ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জননেতারা নেই জনতার পাশে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেককে জননেতা বলা হয়। তারা জনগণের জন্য প্রায়ই ক্রন্দন করেন। রাজপথে বক্তৃতা দিয়ে জনগণের কথা তুলে ধরেন। গোলটেবিল বৈঠক-প্রেস কনফারেন্সে তারা জনগণের জন্য রীতিমতো কান্নাকাটি করেন। কথায় কথায় সংবিধানের কথা বলেন। জনগণের অধিকার হরণ করা হচ্ছে, এরকম কথা বলা বাকচাতুর রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশে বেশ পরিচিত। কেউ কেউ জনপ্রিয়ও বটে। যদিও নির্বাচনে তারা নিজেদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হতে পারেন না।

অনেকটা পরগাছার মতো অন্যের কাঁধে চড়ে তাদেরকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হয়। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে এই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নানা কারণেই গুরুত্ব দেয় প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল। এই দলগুলোর ‘নুইসেন্স ভ্যালু’ অত্যন্ত তীব্র। এই দলগুলো যদি না থাকে তাহলে তীব্র সমালোচনায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এমনভাবে আক্রমণ করবে যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কোন কূলকিনারা খুঁজে পাবে না।

আর জনসমর্থন না থাকলেও এই সমস্ত দলের নেতারা নিজেদের জননেতা বলেই পরিচয় দেন। বাংলাদেশে করোনা সঙ্কটের সময়েও এই ধরণের রাজনৈতিক নেতারা যেন কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন, তাদের কোন খোঁজ নেই। জনতার পাশে তারা নেই। এক ছটাক চাল বা গম বা যেকোন ধরণের ত্রাণ নিয়ে তারা জনতার পাশে যাননি। দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াননি। অথচ এরাই আবার বড় বড় গলায় সমালোচনা করছেন সরকারের। আসুন আমরা জনসম্পর্কহীন জননেতাদের একটু চিনে নেই:-

ড. কামাল হোসেন

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে ড. কামাল হোসেনের টিকিটিও কেউ খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি ঘর থেকে বের হচ্ছেন না এবং তার কোন বক্তব্য-বিবৃতিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তিনি বা তার দল কোথাও এক ছটাক চাল বিতরণ করেছে, এমন খবর এখন পর্যন্ত আমরা খুঁজে পাইনি।

আ স ম আব্দুর রব

আ স ম আব্দুর রব সবসময় সরব থাকেন, জনগণের কথা বলেন। যদিও তার নিজের দলে জনগণ নেই। করোনা মোকাবেলার সময় আরেক দফায় প্রমাণিত হলো যে তিনি কয়েকদফা শুধু চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন। কিন্তু ত্রাণ নিয়ে তিনি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কাউকে কিছু সাহায্য দিয়েছেন-এমন নজির আমরা দেখিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না

মাহমুদুর রহমান মান্না আরেকজন জননেতা, যার কোন দল নেই, জনগণ নেই, জনসমর্থন নেই। কিন্তু অন্যের মাইক্রোফোন পেলে তিনি কথার ফুলঝুরি ছোঁটাতে পারেন চমৎকার। তার জনসমর্থন থাকুক বা না থাকুক, তিনি সবসময় আলোচনায় থাকেন। কারণ তিনি একজন বাকপটু বটে। এই করোনার সময়েও তিনি কিছু সমালোচনা করেছেন সরকারের। কিন্তু তারপরে তিনি কোয়ারেন্টাইনে। এখন তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। এই সময়ের মাঝে তার যেমন কোন বক্তব্য আমরা পাইনি, তেমনি তিনি জনগণের জন্য ত্রাণ নিয়ে কোথাও গেছেন, বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকা বগুড়ায় ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছেন- এরকম কোন ঘটনা বা নজির আমরা দেখিনি।

রাশেদ খান মেনন

এতক্ষণ তো গেল বিরোধী দলগুলোর হিসেব। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোট নিয়ে রাজনীতি করছে। ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন। তিনি গত মেয়াদে মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিত্ব চলে যাবার পর একটু বেহুঁশ ছিলেন। তিনি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা বলে আবার থুক্কু বলে প্রত্যাহারও করেছেন। কিন্তু রাজনীতিতে তার সুবিধাবাদী চেহারা দিবালোকের মতো উন্মোচিত করে দিয়েছেন তিনি নিজেই। রাশেদ খান মেনন একজন জননেতা এবং তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে তিনি ঢাকায় এখন নির্বাচন করছেন। তবে নির্বাচন করলে কী হবে? জনগণকে নিয়ে তার কোনো ভাবনা নেই। করোনাকালে তিনি কোনোপ্রকার ত্রাণ সাহায্য করায় নেই বললেই চলে।

হাসানুল হক ইনু

১৪ দলের আরেক নেতা হাসানুল হক ইনু। তিনিও কথাবার্তায় কম যান না। গত মেয়াদে তিনি তথ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রায় জাতির বিবেকে পরিণত হয়েছিলেন। অথচ এই করোনা সঙ্কটের সময় তার অনুপস্থিতি চোখে পড়ছে। তিনি না কথা বলছেন, না তাকে দেখা যাচ্ছে ত্রাণ বিতরণে।

এ রকম জননেতারা যারা জনগণের পাশে নেই- তারা শুধুমাত্র নির্বাচন করবেন, মন্ত্রী-এমপি হবেন। জনগণের নাম ভাঙিয়ে জনগণকে নিয়ে কথা বলবেন, কিন্তু দূর্যোগে জনগণের পাশে থাকবেন না। এরকম নেতারা কি দেশের জন্য আসলেই কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বন্দুক হামলার কবলে বলিউড তারকারা: নিরাপত্তার সংকটে রুপালি জগত

