুলিশের গেস্ট হাউসে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, গণমাধ্যমের খবরে রাম রহিম সিংকে গেস্ট হাউসে রাখাসহ তাকে নানা সুযোগ সুবিধা দেওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে। এগুলো সত্য নয়। তিনি কোনও বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন না।

২০০২ সালে রাম রহিমের এক সাবেক নারী ভক্ত ধর্ষণের অভিযোগে এনে মামলা করেন। ওই নারীর অভিযোগ, হরিয়ানার শহর সিরসায় দেরা সাচা সৌদা গোষ্ঠীর প্রধান কার্যালয়ে রাম রহিম তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। রায় ঘোষণার পরপরই পাঁচকুলা শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। চলছে কড়া তল্লাশি।

শুক্রবারের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণ, সংশ্লিষ্ট এলাকা ও পুরো পাঁচকুলা শহর কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্মগুরু রাম রহিমের জন্য বিশেষ সেল সাথে সঙ্গীও

আপডেট সময় ০৮:১৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ঘোষণার পর ভারতে স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে হরিয়ানা রাজ্যের রোহতাক কারাগারে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার হরিয়ানার বিশেষ সিবিআই আদালত এক রায়ে ওই ধর্মগুরুকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং আগামী সোমবার সাজা ঘোষণার কথা জানান।

ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেও তার জন্য কারাগার কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, হরিয়ানার রোহতাক কারাগারের বিশেষ সেলে রাখা হবে এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে। সেখানে তিনি মিনারেল ওয়াটার, একজন সার্বক্ষণিক সঙ্গীসহ নানা সুযোগ সুবিধা পাবেন।

শুক্রবার দুপুরে হরিয়ানা রাজ্যের পাঁচকুলা শহরের ওই আদালত ধর্ষণের মামলায় গুরমিত রাম রহিম সিংকে দোষী সাব্যস্ত করার পর তার ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। হরিয়ানা রাজ্যের পাঁচকুলা ও পাঞ্জাবে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ‘গুরুভক্তরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

১৫ বছর আগে নিজের আশ্রমে দুইজন নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে তারা সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

পুলিশের বরাতে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাম রহিমের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর পাঁচকুলা শহরে সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। পাঁচকুলা শহরের বেসামরিক একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, রায় ঘোষণার পর অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন রাম রহিম সিং।

শুক্রবার দোষী সাব্যস্ত করার পরপরই হরিয়ানা রাজ্য পুলিশ এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে একটি হেলিকপ্টারে করে আদালত থেকে তাকে রোহতাক কারাগারে নেওয়া হয়। আদালত প্রাঙ্গণে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে একজন নারীকে তার সঙ্গে তার ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করতে দেখা গেছে।

হেফাজতে নেওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কারাগারের নামে তাকে পুলিশের গেস্ট হাউসে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, গণমাধ্যমের খবরে রাম রহিম সিংকে গেস্ট হাউসে রাখাসহ তাকে নানা সুযোগ সুবিধা দেওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে। এগুলো সত্য নয়। তিনি কোনও বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন না।

২০০২ সালে রাম রহিমের এক সাবেক নারী ভক্ত ধর্ষণের অভিযোগে এনে মামলা করেন। ওই নারীর অভিযোগ, হরিয়ানার শহর সিরসায় দেরা সাচা সৌদা গোষ্ঠীর প্রধান কার্যালয়ে রাম রহিম তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। রায় ঘোষণার পরপরই পাঁচকুলা শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। চলছে কড়া তল্লাশি।

শুক্রবারের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণ, সংশ্লিষ্ট এলাকা ও পুরো পাঁচকুলা শহর কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।