ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে বিএনপি: হাসনাত আবদুল্লাহ দাবানলে ঝুঁকিতে ফ্রান্সের মিসাইল-রকেট মোটর কারখানা, স্পেনও সংকটে ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প প্রাইম মিনিস্টার্স কাপ শুরু আগামী মাসে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু-সহিষ্ণুতা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে: শামা ওবায়েদ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে উন্নয়নের গতি বাড়বে: পরিবেশমন্ত্রী শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও ১০–১৫ দিন: জ্বালানিমন্ত্রী

ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের দিকে মুখ করে থাকা চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে পঞ্চম প্রজন্মের ‘মাইটি ড্রাগন’ বা জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ও তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে বেইজিং। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সংস্থা ভ্যান্টরের সাম্প্রতিক উচ্চমানের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত জুন মাসের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের কাছাকাছি দুটি চীনা বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লাদাখ থেকে শুরু করে অরুণাচল সীমান্ত পর্যন্ত ভারতবিরোধী কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স বা পিএলএএএফ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ৯ জুলাইয়ের স্যাটেলাইট চিত্রে জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোটান বিমানঘাঁটির টারমাকে সারিবদ্ধভাবে সাতটি জে-২০ স্টেলথ ফাইটার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যৌথভাবে বেসামরিক ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত এই বিমানঘাঁটিটি উত্তর লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং লেহ শহর থেকে ৩৮৯ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইমেজে এখন পর্যন্ত একটি চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখতে পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। একই সঙ্গে প্রকাশিত অন্য একটি চিত্রে তিব্বতের লহাসা প্রিফেকচারের অংশ দামক্সুং বিমানঘাঁটির রানওয়েতে ক্যানোপি বা সুরক্ষামূলক কভারে ঢাকা আরও চারটি জে-২০ বিমান মোতায়েন অবস্থায় দেখা গেছে। দামক্সুং ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ফাইটার পাইলট সমীর জোশী এই সামরিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, হোটানে সাতটি এবং দামক্সুংয়ে চারটি জে-২০ বিমানের উপস্থিতি প্রমাণ করে ভারতের মুখোমুখি উচ্চভূমির ঘাঁটিগুলো থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের সামরিক পরিচালনা বা অপারেশন এখন চীনা বিমানবাহিনীর জন্য কোনো সাময়িক প্রদর্শন নয়, বরং রুটিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য এখন উত্তর সীমান্তে যেকোনো কম দৃশ্যমান হুমকির বিষয়টি একটি মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভারতের কাউন্টার-স্টেলথ সেন্সর, সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার স্ট্রাইক সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করার জরুরি প্রয়োজনকে ফুটিয়ে তুলছে।

জে-২০ যুদ্ধবিমানের এই মোতায়েন ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর উন্নত স্টেলথ ডিজাইন বা রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা শত্রুর আকাশসীমা সহজেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সাহায্য করে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র রাডার সিগনেচারের কারণে এই যুদ্ধবিমানটি ভারতের বিমানবাহিনীতে থাকা বর্তমান প্রজন্মের ফ্রন্টলাইন ফাইটার জেটগুলোর চেয়ে বহুগুণে এগিয়ে রয়েছে। ভারতের হাতে থাকা ফরাসি প্রযুক্তির দাসো রাফাল অত্যন্ত আধুনিক হলেও তা কোনো স্টেলথ প্ল্যাটফর্ম নয়। বর্তমানে ভারতের নিজস্ব কোনো স্টেলথ যুদ্ধবিমান নেই। ভারত তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির প্রথম স্টেলথ ফাইটার ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ বা এএমসিএ তৈরির উদ্যোগ নিলেও এটি বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লাগবে, যা এর বিস্তৃত ফ্লাইট-টেস্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রধান প্রযুক্তিগুলোর সফল মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করছে।