জননেতারা নেই জনতার পাশে

আপডেট সময় ০৮:০১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেককে জননেতা বলা হয়। তারা জনগণের জন্য প্রায়ই ক্রন্দন করেন। রাজপথে বক্তৃতা দিয়ে জনগণের কথা তুলে ধরেন। গোলটেবিল বৈঠক-প্রেস কনফারেন্সে তারা জনগণের জন্য রীতিমতো কান্নাকাটি করেন। কথায় কথায় সংবিধানের কথা বলেন। জনগণের অধিকার হরণ করা হচ্ছে, এরকম কথা বলা বাকচাতুর রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশে বেশ পরিচিত। কেউ কেউ জনপ্রিয়ও বটে। যদিও নির্বাচনে তারা নিজেদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হতে পারেন না।

অনেকটা পরগাছার মতো অন্যের কাঁধে চড়ে তাদেরকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হয়। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে এই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নানা কারণেই গুরুত্ব দেয় প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল। এই দলগুলোর ‘নুইসেন্স ভ্যালু’ অত্যন্ত তীব্র। এই দলগুলো যদি না থাকে তাহলে তীব্র সমালোচনায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এমনভাবে আক্রমণ করবে যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কোন কূলকিনারা খুঁজে পাবে না।

আর জনসমর্থন না থাকলেও এই সমস্ত দলের নেতারা নিজেদের জননেতা বলেই পরিচয় দেন। বাংলাদেশে করোনা সঙ্কটের সময়েও এই ধরণের রাজনৈতিক নেতারা যেন কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন, তাদের কোন খোঁজ নেই। জনতার পাশে তারা নেই। এক ছটাক চাল বা গম বা যেকোন ধরণের ত্রাণ নিয়ে তারা জনতার পাশে যাননি। দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াননি। অথচ এরাই আবার বড় বড় গলায় সমালোচনা করছেন সরকারের। আসুন আমরা জনসম্পর্কহীন জননেতাদের একটু চিনে নেই:-

ড. কামাল হোসেন

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে ড. কামাল হোসেনের টিকিটিও কেউ খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি ঘর থেকে বের হচ্ছেন না এবং তার কোন বক্তব্য-বিবৃতিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তিনি বা তার দল কোথাও এক ছটাক চাল বিতরণ করেছে, এমন খবর এখন পর্যন্ত আমরা খুঁজে পাইনি।

আ স ম আব্দুর রব

আ স ম আব্দুর রব সবসময় সরব থাকেন, জনগণের কথা বলেন। যদিও তার নিজের দলে জনগণ নেই। করোনা মোকাবেলার সময় আরেক দফায় প্রমাণিত হলো যে তিনি কয়েকদফা শুধু চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন। কিন্তু ত্রাণ নিয়ে তিনি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কাউকে কিছু সাহায্য দিয়েছেন-এমন নজির আমরা দেখিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না

মাহমুদুর রহমান মান্না আরেকজন জননেতা, যার কোন দল নেই, জনগণ নেই, জনসমর্থন নেই। কিন্তু অন্যের মাইক্রোফোন পেলে তিনি কথার ফুলঝুরি ছোঁটাতে পারেন চমৎকার। তার জনসমর্থন থাকুক বা না থাকুক, তিনি সবসময় আলোচনায় থাকেন। কারণ তিনি একজন বাকপটু বটে। এই করোনার সময়েও তিনি কিছু সমালোচনা করেছেন সরকারের। কিন্তু তারপরে তিনি কোয়ারেন্টাইনে। এখন তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। এই সময়ের মাঝে তার যেমন কোন বক্তব্য আমরা পাইনি, তেমনি তিনি জনগণের জন্য ত্রাণ নিয়ে কোথাও গেছেন, বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকা বগুড়ায় ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছেন- এরকম কোন ঘটনা বা নজির আমরা দেখিনি।

রাশেদ খান মেনন

এতক্ষণ তো গেল বিরোধী দলগুলোর হিসেব। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোট নিয়ে রাজনীতি করছে। ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন। তিনি গত মেয়াদে মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিত্ব চলে যাবার পর একটু বেহুঁশ ছিলেন। তিনি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা বলে আবার থুক্কু বলে প্রত্যাহারও করেছেন। কিন্তু রাজনীতিতে তার সুবিধাবাদী চেহারা দিবালোকের মতো উন্মোচিত করে দিয়েছেন তিনি নিজেই। রাশেদ খান মেনন একজন জননেতা এবং তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে তিনি ঢাকায় এখন নির্বাচন করছেন। তবে নির্বাচন করলে কী হবে? জনগণকে নিয়ে তার কোনো ভাবনা নেই। করোনাকালে তিনি কোনোপ্রকার ত্রাণ সাহায্য করায় নেই বললেই চলে।

হাসানুল হক ইনু

১৪ দলের আরেক নেতা হাসানুল হক ইনু। তিনিও কথাবার্তায় কম যান না। গত মেয়াদে তিনি তথ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রায় জাতির বিবেকে পরিণত হয়েছিলেন। অথচ এই করোনা সঙ্কটের সময় তার অনুপস্থিতি চোখে পড়ছে। তিনি না কথা বলছেন, না তাকে দেখা যাচ্ছে ত্রাণ বিতরণে।

এ রকম জননেতারা যারা জনগণের পাশে নেই- তারা শুধুমাত্র নির্বাচন করবেন, মন্ত্রী-এমপি হবেন। জনগণের নাম ভাঙিয়ে জনগণকে নিয়ে কথা বলবেন, কিন্তু দূর্যোগে জনগণের পাশে থাকবেন না। এরকম নেতারা কি দেশের জন্য আসলেই কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে?