ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও ১০–১৫ দিন: জ্বালানিমন্ত্রী গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর করলেন রাকসু ও শিবির নেতারা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণ শুরু, আসবে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের আন্দোলনের সফলতাকে নিজেদের বলে দাবি করেছে জামায়াতের বুদ্ধিজীবীরা: রাশেদ খাঁন ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল মানুষের আস্থার কেন্দ্র, চিকিৎসাসেবা হতে হবে রোগীবান্ধব: তথ্যমন্ত্রী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

আমার দুই সন্তানকে কেউ তাড়িয়ে দেবেন না, সার্জেন্ট বাবার আকুতি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘পাপা তুমি বাইরে যেওনা। বাইরে করোনাভাইরাস। তুমি বাইরে গেলে করোনাভাইরাস হলে আমি কিছু জানি না। এভাবেই বলত আমার তিন বছর চার মাসের ছেলে রাফসান। এখন ওকে কী জানাব। শুধু বলব স্যরি পাপা, তোমার কথা মতো চলতে না পারার জন্য। আল্লাহ মাফ করলে তোমার সব কথা শুনব।’

করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. ইমরুল ইসলাম।

তার এমন ফেসবুক স্ট্যাটাসে অনেকেই তাকে সাহস ও সমবেদনা জানাচ্ছেন। বর্তমানে ওই হাসপাতালে আইসিইউর বেড নম্বর-৭ রয়েছেন ইমরুল। আইসিইউতে স্থানান্তর হওয়ার আগে ওই স্ট্যটাস দেন তিনি।

হাসপাতালে শুয়েই আরও একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন- ‘ক্ষমা চাই মহান আল্লাহর কাছে। ক্ষমা চাই জন্মলগ্ন থেকে পরিচিত সবার কাছে। আমার অনুপস্থিতিতে আমার দুই সন্তান কারও কাছে আমার পরিচয়ে দিয়ে গেলে তাড়িয়ে দেবেন না, দয়া করে। আল্লাহ মহান। আমার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। আইসিইউ বেড নম্বর-৭, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল।’

তার স্ট্যাটাস দেখে নুরুজ্জামান ফারুন নামে একজন লিখেন- ‘আমার ব্যাচমেট ইমরুল। এক সঙ্গে ট্রেনিং করেছি। ও খুব রশিক একটা মানুষ। ওকে দেখলে কেন যেন আমাদের খুব হাসি পেত। রাতের ক্লাসগুলো ওর গল্পে সময়টা কিভাবে পার হতো বুঝতে পারতাম না। ও খুব বাস্তববাদী ও সংগ্রামী একটা মানুষ। সব সময় খাঁটি বরিশালের ভাষায় কথা বলত। রাস্তায় মানুষকে ঘরে রাখতে লড়াই করতে গিয়ে নিজেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। সবার ভালোবাসা ও সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।’

সাদ্দাম হোসেন তুহিন নামে একজন লিখেন- ‘তোর আবেগপূর্ণ স্ট্যাটাসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।’

শরিফুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন- ‘সার্জেন্ট হিসেবে আপনি গুলিস্তান এরিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময় ফোন করলেও কখনো বিরক্ত হতেন না।’

ইমরুলের ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায়- পড়াশোনা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। জগন্নাথে পড়াশোনা করার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।

রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক ডিআইজি হাসানুল হায়দার বলেন, আইসিইউতে পুলিশের যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা ক্রিটিকাল। অন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল। ইমরুলের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি

আমার দুই সন্তানকে কেউ তাড়িয়ে দেবেন না, সার্জেন্ট বাবার আকুতি

আপডেট সময় ০৫:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘পাপা তুমি বাইরে যেওনা। বাইরে করোনাভাইরাস। তুমি বাইরে গেলে করোনাভাইরাস হলে আমি কিছু জানি না। এভাবেই বলত আমার তিন বছর চার মাসের ছেলে রাফসান। এখন ওকে কী জানাব। শুধু বলব স্যরি পাপা, তোমার কথা মতো চলতে না পারার জন্য। আল্লাহ মাফ করলে তোমার সব কথা শুনব।’

করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. ইমরুল ইসলাম।

তার এমন ফেসবুক স্ট্যাটাসে অনেকেই তাকে সাহস ও সমবেদনা জানাচ্ছেন। বর্তমানে ওই হাসপাতালে আইসিইউর বেড নম্বর-৭ রয়েছেন ইমরুল। আইসিইউতে স্থানান্তর হওয়ার আগে ওই স্ট্যটাস দেন তিনি।

হাসপাতালে শুয়েই আরও একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন- ‘ক্ষমা চাই মহান আল্লাহর কাছে। ক্ষমা চাই জন্মলগ্ন থেকে পরিচিত সবার কাছে। আমার অনুপস্থিতিতে আমার দুই সন্তান কারও কাছে আমার পরিচয়ে দিয়ে গেলে তাড়িয়ে দেবেন না, দয়া করে। আল্লাহ মহান। আমার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। আইসিইউ বেড নম্বর-৭, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল।’

তার স্ট্যাটাস দেখে নুরুজ্জামান ফারুন নামে একজন লিখেন- ‘আমার ব্যাচমেট ইমরুল। এক সঙ্গে ট্রেনিং করেছি। ও খুব রশিক একটা মানুষ। ওকে দেখলে কেন যেন আমাদের খুব হাসি পেত। রাতের ক্লাসগুলো ওর গল্পে সময়টা কিভাবে পার হতো বুঝতে পারতাম না। ও খুব বাস্তববাদী ও সংগ্রামী একটা মানুষ। সব সময় খাঁটি বরিশালের ভাষায় কথা বলত। রাস্তায় মানুষকে ঘরে রাখতে লড়াই করতে গিয়ে নিজেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। সবার ভালোবাসা ও সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।’

সাদ্দাম হোসেন তুহিন নামে একজন লিখেন- ‘তোর আবেগপূর্ণ স্ট্যাটাসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।’

শরিফুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন- ‘সার্জেন্ট হিসেবে আপনি গুলিস্তান এরিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময় ফোন করলেও কখনো বিরক্ত হতেন না।’

ইমরুলের ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায়- পড়াশোনা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। জগন্নাথে পড়াশোনা করার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।

রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক ডিআইজি হাসানুল হায়দার বলেন, আইসিইউতে পুলিশের যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা ক্রিটিকাল। অন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল। ইমরুলের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।