প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের জে-২০ বিমান তৈরির ক্ষমতা অবিশ্বাস্য গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে চীনের কাছে মাত্র ৫০টি জে-২০ বিমান ছিল, ২০২২ সালের শেষের দিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০০টিতে। পরবর্তীতে এর উৎপাদন দ্বিগুণ গতি পায়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চীনের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়ায় প্রায় ১২০টি বিমানে, যার ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির এক ডজনেরও বেশি সামরিক ইউনিটে এই বিমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে ৫০০টিতে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন প্রায় ১,০০০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে সক্ষম হবে।

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন বিমানবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি চীনের এই উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে বলেন, প্রতি বছর ১২৫টি যুদ্ধবিমান তৈরি করার ক্ষমতা তাদের উন্নত উৎপাদনব্যবস্থার বিশালতার প্রমাণ দেয়। তারা প্রায় বাণিজ্যিক বিমানের মতো গণহারে এগুলো তৈরি করছে, যা কেবল তখনই সম্ভব যখন সরবরাহব্যবস্থা সম্পূর্ণ সমন্বিত থাকে, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয় এবং দক্ষ মানবসম্পদ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। তিনি আরও জানান, চীন একটি জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করে একটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত দলকে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তারা বিমান শক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং একটি মিশন মোড হিসেবে কাজ শুরু করে।

বিগত এক দশকে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে জে-২০ বিমানের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। ২০১৬ সালে তিব্বতের ডাওচেং ইয়াডিং উচ্চতম বিমানবন্দরে প্রথম জে-২০ ফাইটারের ছবি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মে মাসে সিকিম সীমান্ত থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত শিগেতসে বিমানঘাঁটিতে এই ড্রাগন জেটের অবতরণের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

বিপরীতপক্ষে, ভারতের বিমানবাহিনী বর্তমানে তাদের আম্বালা ও হাশিমারা ঘাঁটিতে দুটি স্কোয়াড্রনে বিভক্ত হয়ে মাত্র ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ২৬টি রাফাল কেনার অর্ডার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য ৩৬ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল জেটের জন্য দাসোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া ভারতীয় বিমানবাহিনী ২৬০টিরও বেশি রুশ প্রযুক্তির সুখোই-৩০ এমকেআই পরিচালনা করছে, যেগুলোর বড় ধরনের আধুনিকীকরণ এখনো বাকি, এর পাশাপাশি রয়েছে পুরোনো মিরাজ ২০০০ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান।

স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়া এই নতুন সামরিক পরিস্থিতি এবং সুরক্ষার বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি

আপডেট সময় ০৭:৪০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের দিকে মুখ করে থাকা চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে পঞ্চম প্রজন্মের ‘মাইটি ড্রাগন’ বা জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ও তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে বেইজিং। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সংস্থা ভ্যান্টরের সাম্প্রতিক উচ্চমানের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত জুন মাসের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের কাছাকাছি দুটি চীনা বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লাদাখ থেকে শুরু করে অরুণাচল সীমান্ত পর্যন্ত ভারতবিরোধী কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স বা পিএলএএএফ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ৯ জুলাইয়ের স্যাটেলাইট চিত্রে জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোটান বিমানঘাঁটির টারমাকে সারিবদ্ধভাবে সাতটি জে-২০ স্টেলথ ফাইটার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যৌথভাবে বেসামরিক ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত এই বিমানঘাঁটিটি উত্তর লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং লেহ শহর থেকে ৩৮৯ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইমেজে এখন পর্যন্ত একটি চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখতে পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। একই সঙ্গে প্রকাশিত অন্য একটি চিত্রে তিব্বতের লহাসা প্রিফেকচারের অংশ দামক্সুং বিমানঘাঁটির রানওয়েতে ক্যানোপি বা সুরক্ষামূলক কভারে ঢাকা আরও চারটি জে-২০ বিমান মোতায়েন অবস্থায় দেখা গেছে। দামক্সুং ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ফাইটার পাইলট সমীর জোশী এই সামরিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, হোটানে সাতটি এবং দামক্সুংয়ে চারটি জে-২০ বিমানের উপস্থিতি প্রমাণ করে ভারতের মুখোমুখি উচ্চভূমির ঘাঁটিগুলো থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের সামরিক পরিচালনা বা অপারেশন এখন চীনা বিমানবাহিনীর জন্য কোনো সাময়িক প্রদর্শন নয়, বরং রুটিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য এখন উত্তর সীমান্তে যেকোনো কম দৃশ্যমান হুমকির বিষয়টি একটি মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভারতের কাউন্টার-স্টেলথ সেন্সর, সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার স্ট্রাইক সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করার জরুরি প্রয়োজনকে ফুটিয়ে তুলছে।

জে-২০ যুদ্ধবিমানের এই মোতায়েন ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর উন্নত স্টেলথ ডিজাইন বা রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা শত্রুর আকাশসীমা সহজেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সাহায্য করে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র রাডার সিগনেচারের কারণে এই যুদ্ধবিমানটি ভারতের বিমানবাহিনীতে থাকা বর্তমান প্রজন্মের ফ্রন্টলাইন ফাইটার জেটগুলোর চেয়ে বহুগুণে এগিয়ে রয়েছে। ভারতের হাতে থাকা ফরাসি প্রযুক্তির দাসো রাফাল অত্যন্ত আধুনিক হলেও তা কোনো স্টেলথ প্ল্যাটফর্ম নয়। বর্তমানে ভারতের নিজস্ব কোনো স্টেলথ যুদ্ধবিমান নেই। ভারত তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির প্রথম স্টেলথ ফাইটার ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ বা এএমসিএ তৈরির উদ্যোগ নিলেও এটি বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লাগবে, যা এর বিস্তৃত ফ্লাইট-টেস্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রধান প্রযুক্তিগুলোর সফল মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করছে।

প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের জে-২০ বিমান তৈরির ক্ষমতা অবিশ্বাস্য গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে চীনের কাছে মাত্র ৫০টি জে-২০ বিমান ছিল, ২০২২ সালের শেষের দিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০০টিতে। পরবর্তীতে এর উৎপাদন দ্বিগুণ গতি পায়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চীনের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়ায় প্রায় ১২০টি বিমানে, যার ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির এক ডজনেরও বেশি সামরিক ইউনিটে এই বিমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে ৫০০টিতে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন প্রায় ১,০০০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে সক্ষম হবে।

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন বিমানবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি চীনের এই উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে বলেন, প্রতি বছর ১২৫টি যুদ্ধবিমান তৈরি করার ক্ষমতা তাদের উন্নত উৎপাদনব্যবস্থার বিশালতার প্রমাণ দেয়। তারা প্রায় বাণিজ্যিক বিমানের মতো গণহারে এগুলো তৈরি করছে, যা কেবল তখনই সম্ভব যখন সরবরাহব্যবস্থা সম্পূর্ণ সমন্বিত থাকে, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয় এবং দক্ষ মানবসম্পদ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। তিনি আরও জানান, চীন একটি জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করে একটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত দলকে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তারা বিমান শক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং একটি মিশন মোড হিসেবে কাজ শুরু করে।

বিগত এক দশকে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে জে-২০ বিমানের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। ২০১৬ সালে তিব্বতের ডাওচেং ইয়াডিং উচ্চতম বিমানবন্দরে প্রথম জে-২০ ফাইটারের ছবি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মে মাসে সিকিম সীমান্ত থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত শিগেতসে বিমানঘাঁটিতে এই ড্রাগন জেটের অবতরণের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

বিপরীতপক্ষে, ভারতের বিমানবাহিনী বর্তমানে তাদের আম্বালা ও হাশিমারা ঘাঁটিতে দুটি স্কোয়াড্রনে বিভক্ত হয়ে মাত্র ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ২৬টি রাফাল কেনার অর্ডার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য ৩৬ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল জেটের জন্য দাসোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া ভারতীয় বিমানবাহিনী ২৬০টিরও বেশি রুশ প্রযুক্তির সুখোই-৩০ এমকেআই পরিচালনা করছে, যেগুলোর বড় ধরনের আধুনিকীকরণ এখনো বাকি, এর পাশাপাশি রয়েছে পুরোনো মিরাজ ২০০০ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান।

স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়া এই নতুন সামরিক পরিস্থিতি এবং সুরক্ষার বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।