ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আরাফাত সানীর আশ্বাসে আইনি পদক্ষেপ নেয়নি নাসরিনের পরিবার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্রিকেটার আরাফাত সানীর ‘স্ত্রী’ নাসরিন সুলতানার আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি তার পরিবার। নাসরিনের পরিবার বলছে, তারা থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। তবে সানীর আশ্বাস পাওয়ায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়েরের আবেদন করা হয়নি।

শুক্রবার সকালে মোহাম্মদপুরের নিজ বাসায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নাসরিন সুলতানা। শুক্রবার দুপুর থেকে তিনি ধানমন্ডির রেঁনেসা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আত্মহত্যার চেষ্টার আগে নাসরিন একটি সুইসাইড নোট রাখেন। তাতে তার মৃত্যুচেষ্টার জন্য সানীকে দায়ী করেন।

শনিবার নাসরিনের মা রওশনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান, শুক্রবার রাতে তারা মোহাম্মদপুর থানায় সানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সানীকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। পরে সানী তাকে ফোন করে জানান, তিনি শনিবার সকালে হাসপাতালে আসবেন। না আসলে যেন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

রওশন বেগন বলেন, সানীর কথায় আমরা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না করে চলে আসি। আজ সকালে আসার কথা থাকলেও সে আসেনি। বিকেলে এ প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত আরাফাত সানী নাসরিনকে দেখতে হাসপাতালে আসেননি। নাসরিনের বাবা মনির হোসেন জানিয়েছেন, দুপুরে তার সঙ্গে সানীর কথা হয়েছে। সানী হাসপাতালে আসবেন বলে তাকে জানিয়েছেন।

নাসরিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আইসিইউর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি আশঙ্কামুক্ত। জ্ঞান ফিরলেও ওষুধের ঘোর কাটেনি। আরো একদিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে। মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর জানান, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ২২ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হন আরাফাত সানী। মামলাটি করেছিলেন তার স্ত্রী দাবিদার নাসরিন সুলতানা। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আরেকটি মামলা দায়ের করেন নাসরিন সুলতানা। টানা ৫৩ দিন কারাগারে থাকার পর ১৫ মার্চ কারাগার থেকে মুক্ত হন সানী। সর্বশেষ আদালত নিজেদের মধ্যে সমঝোতার নির্দেশ দেন। তবে নাসরিন সুলতানা অভিযোগ করে আসছিলেন, সানী তাকে ঠিক মতো সময় দেন না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আরাফাত সানীর আশ্বাসে আইনি পদক্ষেপ নেয়নি নাসরিনের পরিবার

আপডেট সময় ০৮:০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্রিকেটার আরাফাত সানীর ‘স্ত্রী’ নাসরিন সুলতানার আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি তার পরিবার। নাসরিনের পরিবার বলছে, তারা থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। তবে সানীর আশ্বাস পাওয়ায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়েরের আবেদন করা হয়নি।

শুক্রবার সকালে মোহাম্মদপুরের নিজ বাসায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নাসরিন সুলতানা। শুক্রবার দুপুর থেকে তিনি ধানমন্ডির রেঁনেসা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আত্মহত্যার চেষ্টার আগে নাসরিন একটি সুইসাইড নোট রাখেন। তাতে তার মৃত্যুচেষ্টার জন্য সানীকে দায়ী করেন।

শনিবার নাসরিনের মা রওশনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান, শুক্রবার রাতে তারা মোহাম্মদপুর থানায় সানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সানীকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। পরে সানী তাকে ফোন করে জানান, তিনি শনিবার সকালে হাসপাতালে আসবেন। না আসলে যেন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

রওশন বেগন বলেন, সানীর কথায় আমরা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না করে চলে আসি। আজ সকালে আসার কথা থাকলেও সে আসেনি। বিকেলে এ প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত আরাফাত সানী নাসরিনকে দেখতে হাসপাতালে আসেননি। নাসরিনের বাবা মনির হোসেন জানিয়েছেন, দুপুরে তার সঙ্গে সানীর কথা হয়েছে। সানী হাসপাতালে আসবেন বলে তাকে জানিয়েছেন।

নাসরিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আইসিইউর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি আশঙ্কামুক্ত। জ্ঞান ফিরলেও ওষুধের ঘোর কাটেনি। আরো একদিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে। মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর জানান, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ২২ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হন আরাফাত সানী। মামলাটি করেছিলেন তার স্ত্রী দাবিদার নাসরিন সুলতানা। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আরেকটি মামলা দায়ের করেন নাসরিন সুলতানা। টানা ৫৩ দিন কারাগারে থাকার পর ১৫ মার্চ কারাগার থেকে মুক্ত হন সানী। সর্বশেষ আদালত নিজেদের মধ্যে সমঝোতার নির্দেশ দেন। তবে নাসরিন সুলতানা অভিযোগ করে আসছিলেন, সানী তাকে ঠিক মতো সময় দেন না।